images

রাজনীতি

ভোটের মাঠে কুপোকাত যেসব দলীয় প্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে বিএনপি জোট ও জামায়াতের জোটের প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে নির্বাচিত হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে মোট ৫১ টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। এসব রাজনৈতিক দলের ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এসব রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধানদের মধ্যে অনেকের ভরাডুবি হয়ে অনেকে হারিয়েছেন তাদের আসন। অনেক দলীয় প্রধান ভোটের মাঠে টিকে থাকতে পারেননি। আবার অনেক দলীয় প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন। তারা আগামী সংসদে নেতৃত্ব দেবেন।

‎আলোচিত দলীয় প্রধানরা নির্বাচনে হেরেছেন
‎ঢাকা-১৩ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি এ আসনে জামায়াত জোট মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রিকশা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন। তার বিপরীতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ লড়েছেন। 

‎এ আসনে দিনভর নানা উত্তেজনায় ভোট গ্রহণ শেষে ভোট গণনা শুরু হয়। ভোট গণনার পর থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রের পাওয়া ভোটের ফলাফল নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একের পর এক কেন্দ্রে কখনো মামুনুল হক কখনো ববি হাজ্জাজ ফলাফলে এগিয়ে যায়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নানা উত্তেজনা শেষে ববি হাজ্জাজ কে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

‎বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের এ আসনটিতে ১৩৮টি কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, রিকশা প্রতীক নিয়ে মাওলানা মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮৮৯ ভোট। অন্যদিকে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ববি হাজ্জাজ পেয়েছেন ৯০ হাজার ৬০১ ভোট। তিন হাজারের কিছু বেশি ভোটের ব্যবধানে রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক পরাজিত হন।

‎জাতীয় পার্টি
‎জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী ভোটের লড়াইয়ে টিকতে পারেননি। বিপুল ভোটের ব্যবধানে তারা হেরেছেন। তাদের নির্ধারিত আসনে তৃতীয় হয়েছেন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের রংপুর-৩ (সিটি কর্পোরেশন ও সদর) আসনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন। তবে, আসনটিতে তিনি জামায়াতের প্রার্থীর কাছে পাত্তাই পাননি।

রংপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাহবুবার রহমান বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এক লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি শামসুজ্জামান সামু ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে জিএম কাদের ৪৩ হাজার ৩৮৬ ভোট পেয়ে তিনি তৃতীয় হয়েছেন।

‎জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর অবস্থা একই রকম। গাইবান্ধা-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর কাছে তিনি পাত্তা পাননি। বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনি কুপোকাত হয়ে ভোটের দিক থেকে একেবারে তৃতীয় নম্বরে চলে গেছেন। গাইবান্ধা-১ আসনে জামায়াতের মো. মাজেদুর রহমান ১ লাখ ৪০ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৯৯৭। এখানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব পাটোয়ারী পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৭৬ ভোট।

‎ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (সদর) ও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) এ দুইটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটি আসনেই পরাজিত হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম। তিনি এ নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন। 

‎বরিশাল সদর-৫ আসনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১৭৬টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ফয়জুল করিম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ৯৩ হাজার ২১৬ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। পাশাপাশি, বরিশাল ৬ বাকেরগঞ্জ সংসদীয় আসনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ৮১ হাজার ৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাহামুদুন্নবী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৫৩৩ ভোট। তবে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি ফজলুল করিম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট নিয়ে তৃতীয় হন।

‎ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব আলোচিত দল ছাড়া অন্যান্য ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধানরা এবারের নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাদের মধ্যে অনেকে নির্বাচিত হতে পারেননি। নির্বাচনের মাঠে হারিয়েছেন তাদের আসন। 

‎একেএস/এমআই