images

রাজনীতি

ঢাকায় কার ভাগে যাচ্ছে কত আসন?

সাখাওয়াত হোসাইন

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ব্যতিক্রম নয় রাজধানী ঢাকাও। তবে দেশের প্রাণকেন্দ্রে নেই চিরাচরিত সেই দৃশ্য। অনেকটা ঈদের ছুটির মতো শুনশান নীরবতা। বর্তমানে ঢাকায় যারা অবস্থান করছেন তাদের বেশির ভাগই এখানকার ভোটার।

ঢাকা জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ২০টি সংসদীয় আসন রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি আসন ঢাকা মহানগরীর মধ্যে আর পাঁচটি আসন ঢাকা জেলায়। ঢাকার প্রতিটি আসনই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সাধারণত যে দল ক্ষমতায় যায় সে দলের দখলেই থাকে রাজধানীর বেশির ভাগ আসন। অতীতে সেটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যতম প্রধান দল আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবার ভোটের সমীকরণ আবর্তিত হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত জোটকে ঘিরে। বিএনপি অতীতের নির্বাচনে বেশ কয়েক বার ঢাকায় তাদের আধিপত্য দেখিয়েছে। এবারও দলটি আশা করছে, সিংহভাগ আসনই তাদের দখলে থাকবে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী কখনো রাজধানীর কোনো আসনে জয়ের মুখ দেখেনি। এবারই প্রথমবারের মতো দলটি কয়েকটি আসনে জয়ের ব্যাপারে আশা করছে।

নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জরিপ প্রকাশিত হয়েছে। এসব জরিপেও বেশির ভাগ আসনে বিএনপি জয় পাবে বলে দেখানো হয়েছে। তবে জামায়াত জোট এবং বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীর দখলেও যেতে পারে বেশ কয়েকটি আসন।

ঢাকায় প্রার্থী হয়েছেন দেশের আলোচিত তিনটির দলের প্রধান। তারা হলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তিনি লড়ছেন ঢাকা-১৭ থেকে। এছাড়াও তিনি বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান লড়ছেন ঢাকা-১৫ আসন থেকে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম লড়ছেন ঢাকা-১১ আসন থেকে। পাশাপাশি একই জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক প্রার্থী হয়েছেন ঢাকা-১৩ আসনে।

ঢাকার ২০টি আসনে ১৩৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শীর্ষ নেতারা লড়ছেন। ঢাকায় বিএনপি তার যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের দুটি আসন ছেড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত তাদের জোট শরিকদের সাতটি আসন ছেড়েছে।

ঢাকায় দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র হেভিওয়েট প্রার্থীও রয়েছেন। ঢাকা-৯ আসনে ফুটবল মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনীম জারা। তিনি বেশ আলোচিত হচ্ছেন। ঢাকা-১২, ঢাকা-১৪ ও ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তাদের মধ্যে একাধিক প্রার্থী জয় পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

ঢাকার ভোটারদের ভাবনা

বর্তমানে ঢাকা কার্যত ফাঁকা। এখন যারা রাজধানীতে অবস্থান করছেন তাদের বেশির ভাগই ঢাকার ভোটার। ঢাকা-১০ আসনের নিউমার্কেট এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রাহিদুল হাসান। জানতে চাইলে তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমি এই এলাকার ভোটার। স্থানীয়ভাবে নীরব ভোটার অনেক। যারা ৫ আগস্টের পর থেকে অনিয়ম কম করেছে এবং মানুষের সঙ্গে ধোঁকাবাজি ও প্রতারণা করেনি; তাদেরকেই ভোট দেব।’

এই ভোটার বলেন, ‘আমি চাই দেশ ভালো থাকুক। এই দেশে কোনো সন্ত্রাসী ও মাফিয়ার জায়গা রাজনীতি না হোক। পরিবর্তন চাই।’

৫০ বছর ধরে গুলশানে বসবাস করছেন সাইদুর রহমান। পেশাগতভাবে তিনি ব্যবসায়ী এবং এখনকার স্থানীয় ভোটার। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভোট আসায় আমি খুবই আনন্দিত। পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভোট দিতে যাবো। ভোট উৎসবের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে চাই।’

এই ভোটার বলেন, ‘ভোটের সত্যিকার আনন্দটা মনে ফিরে পাচ্ছি। সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দিতে চাই। আগের মতো আর নির্বাচন দেখতে চাই না। নির্বাচনে নাগরিকরা স্বাধীনভাবে ভোট দেবেন এবং যাকে খুশি তাকে দেবেন। দেশে উন্নয়ন আর সমৃদ্ধি হোক এবং এগিয়ে যাক বাংলাদেশ। যারা সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি রুখে দিতে পারবে মনে হয়, তাদেরকেই আমরা ভোট দেব। আমাদের ভোট ন্যায় ও শান্তির পক্ষে যাবে।’

Vote3

পুরান ঢাকার আরেক ভোটার ও ব্যবসাসী শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে পারবে বলে মনে হয় এমন প্রার্থীকে ভোট দেব। সেইসঙ্গে প্রার্থীর সততা ও ন্যায়পরায়নতাসহ তার লোকদের কর্মকাণ্ড দেখে ভোট দেব। আমরা আর ভুক্তভোগী হতে চাই না। ভোট আমানত, যিনি আমানত রক্ষা করবেন এবং আমাদের জন্য কাজ করবেন, তাকে চাই।’

যাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা

ঢাকা-১ আসনটি ঢাকা সিটি থেকে বেশ খানিকটা দূরে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপির খন্দকার আবু আশফাক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য প্রয়াত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মেয়ে অন্তরা সেলিমা হুদা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির শেখ মো. আলী, জাতীয় পার্টির নাসির উদ্দিন মোল্লা।

এখানে মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মেয়ে অন্তরা সেলিমা হুদা যেমন বিএনপি প্রার্থীর কিছু ভোট কাটবেন, তেমনি জামায়াতের প্রার্থীর কিছু ভোট চলে যাবে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর বাক্সে। ফলে এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকা-২ আসনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন (তারানগর, কলাতিয়া, হযরতপুর, রুহিতপুর, শাক্তা, কালিন্দী, ও বাস্তা) এবং সাভার উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন (আমিনবাজার ইউনিয়ন, তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন ও ভাকুর্তা ইউনিয়ন) নিয়ে গঠিত। এই আসনে চূড়ান্তভাবে মাঠে আছেন তিন প্রার্থী। তারা হলেন- ঢাবির সাবেক ভিপি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, জামায়াতে ইসলামীর কর্নেল (অব.) আবদুল হক ও ইসলামী আন্দোলনের জহিরুল ইসলাম। আসনটিতে আমান উল্লাহ আমানের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি।

ঢাকা-৩ ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা, আগানগর, তেঘরিয়া, কোন্ডা ও শুভাঢ্যা এই পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন মোট ১০ জন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মূলত জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে।

বিএনপির প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহীনুর ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের মো. সুলতান আহমদ খান, গণঅধিকার পরিষদের মো. সাজ্জাদ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. জাফর, জাতীয় পার্টির মো. ফারুক, গণফোরামের মুহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী, বাসদের মজিবুর হাওলাদার, গণসংহতি আন্দোলনের মো. বাচ্চু ভূইয়া ও স্বতন্ত্র মনির হোসেন। এখানে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

ঢাকা-৪ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৭, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৮, ৫৯, ৬০ ও ৬১ নম্বর ওয়ার্ড এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন শ্যামপুর থানা, কদমতলী থানা নিয়ে গঠিত। এই আসনে চূড়ান্তভাবে প্রার্থী হয়েছেন আটজন। বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে তানভীর আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, জনতার দলের আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের সালেহ আহমেদ সোহেল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ ফিরোজ আলম, বাসদের জাকির হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ। এখানে জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

ঢাকা-৫ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯ ও ৭০ নং ওয়ার্ড (যাত্রাবাড়ী, ডেমরা) নিয়ে গঠিত। এই আসন মোট প্রার্থী হয়েছেন ১১ জন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে। এখানে বিএনপির প্রার্থী নবী উল্লা নবী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কামাল হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের হাজী মো. ইবরাহিম, গণঅধিকার পরিষদের সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির তোফাজ্জেল হোসেন মোস্তফা, মুক্তিজোটের তাইফুর রহমান রাহী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) শাহীনুর আক্তার সুমি, এলডিপির হুমায়ুন কবীর, জাতীয় পার্টির মীর আবদুস সবুর, বাংলাদেশ লেবার পার্টির গোলাম আজম, বাংলাদেশ কংগ্রেসের সাইফুল আলম।

এখানেও জামায়াত-বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে জাতীয় পার্টির মীর আবদুস সবুর তৃতীয় স্থানে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলনের হাজী ইবরাহীমের অবস্থানও বেশ ভালো।

ঢাকা-৬ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৪, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫ ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। যার অন্তর্ভুক্ত থানাগুলো হচ্ছে- সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া, কোতয়ালি আংশিক। এই আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী রয়েছেন সাতজন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে।

বিএনপি থেকে এখানে প্রার্থী হয়েছেন- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান, গণফ্রন্ট থেকে আহমেদ আলী শেখ, গণঅধিকার পরিষদের ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ইউনুস আলী আকন্দ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. আকতার হোসেন, জাতীয় পার্টির আমির উদ্দিন আহমেদ (ডালু)।

ঢাকা-৭ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৫, ৩৬, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। যার অন্তর্ভুক্ত থানাগুলো হচ্ছে- লালবাগ, চকবাজার, বংশাল, কামরাঙ্গীরচর আংশিক, কোতোয়ালির আংশিক। এই আসনে মোট প্রার্থী ১১জন। বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়েছেন- হামিদুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর মো. এনায়েত উল্লাহ, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মোহাম্মদ ইসহাক সরকার, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির শফিকুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবদুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) মো. শহীদুল ইসলাম, মুক্তিজোটের মাকসুদুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) শাহানা সেলিম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) সীমা দত্ত। এই আসনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসহাক সরকার ও জাতীয় পার্টির সাইফুদ্দিন মিলন দৌড়ে থাকবেন।

Vote2

ঢাকা-৮ আসনটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে যেমন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস রয়েছেন। তেমনি এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী জামায়াতের সমর্থন নিয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ০৮, ০৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। যার অন্তর্ভুক্ত থানাগুলো হচ্ছে- মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ, শাহজাহানপুর, রমনা। ঢাকা যেমন বাংলাদেশের রাজধানী। তেমনি মতিঝিলকে ঢাকার রাজধানী বলা হয়। এই আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপির মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মুহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, জনতার দলের গোলাম সরোয়ার, গণঅধিকার পরিষদের মেঘনা আলম, বাংলাদেশ জাসদের এ এফ এম ইসমাইল চৌধুরী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ত্রিদ্বীপ কুমার সাহা, জাতীয় পার্টি (জেপি) মো. জুবের আলম খান, মুক্তিজোট মো. রাসেল কবির, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) এ এইচ এম রাফিকুজ্জামান আকন্দ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট এস. এম. সরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেফায়েত উল্লা।

ঢাকা-৯ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ০১, ০২, ০৩, ০৪, ০৫, ০৬, ০৭, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড তথা সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা ও মান্ডা থানা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট প্রার্থী ১২ জন। এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ, জামায়াত জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া, স্বতন্ত্র  ডা. তাসনিম জারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন।

এখানে আরও প্রার্থী হয়েছেন- বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) মোহাম্মদ শফি উল্লাহ চৌধুরী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) শাহীন খান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) খন্দকার মিজানুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শাহ ইফতেখার আহসান, জাতীয় পার্টি কাজী আবুল খায়ের, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মো. মনিরুজ্জামান, গণফোরাম নাজমা আক্তার, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ নাহিদ হাসান চৌধুরী জুনায়েদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাসুদ হোসেন।

ঢাকা-১০ আসন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ২২ ও ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড তথা ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান, হাজারীবাগ থানা নিয়ে গঠিত। এখানে মূলত বিএনপি ও জামায়াত জোটের প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। বিএনপির প্রার্থী রবিউল আলম রবি, জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) আবু হানিফ হৃদয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মো. আবদুল আউয়াল, জামায়াত জোটের দল বাংলাদেশ লেবার পার্টির আবুল কালাম আজাদ, জামায়াত জোটের দল আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) নাসরীন সুলতানা, জাতীয় পার্টির বহ্নি বেপারী, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) মো. আনিছুর রহমান, আমজনতার দল আব্দুল্লাহ আল হুসাইন ও জনতার দলের মো. জাকির হোসেন।

ঢাকা-১১ আসনটি ঢাকা মেট্রোপলিটনের বাড্ডা থানা, ভাটারা থানা, রামপুরা থানা, হাতিরঝিল থানার একাংশ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এর ২১, ২২ , ২৩, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট প্রার্থী ১০ জন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির এম এ কাইয়ুম ও জামায়াত জোটের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের মধ্যে।

এই আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) কাজী মো. শহীদুল্লাহ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) মো. জাকির হোসেন, বিএনপি জোটের দল গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মো. আরিফুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ, জাতীয় পার্টির শামীম আহমেদ, গণফোরামের মো. আবদুল কাদের ও স্বতন্ত্র কহিনূর আক্তার বীথি। এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ তৃতীয় অবস্থানে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী হয়েছেন ঢাকা-১২ আসনে। এখানে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ত্রিমুখী। বিএনপি জোটের প্রার্থী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলনের মধ্যে। এখানকার অন্য প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কল্লোল বনিক, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মোহাম্মাদ শাহজালাল, বিএনপি জোটের দল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএমের মোমিনুল আমিন, আমজনতার দলের তারেক রহমান, জাতীয় পার্টির সরকার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান, জনতার দলের ফরিদ আহমেদ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোছা. সালমা আক্তার, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) মুনতাসির মাহমুদ, বিএনপি জোটের গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) আবুল বাশার চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের তাসলিমা আখতার, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (কাঁঠাল) মোহাম্মদ নাঈম হাসান।

ঢাকা-১৩ আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড মোহাম্মদপুর এলাকা। এখানে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। তিনি তার দল থেকে পদত্যাগ করে ধানের শীষে লড়বেন। অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামী তাদের জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হককে আসনটি ছেড়ে দিয়েছে। তিনি লড়বেন তার নিজ দলের রিকশা প্রতীকে। এখানে এই দুই প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে।

অন্য যারা রয়েছেন তারা হলেন- গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) মো. শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ’র মো. খালেকুজ্জামান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শাহরিয়ার ইফতেখার, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ফাতেমা আক্তার মুনিয়া, স্বতন্ত্র সোহেল রানা ও শেখ মো. রবিউল ইসলাম।

ঢাকা-১৪ আসনটি ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন, বনগাঁও ইউনিয়ন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ০৭, ০৮, ০৯, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড মিরপুরের আংশিক নিয়ে গঠিত। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি-জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে। বিএনপি থেকে মাঠে আছেন সানজিদা ইসলাম তুলি। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক। অপর দিকে জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রার্থী হয়েছেন মীর আহমাদ বিন কাসেম। তিনি আওয়ামী লীগ আমলে দীর্ঘদিন গুম ছিলেন।

এই আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বি.এস.পি) মো. ওসমান আলী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির রিয়াজ উদ্দিন, জাতীয় পার্টির মো. হেলাল উদ্দীন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) মো. লিটন, গণফোরামের মো. জসিম উদ্দিন, জামায়াত জোটের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির মো. সোহেল রানা, জামায়াত জোটের আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির নুরুল আমিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবু ইউসুফ।

Vote4

ঢাকা-১৫ আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ০৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড মিরপুর-কাফরুল থানা নিয়ে গঠিত। এখানে নির্বাচন করছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নেমেছেন বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম খান। এখানে মোট প্রার্থী আটজন। অন্যরা হলেন- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আহাম্মদ সাজেদুল হক, জাতীয় পার্টির মো. সামসুল হক, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ’র (মোটরগাড়ি) মো. আশফাকুর রহমান, জনতার দলের খান শোয়েব আমান উল্লাহ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বি.এস.পি) মোবারক হোসেন, আমজনতার দলের মো. নিলাভ পারভেজ।

ঢাকা-১৬ আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২, ৩, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড (পল্লবী ও রূপনগর) নিয়ে গঠিত। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির আমিনুল হক ও জামায়াতে ইসলামীর কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের মধ্যে। অন্য প্রার্থীরা হলেন- জামায়াত জোটের বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মাদ তৌহিদুজ্জামান, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) মো. আব্দুল কাদের জিলানী, গণঅধিকার পরিষদ’র (জিওপি) মো. মামুন হোসেন, জামায়াত জোটের বাংলাদেশ লেবার পার্টির এ. কে. এম মোয়াজ্জেম হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. তারিকূল ইসলাম, বিএনপি জোটের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির মো. নাজমুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মো. রাশিদুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মো. সুলতান আহম্মেদ সেলিম।

ঢাকা-১৭ আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ ওয়ার্ড এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে গঠিত। গুলশান, বনানী, নিকেতন, মহাখালী, বারিধারা, শাহজাদপুর এবং ঢাকা সেনানিবাসের একাংশ নিয়ে এই আসনটি। এবারের নির্বাচনে দু’টি ভিআইপি আসনের মধ্যে এটি একটি। এখানে বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সঙ্গে অপেক্ষাকৃত তরুণ প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর স ম খালিদুজ্জামান।

এই আসনে মোট প্রার্থী ১২ জন। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (কাঁঠাল) কামরুল হাসান নাসিম, যাকে সবাই আসল বিএনপি নামে চেনে। ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মনজুর হুমায়ুন, আনোয়ার হোসেন মনজুর দল জাতীয় পার্টি -জেপি থেকে তপু রায়হান, জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) আতিক আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ উল্যাহ, বাংলাদেশ কংগ্রেস’র মো. শামীম আহমদ, জামায়াত জোটের বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুহাম্মদ রাশেদুল হক, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট’র (বিএনএফ) এস এম আবুল কালাম আজাদ, স্বতন্ত্র মো. আনিসুজ্জামান খোকন ও কাজী এনায়েত উল্লাহ। এ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করতে পারেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ঢাকা-১৮ আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড নম্বর ১,১৭, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নিয়ে গঠিত। এটি মূলত উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, তুরাগ থানা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট প্রার্থী ১০ জন। তবে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে জামায়াত জোটের দল এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল ইসলাম আদিবের সঙ্গে। অন্য প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আনোয়ার হোসেন, স্বতন্ত্র মো. মহিউদ্দিন হাওলাদার, জাতীয় পার্টির মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ’র সৈয়দ হারুন-অর-রশীদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) সাবিনা জাবেদ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট’র জসিম উদ্দিন‌‌‌, স্বতন্ত্র মো. ইসমাইল হোসেন, নাগরিক ঐক্য’র (কেটলি) মাহমুদুর রহমান মান্না। এখানে ইসলামী আন্দোলন ও নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী কিছু ভোট পাবেন বলে জানা গেছে।

ঢাকা-১৯ আসনটি ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার শিমুলিয়া, ধামসোনা, ইয়ারপুর, আশুলিয়া, বিরুলিয়া, পাথালিয়া, সাভার ইউনিয়ন, সাভার পৌরসভা ও সাভার সেনানিবাস এলাকা নিয়ে গঠিত। এখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও জামায়াত জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ ফারুক খান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন। তবে বিএনপির দেওয়ান সালাহ উদ্দিন এই আসনের সাবেক এমপি। তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

এই আসনে জামায়াত জোটের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী সাভারের রানা প্লাজা ধ্বসের সময় উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে সাভার সেনানিবাসের তৎকালীন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভার এরিয়া কমান্ডার থাকাকালে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তার দল এলডিপি জামায়াত জোটে থাকলেও তিনি মাঠে থাকবেন কি না সেটা এখনো জানা যায়নি। এখানকার অন্য প্রার্থীরা হলেন- ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) মো. ইসরাফিল হোসেন সাভারী, জাতীয় পার্টির মো. বাহাদুর ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) শেখ শওকত হোসেন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. কামরুল।

ঢাকা-২০ আসনটি ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী দেয়নি। আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিকে ছেড়ে দিয়েছে। প্রার্থী হয়েছেন নাবিলা তাসনিদ। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির প্রার্থী ধামরাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. তমিজ উদ্দিনের সঙ্গে। এই আসনটিতে বিএনপির প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনাই বেশি রয়েছে।

আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন- খেলাফত মজলিসের মো. আশরাফ আলী, জাতীয় পার্টির আহছান খান, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) হেলাল উদ্দিন আহাম্মদ ও বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ’র মো. আরজু মিয়া।

এসএইচ/জেবি