images

রাজনীতি

“আগামী নির্বাচনে ‘মাদার্স রেভুলোশনে’ ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ সরকার গঠন করবে”

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম

ঢাকা-১৮ আসনে জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলের ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম বলেছেন, “আমাদের মায়েরা বিগত ১৭ বছর ধরে নীরবে ও নিভৃতে কাজ করেছেন। একই সঙ্গে তারা সন্তান লালন করেছেন এবং সংগঠন ও আন্দোলনের বার্তা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। আশা করি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মায়েরা একটি নীরব গণতান্ত্রিক বিপ্লব ঘটাবেন এবং তাদের হাত ধরেই ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ সরকার গঠন করবে।”

বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় উত্তরার তুরাগ এলাকার নলভোগ ঈদগাহ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৫৩ নং ওয়ার্ড মহিলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

আরিফুল ইসলাম বলেন, “বিভিন্ন স্থানে আমাদের মায়েদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। শেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আমাদের ভাইয়েরা আহত ও নিহত হয়েছে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও নির্বাচন পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে হবে। কেননা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে এবং একই সঙ্গে ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’-এর পক্ষে দেশের আপামর জনগণ রায় দেবে- ইনশাআল্লাহ।”

624579999_25878989758400790_9097892883952043194_n

তিনি বলেন, “ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে মানুষ মুক্তির পথ খুঁজছে এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। তারা এমন একটি বাংলাদেশ চায়- যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত হবে, মায়েদের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি সেই বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ চোখ তুলে তাকাতে পারবে না, সীমান্তে আর আমাদের ভাইদের হত্যা করা যাবে না এবং ধর্মীয় সংস্কৃতি পালনে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হবে না। একই সঙ্গে কর্মস্থলে নারীরা মর্যাদা ও সম্মানের সাথে কাজ করবে।”

তিনি আরো বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এবং ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’-এর পক্ষে রায় দেবে। মানুষ শহীদ ওসমান হাদীর ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের ভোট দেবে। একই সঙ্গে নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করার প্রত্যয় থেকেই জনগণ ১০ দলীয় জোটকে বিজয়ী করবে। আমরা সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করছি।”

625532265_767369849251494_9219871005863839281_n

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের মায়েদের নির্বাচনী প্রচারণায় যত বেশি বাধা দেবেন, ততই আমাদের মায়েরা আরও বেশি প্রেরণা নিয়ে মাঠে নামবেন। আমরা ধৈর্য ধারণ করছি বলে এটিকে দুর্বলতা ভাবার কোনো কারণ নেই। এরপর যদি আমাদের মায়েদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয় বা তাদের প্রতি কটূক্তি করা হয়, তবে আমরা এর বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলব। আমাদের মা-বোনদের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি।”

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা-১৮ আসনে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর সাবেক প্রার্থী অধ্যক্ষ আশরাফুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তুরাগ মধ্য থানার আমীর গাজী মনির হোসাইন, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট সুরুজ্জামান এবং মহিলা শাখার সভানেত্রী জয়নব বেগম, কেন্দ্রীয় নেত্রী আমেনা বেগম প্রমুখ।

এরপর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তুরাগ মধ্য থানার মহিলা শাখার উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য নির্বাচনী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন উত্তরখান শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে অংশ নেন জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত ১০ দলীয় জোট মনোনীত এই প্রার্থী। বৈঠকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জনসমর্থন আহ্বান করা হয় এবং শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার দাবি করা হয়।

এম/