জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
শেরপুরের ঝিনাইগাতিতে প্রশাসনের অনুরোধে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের কর্মীরা আসন ছেড়ে দেওয়ার পরও বিএনপি নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী।
দলটির দাবি, পূর্বপরিকল্পিত উসকানি ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়, যার এক পর্যায়ে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহত হন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ জানান দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি বলেন, শেরপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার উদ্যোগে ঝিনাইগাতি স্টেডিয়াম মাঠে প্রার্থীদের ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল নির্ধারিত সময়েই উপস্থিত হন এবং কর্মীদের নিয়ে আসন গ্রহণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ও তার সমর্থকরা অনুষ্ঠানে দেরিতে উপস্থিত হয়ে আসন বণ্টন নিয়ে আপত্তি তোলেন। এক পর্যায়ে তারা অর্ধেক অর্ধেক করে আসন ভাগ করার দাবি জানান। এ সময় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জামায়াত প্রার্থীকে কিছু চেয়ার ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলে নুরুজ্জামান বাদল মাইকে নিজ দলের কর্মীদের আসন ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেন। জামায়াতের কর্মীরা চেয়ার ছেড়ে দেওয়ার পরও বিএনপির উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীরা বাকবিতণ্ডা ও উসকানি অব্যাহত রাখে বলে অভিযোগ করা হয়।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, চেয়ার ছেড়ে দেওয়ার পরও বিএনপি নেতাকর্মীরা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশ প্রশাসন কার্যকরভাবে হস্তক্ষেপ না করে নিষ্ক্রিয় দর্শকের ভূমিকা পালন করে। এতে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
জামায়াতের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলসহ তার নেতাকর্মীরা স্টেডিয়াম এলাকা ছেড়ে ঝিনাইগাতি বাজারে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করে এবং জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে মাঠ থেকে বের হতে না দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রশাসনের কোনো কার্যকর সহযোগিতা না পেয়ে সন্ধ্যার দিকে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল নেতাকর্মীদের নিয়ে স্টেডিয়াম এলাকা ত্যাগ করে বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে জামায়াতের শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিম ঘটনাস্থলে একা পড়ে গেলে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এই সংঘর্ষে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে শেরপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর আহত তিনজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, পুরো ঘটনাপ্রবাহে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা স্পষ্ট। প্রথম পর্যায়েই পুলিশ কার্যকর ভূমিকা রাখলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটত না বলে দাবি করা হয়। তবে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এজন্য সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানানো হয় এবং এ সময় আহত এক সেনাসদস্যের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা শহীদ রেজাউল করিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে ঝিনাইগাতি উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা, নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগ তুলে ধরে দলটি প্রশাসনের একপাক্ষিক আচরণের প্রতিবাদ জানায়।
জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, এলডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নূরে আলমসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
টিএই/এএইচ