নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে আগে ঋণখেলাপিদের রাজনীতি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বেছে বেছে ঋণখেলাপিদের নিয়ে নির্বাচন করে আবার দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার কথা বলা নিছক তামাশা।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর ঢাকা আলিয়া মাদরাসা মাঠে ঢাকা-৭ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১০ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাফেজ হাজী মো. এনায়েত উল্লাহর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেন, তাদের নিজেদের আগে ঠিক হতে হবে। ঋণখেলাপিদের বাদ দিয়ে মাঠে আসুন, তখনই জাতি আপনাদের গ্রহণ করবে।
জনগণের আমানতের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, আমরা জনগণের আমানতের মালিক হতে চাই না, আমরা চৌকিদার হতে চাই। মানুষের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করার কোনো ইচ্ছে আমাদের নেই। জনগণ যদি বিশ্বাস করে তাদের আমানত আমাদের হাতে দেয়, তাহলে আমরা আগামী পাঁচ বছর চৌকিদার হয়ে সেই আমানত রক্ষা করব।
‘চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং ডাকসু ভিপি ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও আসন পরিচালক আব্দুর রহমান।
বক্তব্যের একপর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে দল চাঁদা না পেলে নিজের দলের লোকদেরই হত্যা করে, সেই দলের সঙ্গে দাঁড়ানোর আগে জনগণের চিন্তা করা উচিত।
তিনি বলেন, আজ সময় আমাদের সামনে দুটি পথ রেখে দিয়েছে—আলো ও অন্ধকার। এখন সিদ্ধান্ত জনগণের, তারা কোন পথ বেছে নেবে।
যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দেব না, আমরা তাদের হাতে কাজ তুলে দেব, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে। যুবকরাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি ও অনুপ্রেরণা।
গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদির পক্ষে, আর ‘না’ মানে গোলামির পক্ষে। ‘হ্যাঁ’ মানে নিপীড়িত ও মজলুমের পক্ষে, আর ‘না’ মানে অত্যাচার, চাঁদাবাজি ও আধিপত্যবাদের পক্ষে। ইনশাআল্লাহ, ঘরে ঘরে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণা হবে এবং ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হবে।
ঢাকা-৭ আসনে হাজী মো. এনায়েত উল্লাহকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ওল্ড ইজ গোল্ড। সোনা যত পুরোনো হয়, ততই খাঁটি হয়। আমরা পুরান ঢাকাকে আধুনিক নয়, গোল্ড বানাতে চাই।
বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান হাজী মো. এনায়েত উল্লাহর হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দেন।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দের পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচারণা চালানো যাবে।
টিএই/এআর