images

রাজনীতি

নিষিদ্ধ পিভিসি ব্যানারেই চলছে নির্বাচনি প্রচার

মাহফুজুর রহমান

২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৬ এএম

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত আচরণবিধি অমান্য করে রাজধানীর বিভিন্ন আসনে নিষিদ্ধ পিভিসি ব্যানার ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছেন বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা। একাধিক প্রার্থী ও দলের বিরুদ্ধে এ ধরনের নিষিদ্ধ আচরণের প্রমাণ মিলেছে। 

রাজধানীর বিভিন্ন সংসদীয় এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সড়ক-মোড়, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ফুটপাতজুড়ে ঝুলছে বড় আকারের ব্যানার ও ফেস্টুন, যা পরিবেশ ও নগর শৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সরেজমিনে ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী রবিউল আলম, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) জাকির হোসেন, ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস এবং ঢাকা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিনের নির্বাচনি প্রচার চলছে নিষিদ্ধ পিভিসি ব্যানারে। ঢাকা-০৮ আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর প্রচারেও রাজধানীর সড়কগুলোতে নিষিদ্ধ পিভিসি ব্যানার ব্যবহার করতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে তাদের ছবি, প্রতীক ও স্লোগানসংবলিত ব্যানার প্রকাশ্যে ঝুলছে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনও নির্বিকার! 

নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী, পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে প্লাস্টিকজাত পিভিসি ব্যানার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও পোস্টার বা ব্যানার লাগানোতেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। তবে বাস্তবে এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করেই প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যানার সড়কের ওপর ঝুলে থাকায় যান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। 

বিশিষ্ট পরিবেশ বিজ্ঞানী, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘আমরা ২০২০ সালে একটা স্টাডি করেছি ব্যানার এবং পোস্টারে প্লাস্টিক ব্যবহারের বিষয়ে। এইবার যদিও পোস্টার ব্যবহার কিছুটা কমেছে, কিন্তু পিভিসি ব্যানার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্লাস্টিকগুলো কোনোভাবেই মাটির সঙ্গে  মিশে না। এইগুলো জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। আবার এইগুলো যখন পুড়িয়ে ফেলা হয় তখনও বায়ু দূষণ হয়। এগুলো পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর।’ 

‘নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মানলে এসব করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে অনেক প্রার্থী বা তাদের অতিউৎসাহী কর্মীরা এই কাজগুলো করছেন। এটির মাধ্যমে আইনের প্রতি যে শ্রদ্ধা সেটিও কিন্তু দেখা যাচ্ছে না।’ বলেন অধ্যাপক কামরুজ্জামান। 

পরিবেশবিদরা বলছেন, পিভিসি ব্যানার সহজে নষ্ট না হওয়ায় তা দীর্ঘদিন পরিবেশ দূষণ করে এবং ড্রেন ও নালায় জমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ায়।

নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারির অভাবে এসব অনিয়ম থামছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, আচরণবিধি কার্যকর করতে দল-মত নির্বিশেষে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতেও একই চিত্র দেখা যাবে। 

গ্রীন ভয়েসের একজন পরিবেশকর্মী বলেন, ‘পিভিসি ব্যানার নিষিদ্ধ করার মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশ ও নগরজীবন রক্ষা করা। কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে শুধু নির্দেশনা দিয়ে পরিবেশ রক্ষা করা যায় না। কঠোর শাস্তি না হলে এই অনিয়ম বন্ধ হবে না।’ 

সাহিনুর ইসলাম নামে একজন বলেন, ‘নির্বাচনের সময় পুরো শহর পোস্টার আর ব্যানারে ভরে যায়। ভোট শেষ হলে এগুলো কেউ পরিষ্কার করে না। শেষ পর্যন্ত ভোগান্তিতে পড়তে হয় আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে।’

ঢাকা-০৮ আসন এলাকার বাসিন্দা রকিকুল আলম নামে একজন শিক্ষক বলেন, ‘আচরণবিধি মানা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিপক্বতারও পরীক্ষা। যারা শুরুতেই নিয়ম ভাঙছে, তারা ক্ষমতায় গেলে আইন মানবে এই আস্থা তৈরি হচ্ছে না।’

এম/ক.ম