images

রাজনীতি

ঢাকার চারটি আসনে দলীয় প্রধানদের ‘প্রেস্টিজ’ লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:১২ পিএম

জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রধানরা সাধারণত ঢাকার আসন এড়িয়ে চলেন। নিরাপদ জয় নিশ্চিত করতে তারা বরাবরের মতো নিজ এলাকা বা জন্মভূমির আসনকেই বেছে নেন। ঢাকায় অতীতে হাতে গোনা কয়েকজন শীর্ষ নেতা নির্বাচন করলেও পরাজয়ের নজিরই বেশি।

তবে, সেই চেনা ধারা ভেঙে এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার চারটি আসনে চারটি রাজনৈতিক দলের প্রধান সরাসরি ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। ফলে ঢাকার এই চার আসন ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল ও আলোচনার ঝড়।

ঢাকা-১৭ (গুলশান–বনানী–ভাসানটেক) আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ঢাকা-১৫ (কাফরুল) আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, ঢাকা-১১ (রামপুরা–বাড্ডা–ভাটারা) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর–আদাবর) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক নির্বাচন করছেন।

চার শীর্ষ নেতার এই মুখোমুখি লড়াইকে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। জয় যেমন দলীয় ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারে, তেমনি পরাজয় তৈরি করতে পারে বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ।

চার আসনে চার দলীয় প্রধান
ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় জোরালো প্রচারণা শুরু হয়েছে। ২৭ ডিসেম্বর প্রার্থিতা ঘোষণার পর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এই আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান।

ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরেই মাঠে সক্রিয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি এই আসনে পরাজিত হলেও এবার নিজ দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ নিয়ে লড়ছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল ইসলাম মিল্টন।

ঢাকা-১১ আসনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রার্থী হয়েছেন- জামায়াত-এনসিপি জোটের সমর্থনে। জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে তাকে সমর্থন দেওয়ায় মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ড. এম এ কাইয়ুম।

আরও পড়ুন: সিলেটের সমাবেশ মঞ্চে তারেক রহমান

ঢাকা-১৩ আসনে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তার পক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা সরে দাঁড়িয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই আসনে লড়ছেন এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ।

ঢাকায় দলপ্রধানদের হার-জয়ের ইতিহাস
ঢাকার আসনে দলীয় প্রধানদের জন্য জয় সবসময় সহজ হয়নি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ঢাকার দুই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উভয় আসনেই পরাজিত হন।

অন্যদিকে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জয় পান। ২০১৮ সালে আবারও ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান পরাজয়ের মুখ দেখেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকার আসনে দলপ্রধানের পরাজয় ইমেজ সংকট তৈরি করতে পারে বলেই সাধারণত নেতারা নিরাপদ আসন বেছে নেন। তবে এবারের রাজনৈতিক সমীকরণ ভিন্ন। ভোটের পরিবেশ, গণজোয়ার ও জোট রাজনীতিই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার এই চার আসনের ফল শুধু সংশ্লিষ্ট আসনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা জাতীয় রাজনীতির শক্তির ভারসাম্য ও নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতার বড় ইঙ্গিত দেবে।

এমআর/এমআই