জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১০ এএম
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর নীতি বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ, শিল্পোদ্যোক্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত পলিসি সামিট–২০২৬ অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন তিনি।
আসন্ন সংসদ নির্বাচননে সামনে রেখে নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন শুধু টিকে থাকা নয়, বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
জামায়াতের আমির বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস মূলত ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক মুক্তি ও মানবিক মর্যাদা অর্জনের সংগ্রাম। ১৯৪৭ সালে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল একটি ন্যায্য ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়া। কিন্তু পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হলেও সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গত ১৭ বছরে শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা ও কর্তৃত্ববাদী চর্চার কারণে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়েছে, জবাবদিহি কমেছে এবং সাধারণ মানুষের কথা বলার সুযোগ সংকুচিত হয়েছে।
‘২০২৪ সালের জুলাইয়ে তরুণদের নেতৃত্বে জনগণ আবারও নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ রক্ষার দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে আমরা এখন গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে আছি। তবে সামনে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’
অর্থনীতি নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, প্রবৃদ্ধি হলেও কর্মসংস্থানের মান বাড়েনি। বেকারত্ব ও উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে সাধারণ মানুষের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। বেশিরভাগ মানুষ অনানুষ্ঠানিক ও অনিরাপদ কাজে যুক্ত। শিক্ষিত তরুণরা পড়াশোনা শেষ করেও কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাচ্ছে না, আর নারীরা এখনো নানা বাধার মুখে পড়ছেন। কেবল প্রবৃদ্ধি নয়, মানুষের জীবনে নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সুযোগ তৈরি করাই হওয়া উচিত উন্নয়নের আসল মানদণ্ড।
বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণ। দেশের ভেতরের শ্রমজীবী মানুষ ও বিদেশে কর্মরত প্রবাসীরা অর্থনীতির চালিকাশক্তি। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স শুধু অর্থ নয়, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতারও বড় উৎস।
নারীদের ভূমিকা নিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, নারীদের পূর্ণ অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এটি শুধু ন্যায়ের বিষয় নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রয়োজন।
সুশাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর নীতি বাস্তবায়ন করা হবে। অতীতে জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত মন্ত্রণালয়গুলোতে স্বচ্ছ ও দক্ষ প্রশাসনের দৃষ্টান্ত ছিল।
রাষ্ট্র ও নাগরিক, সরকারি ও বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইনসাফ, মর্যাদা ও সমৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করেই আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।’
পলিসি সামিটে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, কসোভো, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ব্রুনাই, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, ডেনমার্ক, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, ইরান, কানাডা, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, লিবিয়া, আলজেরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ কোরিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, স্পেন, ব্রাজিল, জাতিসংঘ, ইউএনডিপি, আইআরআই প্রভৃতি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কুটনীতিবিদরা অংশ নেন।
টিএই/এমআর