images

রাজনীতি

গুম হওয়া বাবাদের খোঁজে সন্তানদের আহাজারি, কাঁদলেন তারেক রহমানও

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম

গুম হয়ে যাওয়া বাবার জন্য যখন তাদের সন্তানরা কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন তখন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও নিজের আবেগ সামাল দিতে পারেননি। মতবিনিময় সভায় একপর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।  

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারের এক সম্মিলনে এই দৃশ্য দেখা গেছে। 'আমরা বিএনপি পরিবার' এবং 'মায়ের ডাক'  এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 
 
পারভেজ হোসেন বংশাল থানা ছাত্রদলের একজন নেতা, যার নিখোঁজের পর থেকে তার পরিবার, বিশেষ করে স্ত্রী ফারজানা আক্তার ও তাদের মেয়ে এখনো তার অপেক্ষায় আছেন। তার মেয়ে বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণের আকুতি জানিয়েছেন। তাকে ডিবি (গোয়েন্দা) পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিল এবং এই গুমের ঘটনায় তার পরিবার বিচার ও সন্ধান দাবি করে আসছে। 

616849078_1209090514026964_8213820847102643167_n
গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারের সম্মিলন অনুষ্ঠান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। ছবি: সংগৃহীত


 
২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর শাহবাগ থেকে গুম হয় বংশাল ছাত্রদলের নেতা পারভেজ হোসেন। এক যুগ পেরিয়ে গেলেও বাবার সন্ধান পায়নি তার কন্যা আদিবা ইসলাম হৃদি। 

কান্না বিজড়িত কন্ঠে হৃদি বলছিল, ‘বছর যায়, নতুন বছর আসে। কিন্তু আমাদের বাবা আর আসে না। ৫ আগস্টের পর এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেল, কিন্তু আমি বাবাকে ফিরে পাইনি। আমার ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার, কিন্তু সেই স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি। আমি কি বাবাকে ফিরে পাবো না? আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে আপনারাই বলুন?’ -এই কথা বলেই অঝোরে কাঁদতে লাগলো হৃদি।
 
এই সময়ে মঞ্চে বসা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার আবেগ ধরে রাখতে পারেনি। টেবিলের সামনে টিসু বক্স থেকে টিসু নিয়ে নিজের চশমাটা খুলে নিজেই চোখ মছুতে দেখা গেলো। পুরো অনুষ্ঠানে অতিথিরাও হৃদির সঙ্গে এভাবে তার কষ্ট-বেদনা শেয়ার করেছেন। 

617577223_3876489355986341_5449622081814245253_n
গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারের সম্মিলন অনুষ্ঠান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। ছবি: সংগৃহীত


 
সাফার বয়স যখন মাত্র দুই মাস, তখন নিখোঁজ হয় তার বাবা। তিনি ছিলেন বংশাল ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. সোহেল। ২০১৩ সালে তাকে গুম করা হয়। অদ্যাবধি তিনি নিখোঁজ।
 
কাঁদতে কাঁদতে সাফা বললো,  ‘এক যুগ ধরে বাবার জন্য অপেক্ষা করছি। অনেক জায়গায় গিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ পাইনি বাবার।
 
তার সমবয়সীদের যখন বাবারা হাঁটা শেখান, তখন সে নিজের বাবাকে খুঁজে বেড়ায় উল্লেখ করে সাফা বলে,  আমি আর কত দিন খুঁজব বাবাকে?

সাফা ও হৃদির মতো অনেকের প্রিয়জন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের শিকার হয়েছেন। কেউ হারিয়েছেন বাবা, কেউ সন্তান, কেউ ভাই, আবার কেউ স্বামীকে। বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের আবেগে অনুষ্ঠান স্থল ছিলো এক কষ্ট-বেদনার অন্যরকম মতবিনিময়ের অনুষ্ঠান। আয়োজকরাও কেঁদেছেন অনেকে, নিরাপত্তা কর্মীদের মনেও নাড়া দিয়েছে দীর্ঘ নিঃশ্বাসে।
 
বিইউ/ক.ম