images

রাজনীতি

এলিটিসিজম ঘরে রেখে রাজনীতি করুন, মিন্টুকে কড়া বার্তা হাসনাতের

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

বিদেশে বসবাসকারী ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির প্রার্থী আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর কড়া সমালোচনাও করেছেন। তাকে ইঙ্গিত করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘এলিটিসিজম করতে আসে আমাদের দেশে, তারা যেন এলিটিসিজম ঘরে রেখে জনগণের সামনে আসেন।’ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন তিনি।

এরআগে ইসি ভবনে বিএনপির এক প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে আপিল শুনানিকালে হট্টগোল হয়। ওই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে ফেনী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু উপস্থিত বিরোধীদের উদ্দেশে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঠিক সেই মুহূর্তে অন্য একটি আপিলের শুনানির জন্য অডিটোরিয়ামে উপস্থিত থাকা এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি বিএনপি নেতা মিন্টুর ক্ষোভ প্রকাশের ধরণ নিয়ে তিনি তীব্র আপত্তি তোলেন।

পরে হাসনাত আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘দ্বৈত নাগরিকত্বে বিষয়ে অনেকে ঘুরে ঘুরে নতুন বেশে নির্বাচনের সময় দেশে আসেন। যদি জিতে যাই ডুয়েল সিটিজেন প্রত্যাহার করি। না হলে বেগম পাড়ায় (কানাডার একটি এলাকা) ফিরে যাই।’

তিনি বলন, ‘ইসির শুনানিতে এই দ্বৈত নাগরিকত্বে বিষয়ে প্রত্যেক আইনজীবি একাডেমিক পরিবেশে যখন তাদের সাবমিশন দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় আলোচনার শেষে, আব্দুল আউয়াল মিন্টু জহিরুল ইসলাম মুসার (এনসিপির আইনজীবি ও নেতা) দিকে তেড়ে আসেন। ব্লাডি সিটিজেন বলেন। আর উনি হচ্ছে এলিট ব্রিড। তিনি আইনজীবিদের ভারবালি এবিউজ করেন।

‘আমরা কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করি, যে কমিশনের ভেতরে কিছু কিছু প্রার্থী আইনজীবিদের বিরুদ্ধে তেড়ে আসে। কিছু কিছু প্রার্থী নির্বাচনের কমিশনের বাইরে অন্য প্রার্থীদের পেটাতে থাকে। তাইলে এই অবস্থা যদি চলতে থাকবে, যারা প্রার্থী তাদের কী হবে’, যোগ করেন এনসিপির এই নেতা।

বিএনপি নেতা মিন্টুকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘যারা এলিটিসিজম করতে আসে আমাদের দেশে, তারা যেন এলিটিসিজম ঘরে রেখে জনগণের সামনে আসেন। আপনারা জনগণকে ব্লাডি সিটিজেন বলবেন, আবার ভোটের জন্য ব্লাডি সিটিজেনের কাছে যাবেন, এই ধরণের দ্বিচারিতা আমরা সহ্য করবো না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকল ধরণের এলিটিসিজম ৫ আগস্টের পরে বাংলাদেশে পলিটিক্যাল এলিটিসিজমের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইটা ছিল। এই আব্দুল আউয়াল মিন্টুদের মতো যারা বিদেশে টাকা পাচার করে, বিদেশে থাকে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আত্মীয়তা করে, বিভিন্ন বিজনেস করে, শেখ রেহানার সঙ্গে যখন বিজনেস করে নিজের বিজনেস টিকিয়ে রাখে, তাদের এলিটিসিজম করতে আসে। আমাদের এই সিভিলিয়ানদের যখন বলবে ব্লাডি সিটিজেন, প্রত্যেকটা নাগরিককে প্রত্যেকটা ভোটারকে মানহানি করেন। আমরা কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যেন তাকে ওয়ার্নিং দেন।’

 

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মতো যারা এলিট ব্রিড আছে, আপনারা কোনো মুখে আমাদের ব্লাডি সিটিজেন বলে আবার গবীরদের কাছে ভোটের চাইতে যাবেন? আপনারা নির্বাচনের আগে ইস্ত্রি করা পাঞ্জাবী, লম্বা টুপি পরে একদম ইরি ক্ষেতে নেমে যান, এগুলো মানুষ এখন হিপোক্রেসি বোঝে।’

তিনি বলেন, ‘আপনার গার্মেন্ট শ্রমিক, ফুটপাতে যে এখন যাচ্ছেন ভোট চাইতে, ব্লাডি সিটিজেনের কাছে, আপনারা ম্যান্ডেটের বেলায় ঠিকই আছে। রাস্তায় রক্ত দেয় ব্লাডি সিটিজেনরা, ব্লাডি সিটিজেনের রক্তের ওপরে দাঁড়িয়ে আপনারা বিদেশে ব্যবসা করেন, ছেলে-মেয়েদের বেগম পাড়ায় রাখেন। সেফ এক্সিট নেন, ডোয়েল সিটিজেনশিপ নেন। নিরাপদ যখন দেখেন ব্লাডি সিটিজেনদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আবার নির্বাচনে অংশ নেন, আবার নির্বাচনে যখন উত্তর-দক্ষিণ দেখবেন আবার পালিয়ে যাবেন। এই ধরণের বাংলাদেশ আমরা দেখতে চাই না।

‘এজন্যই আমরা আপত্তি জানিয়েছি। জহিরুল ইসলাম মুসার প্রতি যে আচরণ হয়েছে, সকল পক্ষের আইনজীবি, বিএনপি আইনজীবি; সকলপক্ষই তারা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর আচরণে আহত হয়েছেন। তারা সেটার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই পলিটিক্যাল এলিটিসিজমের নিপাত অবশ্যই ঘটতে হবে। এই রাজনীতি যদি তারা করতে চান, ব্লাডি সিটিজেনরা তাদের প্রত্যাখান করবে’, বলেন তিনি।

এমএইচএইচ/এএম