নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
বিদেশে বসবাসকারী ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারী প্রার্থীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির ফেনী-৩ আসনের প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর কড়া সমালোচনা করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির প্রার্থী আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘এলিটিসিজম করতে এসেছেন আমাদের দেশে, তারা যেন এলিটিসিজম ঘরে রেখে জগণের সামনে আসেন।’
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সমালোচনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা। এর আগে দুপুরে বিরোধী আইনজীবীদের ওপর মেজাজ হারিয়ে ফেলেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়ে অনেকে ঘুরে ঘুরে নতুন বেশে নির্বাচনের সময় দেশে আসেন। যদি জিতে যায় ডুয়েল সিটিজেন প্রত্যাহার করে। না হলে বেগম পাড়ায় (কানাডার একটি এলাকা) ফিরে যায়। ইসির শুনানিতে এই দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়ে প্রত্যেক আইনজীবী একাডেমিক পরিবেশে যখন তাদের সাবমিশন দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় আলোচনার শেষে আব্দুল আউয়াল মিন্টু এনসিপির আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসার দিকে তেড়ে আসেন। ব্লাডি সিটিজেন বলেন। আর উনি হচ্ছেন এলিট ব্রিড। তিনি আইনজীবীদের ভারবালি এবিউজ করেন। আমরা কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করি, যে কমিশনের ভেতরে কিছু কিছু প্রার্থী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে তেড়ে আসে। কিছু কিছু প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের বাইরে অন্য প্রার্থীদের পেটাতে থাকে। এই অবস্থা কী চলতেই থাকবে, যারা প্রার্থী তাদের কী হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা এলিটিসিজম করতে আসে আমাদের দেশে, তারা যেন এলিটিসিজম ঘরে রেখে জনগণের সামনে আসেন। আপনারা জনগণকে ব্লাডি সিটিজেন বলবেন, আবার ভোটের জন্য ব্লাডি সিটিজেনের কাছে যাবেন; এই ধরনের দ্বিচারিতা আমরা সহ্য করব না। ৫ আগস্টের পরে ’২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে সকল ধরনের এলিটিসিজমের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি আছে। এই আব্দুল আউয়াল মিন্টুদের মতো যারা বিদেশে টাকা পাচার করে, বিদেশে থাকে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আত্মীয়তা করে, বিভিন্ন বিজেনস করে, শেখ রেহানার সঙ্গে যখন বিজনেস করে নিজের বিজনেস টিকিয়ে রাখে, তাদের পক্ষ থেকে এলিটিসিজম করতে আসে। তিনি ব্লাডি সিটিজেন বলে প্রত্যেকটা নাগরিকের, প্রত্যেকটা ভোটারের মানহানি করেছেন। আমরা কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যেন তাকে ওয়ার্নিং দেওয়া হয়।’
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মতো যারা এলিট ব্রিড আছে, আপনারা কোন মুখে আমাদের ব্লাডি সিটিজেন বলে আবার গবীরদের কাছে ভোটের চাইতে যাবেন? আপনারা নির্বাচনের আগে ইস্ত্রি করা পাঞ্জাবি, লম্বা টুপি পরে একদম ইরি ক্ষেত্রে নেমে যান, এগুলো হিপোক্রেসি মানুষ এখন বোঝে। আপনারা গার্মেন্ট শ্রমিকের কাছে, ফুটপাতে যে এখন যাচ্ছেন ভোট চাইতে ব্লাডি সিটিজেনের কাছে, আপনারা ম্যান্ডেটের বেলায় ঠিকই আছেন। রাস্তায় রক্ত দেয় ব্লাডি সিটিজেনরা, ব্লাডি সিটিজেনের রক্তের ওপরে দাঁড়িয়ে আপনারা বিদেশে ব্যবসা করেন, ছেলে-মেয়েদের বেগম পাড়ায় রাখেন। সেফ এক্সিট নেন, ডুয়েল সিটিজেশনশিপ নেন। নিরাপদ যখন দেখেন, ব্লাডি সিটিজেনদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আবার নির্বাচনে অংশ নেন, আবার নির্বাচনে যখন উত্তর-দক্ষিণ দেখবেন আবার পালিয়ে যাবেন। এই ধরনের বাংলাদেশ আমরা দেখতে চাই না। এজন্যই আমরা আপত্তি জানিয়েছি। জহিরুল ইসলাম মুসার প্রতি যে আচরণ হয়েছে, সকল পক্ষের আইনজীবীসহ সবাই আব্দুল আউয়াল মিন্টুর আচরণে আহত হয়েছেন। তারা সেটার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই পলিটিক্যাল এলিটিসিজমের নিপাত অবশ্যই ঘটতে হবে। এই রাজনীতি যদি তারা করতে চান, ব্লাডি সিটিজেনরা তাদের প্রত্যাখান করবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘কমিশন জাস্ট বিষয়টা এড়িয়ে গেছে, নির্বাচন কমিশনের সামনে প্রার্থীকে মারা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন নুর (ভিপি নুর) ভাইকে মারা হয়েছে, আমরা প্রক্টরকে বললাম, তিনি বললেন লিখিত দেন। আমাদের একজন প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনের সামনে মধ্যযুগীয় কায়দায় পেটানো হয়েছে, যার যার এলাকায় ত্রাসের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলেছে, লিখিত দেওয়ার জন্য। উনারা কিছুই দেখেননি, হট্টগোল দেখেছেন। হাদি ভাইয়ের ওপর হামলাকে উনারা বিচ্ছন্ন ঘটনা বলার চেষ্টা করছেন, নির্বাচন কমিশন যদি এই সমস্ত ঘটনাগুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব না দেয়, তাহলে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা রক্ত দিয়েছেন, তাদের রক্ত বৃথা যাবে।’
এমএইচএইচ/এফএ