images

রাজনীতি

বিএনপি নেতার নিকাব নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের নিকাব নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে ‘সম্মিলিত নারী প্রয়াস’ এর আয়োজনে নারী অধিকারকর্মী, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি মোশাররফ ঠাকুর নারীদের হিজাব ও নিকাব নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা শুধু নারীর প্রতি অসম্মানজনক নয়; বরং সরাসরি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের শামিল।

বক্তারা অভিযোগ করেন, মুসলিম নারীর নিকাবকে ইহুদি নারীদের অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে তুলনা করে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অত্যন্ত আপত্তিকর ও বিদ্বেষমূলক।

বক্তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হিজাব ও নিকাব পরিহিত শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বপূর্ণ পদে আসার প্রেক্ষাপটে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, একজন ব্যক্তি যখন নিজ ধর্ম ও নারীর পোশাক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, তখন তিনি যে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, সেই দল কেন এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

নারী অধিকার আন্দোলনের সেক্রেটারি নাজমুন নাহার বলেন, টকশো ও বিভিন্ন আলোচনায় নারীদের বিরুদ্ধে হুমকি ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। মুসলিম নারীর ধর্মীয় পোশাক নিয়ে প্রকাশ্যে অবমাননা করা হলেও তথাকথিত সচেতন ও নারী অধিকারকেন্দ্রিক কিছু সংগঠনের নীরবতা আমাদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে।

তিনি আরও বলেন, হিজাব ও নিকাব কোনোভাবেই নারীর মেধা, নৈতিকতা কিংবা সক্ষমতাকে আড়াল করে না। বরং ধর্ম নারীদের যে মর্যাদা ও সম্মান দিয়েছে, তা কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। আজও যদি নারীর পোশাক ও বিশ্বাস নিয়ে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়, তাহলে নতুন বাংলাদেশ গঠনের যে দাবি করা হচ্ছে, তার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

তিনি জানান, নারীর পোশাকের স্বাধীনতা, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মর্যাদা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের আন্দোলন চলবে। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কুরুচিপূর্ণ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কাছে নারীরা কখনোই মাথানত করবে না।

মানববন্ধন শেষে নারী অধিকার আন্দোলনের সেক্রেটারি নাজমুন নাহার লিখিত প্রস্তাবনা পাঠ করেন। মানববন্ধন থেকে উত্থাপিত দাবি ও প্রস্তাবনাগুলো হলো—

১. মোশারফ আহমেদ ঠাকুর বক্তব্যের মাধ্যমে সরাসরি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ পছন্দমতো ধর্মীয় পোশাক— হিজাব বা নিকাব পরিধানের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। এই সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনকারী এবং ধর্মীয় পোশাক নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

৩. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিকাব ও পর্দা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং কুরুচিপূর্ণ ট্রল অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সাইবার নিরাপত্তা আইনের আওতায় এনে অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।

৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল এবং জনসমাগম স্থলে নিকাব পরিহিত নারীরা যেন কোনো ধরনের বৈষম্য, হেনস্তা বা বুলিংয়ের শিকার না হন— তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে।

৫. ধর্মীয় পর্দার সঠিক বিধান এবং ধর্মীয় পোশাকের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যম ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

৬. মোশারফ আহমেদ ঠাকুরকে তার ত্রুটিপূর্ণ ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জন্য জনসমক্ষে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে এবং অবিলম্বে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।

এই কর্মসূচি থেকে একটি সুস্থ, সহনশীল ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকল নাগরিককে অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার এবং যেকোনো ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

এএইচ/এফএ