images

রাজনীতি

অতীতের মতো ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বরদাশত করা হবে না: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম

অতীতের মতো ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ার দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সংসদ নির্বাচনে ২৫৩ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা অনুষ্ঠানে এমন হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের মধ্যে ৮ দলের আসন ঘোষণা করা হয়। ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ১৭৯ আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ২০, খেলাফত মজলিসকে ১০, এলডিপিকে ৭, নেজামে ইসলামকে ২, এবি পার্টিকে ৩, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে (বিডিপি) ২টি আসন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত আন্দোলন ও জাগপার বিষয়ে পরে জানানোর কথা বলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির বলেন, আমরা অতীতের মতো ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং দেখতে চাই না, বরদাশতও করব না। ভোট দেওয়ার বয়স হলেও গত তিনটি নির্বাচনে যে ভোটাররা ভোট দিতে পারলেন না, আমরা তাদের ভোট নিশ্চিত করতে চাই। নতুন ভোটারদের বলতে চাই আপনারা ভোট দেবেন ও নিজের ভোটের হিসাব নিয়ে ঘরে ফিরবেন। আমরা আপনাদের পাশে থাকব।

আসন বণ্টন নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতার আলোচনা এখনো চলমান। আশা করছি আমাদের ঐক্যে তারা আসবে। তাদের অবস্থান পরিষ্কার হলেই তাদের আসন সংখ্যা ঘোষণা করা হবে।

জামায়াত আমির আরো বলেন, ‘আমরা কেউ কাউকে আসন দেইনি। সবাই মিলে আলোচনার ভিত্তিতে আমরা আসন নিয়েছি, প্রার্থী দিয়েছি। যতগুলো আসনে আমরা ঐকমত্যে এসেছি সেসব আসনের প্রার্থীরা সবাই ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী। সবাই মিলে আমরা প্রার্থীদের জয় নিশ্চিতে কাজ করব।’

জাতির জন্য জীবন উৎসর্গকারীদের সম্মান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আমরা জাতীয় জীবনের টার্নিং পয়েন্টে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ও জীবন উৎসর্গকারী ব্যক্তিদের সম্মান জানাই। বিশেষ করে ১৯৪৭, ১৯৭১, ২০২৪ সালে যারা প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, যারা আহত হয়েছেন, তাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছি। আমরা আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ, ঋণ পরিশোধ করতে চাই। একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে আমরা এ ঋণ পরিশোধ করতে চাই।

ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার চেয়ে জামায়াত আমির বলেন, হাদি ছিলেন বিপ্লবের আইকন। তাকে যারা হত্যা করেছে, তাদের জনগণ চেনে। আমরা তাকে হত্যার বিচার চাই। এই বিচার নিশ্চিত হলে হাদির মতো আরও মানুষ দেশ বাঁচাতে ও জাতির ক্রান্তিকালে এগিয়ে আসবে। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল ওলি আহমেদ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমাদ আব্দুর কাদের, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাগপার মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির আনোয়ারুল হক, সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া প্রমুখ।

এমআর