জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, মন্ত্রী বা এমপি হওয়ার জন্য রাজনীতিতে আসেননি। ব্যক্তিগত অর্থবিত্ত, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা কোনো ধরনের স্বার্থসিদ্ধির মনোবাসনা তার রাজনীতিতে আসার কারণ নয়। নগরবাসীর নিত্যদিনের সমস্যা সমাধান, জনগণের অধিকার রক্ষা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর ৯১, নবাবপুর মেউ চাকায় নবাবপুর দোকান মালিক সমিতির উদ্যোগে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, আমাদের এই শহর যানজট, জলাবদ্ধতা, গ্যাস সংকট, ভাঙাচোরা রাস্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুরবস্থাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, বেকারত্ব ও দারিদ্র্য যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, সেখান থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করাই আমার রাজনীতিতে আসার মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করার পর থেকেই আমি আরও সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হই। জনগণের ভোটাধিকার, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য যে আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু হয়েছে, সেই লড়াই আজীবন চলবে। ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জনগণ প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নির্ধারণ করবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা একটি ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই। কোনো চাঁদাবাজি থাকবে না, অবৈধ স্থাপনা দিয়ে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করতে দেওয়া হবে না। আমাদের মা-বোনেরা যেন নিরাপদে চলাচল করতে পারেন, শিশুরা যেন দূষণমুক্ত পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করব।
মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি শুধু বাংলাদেশের নেত্রী নন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে একজন বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছিলেন। অশ্লীল ও অসভ্য আক্রমণের শিকার হয়েও তিনি কখনো কটু ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানাননি। সহনশীলতা, ধৈর্য ও মানবিক রাজনীতির যে শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন, আমরা সেই পথেই চলতে চাই।
তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু জাতিকে বিভক্ত করা যাবে না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।
ইশরাক হোসেন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
বিএনপির সহ সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাজী আবুল বাশার,নবাবপুর দোকান মালিক সমিতি সভাপতি মো. মামুন,সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক শহীদ, দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মুসাসহ দোকান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বিইউ/এআর