images

রাজনীতি

ছাপানো ব্যালটে আপত্তি, নতুন পোস্টাল ব্যালট চায় বিএনপি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

আসন্ন প্রদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভোট প্রদানের জন্য যে পোস্টাল ব্যালট পেপার ডিজাইন করেছে সেটিকে উদ্দেশ্যমূলক দাবি করে পুনরায় পোস্টাল ব্যালট ছাপানোর দাবি জানিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে এই পোস্টার পেপার ডিজাইনারদের শাস্তির আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়েছে বিএনপি'র পক্ষ থেকে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে দলটি নির্বাচনী অফিসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান এই দাবি জানান।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, কয়টি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে ঢাকা মহানগর ও এর আশেপাশের দরিদ্র শ্রেণীর ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি কপি, ফোন নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। ইতিপূর্বে আমরা বহু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি কিন্তু এ ধরনের কার্যক্রম কখনো দেখিনি। কেন এ ধরনের কার্যক্রম করা হচ্ছে আমরা সে বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি আমরা আশঙ্কা করছি যে আগামী সংসদ নির্বাচনে এসব ভোটার আইডি দিয়ে জাল ভোট দেওয়া হতে পারে এবং বিকাশ নম্বর নেওয়া হয়েছে। যেন তারা তাদেরকে অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করতে পারে তাদের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য। এটা শুধু অনৈতিক বা বেআইনি নয় , সুষ্ঠু নির্বাচনে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা অতি দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, এ বিষয়গুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিকবার প্রকাশ হলেও নির্বাচন কমিশন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

বিএনপির এই শ্রমিক নেতা বলেন, আমাদের দেশে এইবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। প্রবাসীদের ভোটের অধিকার নিশ্চিত বিষয়টি সবার আগে এটা আমাদেরই দাবি ছিল। পোস্টাল ভোটের সংখ্যা অনেক। যা মোট ভোটারের প্রায় এক অংশ। এই ভোট বিজয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন প্রার্থীর ক্ষেত্রে নিয়ামক হতে পারে। ফলে এই ভোট কোনো কায়দা- কৌশলের কারণে যেন কোন বিশেষ প্রার্থীর ক্ষেত্রে না যায় এটা দেখার দায়িত্ব ছিল নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, প্রবাসী ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশনার থেকে যে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। সেই ব্যালটের যে পেপার সেখানে ৫টা কলাম করা হয়েছে এবং ১৪ টা লাইন করা হয়েছে। নির্বাচনের আইন যে আরপিও এখানে শুধু এটা বলা হয়েছে যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে প্রতীকগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এই সবগুলোর প্রতীক পোস্টাল ব্যালটে ছাপানো থাকবে। কয়টা কলম হবে কয়টা লাইন হবে এ সম্পর্কে দিকনির্দেশনা নাই।

বিএনপির এই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আরো বলেন, এটা পুরোটাই করেছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে দাঁড়িপাল্লা, হাতপাখাকে প্রথম দিকে ছাপিয়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক শেষের দিকে ছাপানো হয়েছে। আমরা মনে করি এ বিষয়টা এমনি এমনি হয়নি। এটা কোন দৈব ঘটনা নয়। এটা ইচ্ছাকৃত। প্রধান নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন কমিশনাররা এ ব্যাপারে অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা কিভাবে এটা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানেন না। যারাই এই ঘটনা সঙ্গে দায়ি থাকুক। যারাই এর পিছনে জড়িত থাকুক। তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।

ব্যালট পেপার পুনরায় ছাপানোর বহু ইতিহাস আছে আমাদের দেশে আছে জানিয়ে এটা আপনাদের সংশোধন করা উচিত। আমরা এটাকে খুবই অন্যায় এবং খুবই অনৈতিক মনে করি।

তিনি বলেন, আমরা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। কারণ এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়েই যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে তারা যেন কোন রকম কার্ড ছাজি করে ক্ষমতায় এসেছে এরকম প্রশ্ন না উঠুক। এই যে বিকাশ নম্বর নেওয়া ভোটার আইডি কার্ড নেওয়া এবং পোস্টাল বোর্ড ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের পক্ষে ভোট বেশি ভোট সংগ্রহের যে অপচেষ্টা এটা শুধু বেআইনি না শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বিইউ/এআর