জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ইস্যুতে ইসির ‘নির্লিপ্ত ও নিশ্চুপ’ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির নির্বাচনী অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই প্রশ্ন তুলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন চাই যথাসময়… ১২ ফেব্রুয়ারিতেই এবং আমরা এটাও চাই যে, সব রাজনৈতিক দল সে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। আমাদের কোলেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ইস্যুতে ইসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল বিএনপি কোনো কাজে কোনো কনফিউশন যাতে না হয় সেজন্য আমাদের চেয়ারম্যান তার উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত করেছেন। আমরা যেখানে নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার জন্য এত উদ্যোগী সেখানে আমরা তো আশা করতেই পারি যে, অন্য সবাই নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে শান্তি শৃঙ্খলা এবং নির্বাচনী পরিবেশ অটুট রাখার জন্য কাজ করবেন। দুর্ভাগ্য আমাদের সেটা হচ্ছে না। আপনারা ছবিগুলো (দেখানো আলোকচিত্র) দেখতে পাবেন যে আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের প্রধানরা পর্যন্ত এমন বক্তব্য রাখছেন, এমন সব ব্যানার নিয়ে কথা বলছেন যেটা স্পষ্টতই নির্বাচনী আচরণ বিধির লঙ্ঘন।
এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা আশা করি নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনী কর্মকর্তারা সাধারণ প্রার্থীদের প্রতি যেমন কঠোরআইন পালন করার ব্যাপারে আগ্রহী, সকলের ব্যাপারেই তেমনি আইনানুগ আচরণ করবেন। আমরা নির্বাচন কমিশনে বলে এসেছি, এখন আপনাদের মাধ্যমে বলছি, নির্বাচন কমিশনের এই নির্লিপ্ততা কিংবা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নীরবতা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টিতে বাধা সৃষ্টি করছে। এটা অনুচিত বলে আমরা মনে করি এবং আমরা আশা করি তারা তাদের আচরণের পরিবর্তন আনবে।”
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, সব রাজনৈতিক দলের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে, যে তারা নিজের দায়িত্বেই এই কাজগুলি থেকে বিরত থাকবেন। আমরা আশা করব বাংলাদেশে আরও যারা রাজনৈতিক দল আছেন তারাও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে কোনো বাধার কারণ হবেন না। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনী কর্মকর্তাবৃন্দ যার যা দায়িত্ব, যার যা ভূমিকা, যার যার ক্ষমতা সেটা তারা প্রয়োগ করবেন বলে আমরা আশা করি।
‘সবাইকে নিয়ে নির্বাচন চাই’
তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদেরকে সাক্ষী রেখে বলতে চাই যে, আমরা একদলীয় স্বৈরশাসনের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি, আমরা রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা থেকে দেশকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে পরিণত করেছি, আমরা এক এগারোর সরকারকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারে বাধ্য করেছি। এবারও প্রায় ১৭/১৮ বছর ধরে আমরা অবিরাম লড়াই করেছি। আমাদের বহু সাথী ঘুম হয়েছেন, খুন হয়েছেন, নিপীড়িত হয়েছেন, মিথ্যা মামলায় নির্যাতিত হয়েছেন। আমরা সবাইকে নিয়ে একটা শান্তিপূর্ণ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচন চাই। সেজন্য আমরা আমাদের ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করছি।আপনাদের মাধ্যমে আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই। যে দেশের মানুষ যারা বহু বছর ভোট দিতে পারে নাই, তার মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে নাই, তারা যাতে নিশ্চিন্তে নির্বিঘ্নে শান্তি এবং শৃঙ্খলার মধ্যে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেজন্য আমরা কাজ করছি। এই ব্যাপারে আমাদের ভূমিকা আমরা পালন করছি, আমরা তাদের সমর্থন চাই আমরা তাদের সহায়তায় সহযোগিতায় আমাদের যে কর্মসূচি সেটা পালনের ইচ্ছা রাখি।
‘নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই’
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান বলেন, আমরা বারবার বলে এসেছি যে, আমরা নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই… সবার জন্য সমান সুযোগ। দল বড় হোক বা ছোট হোক, ব্যক্তি ক্ষমতাবান হোন বা না হোন, পদবিধারী হোন বা সাধারণ নাগরিক হোন… সবার জন্য নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকা দরকার। নির্বাচন কমিশন বিএনপির বেশ কিছু প্রার্থীকে হয়ত প্রার্থী নির্বাচনী এমনি কোন দোয়া মাহফিল বা কোন অন্য আলোচনা সভায় সেখানে যারা উপস্থিত আছে বক্তব্য রাখে তাদের মধ্যে কেউ কম বোঝে… কোনটা সঠিক কোনটা সঠিক না হয়তো ভালো বুঝতে পারে না…. সেরকম কেউ হয়ত বক্তব্য রেখেছেন যে, ধানের শীষে ভোট দিন… তিনি প্রার্থী না, আমাদের দলের উল্লেখযোগ্য কোন নেতাও না… সেই কারণে তাদেরকে শোকজ করা হয়েছে। আমাদের একজন প্রার্থীর মেয়ে একটা ফেসবুক চালায়। সেই ফেসবুকে মেয়ে একটা পোস্ট করেছে যেটা নির্বাচনী আইনের লঙ্ঘন। এই কারণে আমাদের প্রার্থী এবং তার মেয়ে দুইজনকে শোকজ করা হয়েছে… আমরা এটা মেনে নেই, মেনে নিতে পারি… যদি আমরা দেখি আর কি যে, সবার জন্য একই আচরণ করছে নির্বাচন কমিশন বা নির্বাচনী কর্মকর্তারা।
তিনি বলেন, কিন্তু আপনারা এখানে (সংবাদ সম্মেলনে) কিছু দৃশ্য দেখতে পাবেন যে, অন্য দলগুলো একই আচরণ করছে না। সাধারণ প্রার্থীরা অন্য দলগুলো উল্লেখযোগ্য নেতা, গুরুত্বপূর্ণ নেতা, এমনকি প্রধান নেতারা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের চোখের সামনে। কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অথচ আপনারা জানেন যে, আমাদের নেতা আমাদের দলের চেয়ারম্যান তিনি একটা ব্যক্তিগত সফরে দেশের উত্তরাঞ্চল যেতে চেয়েছিলেন। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী যিনি বাংলাদেশের রাজনীতির একজন প্রবাদ পুরুষ, রাজনীতিবিদদেরও নেতা… তার কবর জিয়ারত করা, ২৪‘র ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান শহীদ আবু সাঈদের এবং বিভিন্ন জেলার আরো যেসব শহীদরা শায়িত আছেন তাদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো, তার(তারেক রহমান) নানীর কবর জিয়ারত করা, তার নিজের গ্রামের বাড়িতে যাওয়া এবং তার মা যিনি গত ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেছেন তার জন্য কিছু দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করতে গিয়েছিলেন…. পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছিল যে এটা কোন নির্বাচনী সফর না রাজনৈতিক সফরও না, তিনি কোথাও কোন রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন না, কোথাও কোন নির্বাচনী সমাবেশেও বক্তব্য রাখবেন না। তারপরেও এই নিয়ে কিছু উদ্বেগ কিছু উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে অনেকেই… যার জন্য নির্বাচন কমিশন আমাদের অনুরোধ করেছিল যে আমরা যেন এই সফরটা ২২ তারিখ পর্যন্ত স্থগিত রাখি। আমরা সেটা মেনেছি, আমাদের চেয়ারম্যান সেটা স্থগিত করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসমাইল জবিহউল্লাহসহ অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
বিইউ/এআর