মহিউদ্দিন রাব্বানি
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে বলে মন্তব্য করেছেন শ্যামপুর, কদমতলী ও ডেমরা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন।
নির্বাচনি মাঠের অবস্থাসহ নানা বিষয় নিয়ে ঢাকা মেইলের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রবিন বলেন, ‘মাঠের অবস্থা বলতে গেলে প্রথমেই আমার বাবার কথা আসে। তিনি এই এলাকা (ঢাকা-৪) থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সে হিসেবে মানুষের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের পরিচিতি ও সম্পর্ক রয়েছে। এলাকার মুরুব্বি ও নারীরা ধানের শীষের পক্ষে তাদের সমর্থন জানাচ্ছেন। পাশাপাশি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ প্রজন্মও আমাকে পছন্দ করছে।’
তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়। আমরা বিশ্বাস করি, ১২ ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে জনগণের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটবে।’
নির্বাচনি প্রস্তুতি সম্পর্কে রবিন ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমি নিয়মিত এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলছি। সর্বস্তরের জনগণের কাছ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাচ্ছি। অনেকেই আমাদের প্রচারণাকে আরও কার্যকর ও অর্থবহ করতে নানা পরামর্শ দিচ্ছেন।’
তার দাবি, ‘বিএনপি বরাবরই একটি নির্বাচনমুখী দল। আমরা সবসময় জনগণের পাশে ছিলাম এবং আছি।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর আমি আরও ঘনিষ্ঠভাবে মানুষের কাছে গিয়েছি। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করেছি, মানুষের মতামত ও পরামর্শ শুনেছি এবং সে অনুযায়ী কাজ করছি। আলহামদুলিল্লাহ, সম্মিলিতভাবে আমাদের প্রস্তুতি ভালোভাবেই এগোচ্ছে।’
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিষয়ে তার মূল্যায়ন প্রসঙ্গে রবিন ঢাকা মেইলকে বলেন, কোন প্রার্থী সফল বা ব্যর্থ— এই চূড়ান্ত রায় জনগণই দেবে। গত ১৭ বছর মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার সেই অধিকার ফিরে এসেছে। জনগণ যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকেই ভোট দেবে।’
তার বিশ্বাস, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ নিরব ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বাচাই করে নেবে।’
ঢাকা-৪ আসনে বিএনপির কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী আছে কি না এবং নির্বাচনি কাজে কোনো অস্বস্তি হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে রবিন ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘না, আমার আসনে বিএনপির কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাকেই ঢাকা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।’
বিএনপি প্রার্থী বলেন, ‘নির্বাচনি কাজে কোনো ধরনের অসুবিধা নেই। সব প্রার্থী নিজ নিজভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আমাদের কর্মীরা কারও প্রতি বাধা সৃষ্টি করছে না, আবার অন্য পক্ষের কর্মীরাও আমাদের কাজে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে না। সহাবস্থানের মধ্য দিয়েই নির্বাচনি কার্যক্রম চলছে। আমি নিজেও সতর্ক রয়েছি— আমার কারণে যেন কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং আমরাও যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হই।’
কিন্তু অন্য প্রার্থীদের রেখে ভোটাররা তাকে কেন ভোট দেবেন- এমন প্রশ্নে রবিন বলেন, ‘আমার জন্ম এই এলাকায়। আমার পূর্বপুরুষরাও এখানকার সন্তান। আমার বাবা আজীবন মানুষের সেবায় কাজ করেছেন। শ্যামপুর, কদমতলী ও ডেমরার প্রান্তিক এলাকাগুলো তার হাত ধরেই ধীরে ধীরে শহরে রূপ নিয়েছে।’
তার দাবি, ‘বিগত ১৮ বছর ধরে আমি মানুষের পাশে ছিলাম। এলাকার প্রতিটি অলিগলি, প্রতিটি সমস্যার সঙ্গে আমি পরিচিত। আমিও এই এলাকারই একজন। তাই মানুষের কষ্ট আমি গভীরভাবে বুঝি। আমার বাবার অভিজ্ঞতা ও নিজের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ আমার সবচেয়ে বেশি— এই বিশ্বাস থেকেই জনগণ আমাকে ভোট দেবে বলে আমি আশাবাদী।’
নির্বাচিত হলে কোন কোন কাজ অগ্রাধিকার পাবে জানতে চাইলে রবিন ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমাদের এলাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হলেও বহু নাগরিক সুবিধা থেকে মানুষ এখনো বঞ্চিত। গত ২০ বছরে পরিকল্পিত উন্নয়ন হয়নি। ফলে এলাকাটি অপরিকল্পিত নগরীতে পরিণত হয়েছে।’
জলাবদ্ধতাকে সবচেয়ে বড় সমস্যা উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যুগের পর যুগ ধরে মানুষ এই সমস্যায় ভুগছে। বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীতে পানি নিষ্কাশনের পথ সচল করতে খাল উদ্ধার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করব। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, প্রতিটি ওয়ার্ডে ক্লিনিক, শিশুদের জন্য খেলার মাঠ ও পার্ক নির্মাণ আমার অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে। এছাড়া কর্মমুখী শিক্ষার জন্য কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মাদক থেকে দূরে রাখতে প্রতিটি ওয়ার্ডে পাঠাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
বিএনপিতে তানভীর আহমেদ রবিনের পথচলা
এ সম্পর্কে ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থী ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘এক-এগারোর সময় থেকেই আমার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আজ এই অবস্থানে এসেছি। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমার নামে ১০৭টি এবং আমার বাবার নামে ১০৯টি মামলা দেওয়া হয়েছে।’
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার পরও মামলাগুলো এখনো বহাল রয়েছে উল্লেখ করে দুঃখপ্রকাশ করে রবিন বলেন, ‘আমরা এখনো হাজিরা দিচ্ছি। আমি চারবার গ্রেফতার হয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট ও ত্যাগের মূল্যায়ন জনগণ এবার করবে।’
বাবার সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা প্রথমবার ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তখন এই এলাকায় উন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল কিংবা ভালো সড়ক যোগাযোগ ছিল না। তিনি এই জনপদের মৌলিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং পরবর্তীতে আরও দুইবার নির্বাচিত হন।’
নিজের সম্পর্কে রবিনের দাবি, ‘ছোটবেলা থেকেই আমরা মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলাম। জনগণও আমাদের পাশে থেকেছে।’
এমআর/এএইচ