নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, দেশের জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপন করাই মূলত রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ কখনোই সম্ভব হবে না। এই আস্থা শুধু নির্বাচনী প্রচারণা বা প্রতিশ্রুতিপত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিতার মাধ্যমেই তা প্রমাণিত হতে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের নাগরিক সমাজ, এনজিও, বেসরকারি খাত এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব ছাড়া জাতীয় সমস্যা সমাধান এবং নীতি বাস্তবায়ন কার্যকরভাবে সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পার্লামেন্টের বাইরে সিভিল সোসাইটি, এনজিও ও জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সরকার প্রকৃত জবাবদিহিতা ও জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে না।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় দীর্ঘদিন ধরে জবাবদিহিতার অভাব এবং ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা যত বেশি জবাবদিহির আওতায় থাকবেন, দেশের গণতন্ত্র তত বেশি শক্তিশালী হবে। সরকার ও রাজনৈতিক দলকে পার্লামেন্টারি কমিটি, সিভিল সোসাইটি এবং নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী ইশতেহার কেবল প্রতিশ্রুতির কাগজে সীমাবদ্ধ থাকলে জনগণের আস্থা তৈরি হবে না; বাস্তবায়ন এবং জনগণকে ফলপ্রসূ জবাব দেওয়াই আসল চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, নতুন সরকার প্রথম এক বা দুই বছর একটি হানিমুন পিরিয়ডে থাকে, যখন আলোচনা ও নীতি নির্ধারণের কাজ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু এরপর তা ধীরে ধীরে ব্যর্থ হতে থাকে এবং জনগণের আস্থা ক্ষয় পায়। এই সমস্যা এড়াতে পার্লামেন্টারি কমিটি ও নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণ এবং বাস্তবায়ন করা আবশ্যক। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল এবং নেতা-নেত্রীদের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সরকার দায়িত্বশীল ও দায়বদ্ধ থাকে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের প্রতিটি বিভাগের ব্যবসায়ী সমাজ, শিক্ষাবিদ এবং নাগরিক সংগঠনের সঙ্গে সেমিনার ও পরামর্শ সভার মাধ্যমে মতামত নেওয়ার প্রক্রিয়ার কথা ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার ও রাজনৈতিক দল তাদের নীতি বাস্তবায়নের কার্যকারিতা যাচাই করতে পারে। জনগণকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া এবং তাদের মতামত নথিভুক্ত করা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে এবং দেশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের নিজেদের উদ্যোগেই জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। কেউ তাদের জন্য এটি করে দিতে পারবে না। রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা যত বেশি শক্তিশালী হবে, দেশ তত বেশি গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল হবে। সব রাজনৈতিক দলকে এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
এএইচ/এআর