নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এনসিপি নির্বাচনি জোট থেকে কতটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) চিফ ইলেকশন অবজারভার আইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।
নির্বাচনি জোট ও আসন বণ্টন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এনসিপি জোট কত আসনে নির্বাচন করবে, সে বিষয়ে আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আসন সংখ্যা ও প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করব।’
বৈঠকের আলোচনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আমরা জানিয়েছি, দেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের আত্মবিশ্বাস নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ নিয়ে আস্থার বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও প্রটোকল দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনকে এক ধরনের সিগন্যাল দেওয়া হচ্ছে। এতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে বার্তা যাচ্ছে যে সরকার কার পক্ষে আছে। এটি নির্বাচনি মাঠে একটি অসম ও প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’
ইইউ প্রতিনিধিদলের মনোভাব সম্পর্কে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন আসন্ন নির্বাচনে একটি বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে। তারা চায় বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক, যাতে ফল ঘোষণার পর গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নির্বিঘ্ন হয়। এ জন্য তারা সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চেয়েছে।’
বৈঠকে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘মূলধারার কয়েকটি গণমাধ্যম এনসিপিকে লক্ষ্য করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নেতিবাচক ও ভুল সংবাদ প্রচার করছে। আমরা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে বারবার বলেছি যেন সব দল সমান মিডিয়া কভারেজ ও সুযোগ পায়।’
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অনেক ঋণখেলাপি প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঋণখেলাপির সংখ্যা আরও বেশি হওয়া সত্ত্বেও ইসি মাত্র কয়েকজনকে বাদ দিয়েছে।’
বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পাশাপাশি এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এফএ