নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের নির্বাচনি হলফনামা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের ব্যাখ্যা দিয়েছে দলটি। হলফনামায় উল্লেখিত আয়, সম্পত্তি ও পেশা সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব তামীম আহমেদের পাঠানো এক বার্তায় নাহিদ ইসলামের সম্পদ বিবরণীর বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন।
এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নাহিদ ইসলামের নির্বাচনি হলফনামায় প্রদর্শিত মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩২ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকা। এই অঙ্কটি কোনো একক উৎস থেকে অর্জিত নয়; বরং উপদেষ্টা ও পরামর্শক পেশা থেকে অর্জিত আয়, পূর্ববর্তী সঞ্চয়, হাতে থাকা নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ ও স্বর্ণালংকারের বর্তমান বাজারমূল্যের সমষ্টি।
দলটির ব্যাখ্যায় বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পদে সাত মাস দায়িত্ব পালনকালে নাহিদ ইসলামের মোট আয় ছিল ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯ টাকা। গড়ে মাসিক প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা হারে তিনি এ আয় করেন। উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে মাসিক এক লাখ টাকা সম্মানিতে কাজ শুরু করেন।
এই হিসাবে গত অর্থবছরে উপদেষ্টা ও পরামর্শক পেশা মিলিয়ে নাহিদ ইসলামের মোট আয় দাঁড়ায় প্রায় ১৬ লাখ টাকা। ২০২৪–২৫ আয়বর্ষে এই আয়ের বিপরীতে তিনি ১ লাখ ১৩ হাজার ২৭৪ টাকা আয়কর পরিশোধ করেন, যা তার আয়কর রিটার্নে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সেই কারণেই নির্বাচনি হলফনামায় তার বাৎসরিক আয় ১৬ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে।
এনসিপি আরও জানায়, নাহিদ ইসলামের পেশা শিক্ষকতা— এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আয়কর রিটার্ন কিংবা নির্বাচনি হলফনামার কোথাও শিক্ষকতা পেশার উল্লেখ নেই। বরং নির্বাচনি হলফনামার ৪ নম্বর কলামে তার বর্তমান পেশা হিসেবে পরামর্শক এবং পূর্বতন পেশা হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা রয়েছে।
ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত তথ্য প্রসঙ্গে দলটি জানায়, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের সময় নাহিদ ইসলামের সোনালী ব্যাংকের একমাত্র ব্যাংক হিসাবে জমা ছিল ১০ হাজার ৬৯৮ টাকা, যা তিনি সে সময় একটি পাবলিক পোস্টে উল্লেখ করেছিলেন। সর্বশেষ হলফনামা অনুযায়ী বর্তমানে ওই একই একাউন্টে জমার পরিমাণ ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৩ টাকা ৫৭ পয়সা।
এনসিপির দাবি অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের এই একমাত্র অ্যাকাউন্ট এবং নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের উদ্দেশ্যে ২৮ ডিসেম্বর সিটি ব্যাংকে খোলা একটি অ্যাকাউন্ট ছাড়া নাহিদ ইসলামের নামে বর্তমানে আর কোনো ব্যাংক হিসাব নেই।
এমআর/এফএ