Dhaka Mail Logo

তথ্য-প্রযুক্তি

হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট যেভাবে হ্যাক করা হয়

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:১২ পিএম

ডিজিটাল যুগে যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ব্যক্তিগত চটজলদি বার্তা পাঠানো থেকে শুরু করে জরুরি দাপ্তরিক কাজ—সবকিছুতেই এই প্ল্যাটফর্মের ওপর ভরসা করেন কোটি কোটি ব্যবহারকারী। তবে এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে থাকার কারণে সাইবার অপরাধী ও হ্যাকারদের প্রধান টার্গেটও এখন এই জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপটি। অনেক সময় ব্যবহারকারীদের সামান্য অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে খুব সহজেই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট কব্জা করে নেয় প্রতারকরা। ঠিক কী কী উপায়ে বা কৌশলে হ্যাকাররা হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে থাকে, তা জেনে রাখা প্রতিটি ব্যবহারকারীর জন্যই অত্যন্ত জরুরি।

১. ওটিপি বা যাচাইকরণ কোড চুরি করা

হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করার এটি হলো সবচেয়ে প্রচলিত এবং সবচেয়ে পুরোনো কৌশল। হ্যাকাররা প্রথমে টার্গেট করা ব্যক্তির ফোন নম্বর দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে লগইন করার চেষ্টা করে। এর ফলে ব্যবহারকারীর ফোনে একটি ছয় অঙ্কের ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি চলে আসে। এরপর প্রতারকরা বিভিন্ন লোভনীয় অফার, ভুয়া পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে কিংবা জরুরি সমস্যার কথা বলে ফোন করে সেই ওটিপি কোডটি হাতিয়ে নেয়। একবার ওটিপি কোডটি হ্যাকারের হাতে চলে গেলে তারা খুব সহজেই আসল ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট নিজেদের ডিভাইসে চালু করে নেয় এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন প্রকৃত মালিক।

২. কল ও এসএমএস ফরওয়ার্ডিংয়ের অপব্যবহার

অনেক সময় সাইবার অপরাধীরা ব্যবহারকারীর অজান্তেই তাদের ফোনে বিশেষ ইউএসএসডি কোড (USSD Code) বা ম্যালওয়্যার অ্যাপের মাধ্যমে কল ফরওয়ার্ডিং বা এসএমএস ফরওয়ার্ডিং চালু করে দেয়। এর ফলে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের সময় যে ওটিপি কোডটি আসার কথা, তা ব্যবহারকারীর কাছে না পৌঁছে সরাসরি হ্যাকারদের মোবাইল নম্বরে চলে যায়। এই কায়দায় ব্যবহারকারী পুরোপুরি অন্ধকারে থেকে যান এবং হ্যাকাররা খুব সহজেই অ্যাকাউন্ট নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়।

৩. ফিশিং লিঙ্ক ও ক্ষতিকর ওয়েবসাইট

প্রতারকরা বিভিন্ন লোভনীয় বার্তা, আকর্ষণীয় অফার বা লটারির লোভ দেখিয়ে চ্যাটে বা ইমেলে ভুয়া ফিশিং লিঙ্ক পাঠিয়ে থাকে। সরল বিশ্বাসে ব্যবহারকারী যখন সেই লিঙ্কে ক্লিক করেন, তখন তাকে একটি ভুয়া ওয়েবে নিয়ে যাওয়া হয় যা দেখতে হুবহু হোয়াটসঅ্যাপের লগইন পাতার মতো লাগে। সেখানে ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড বা পিন টাইপ করলেই সেই গোপনীয় তথ্য সরাসরি চলে যায় হ্যাকারদের সার্ভারে।

৪. ক্ষতিকর থার্ড-পার্টি অ্যাপ ও ম্যালওয়্যার

অনেকেই অফিশিয়াল স্টোর বাদ দিয়ে ইন্টারনেট থেকে হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন আনঅফিশিয়াল বা মডিফাইড ভার্সন (যেমন—জিবি হোয়াটসঅ্যাপ বা ব্লু হোয়াটসঅ্যাপ) ডাউনলোড করে ব্যবহার করেন। এই ধরনের থার্ড-পার্টি অ্যাপগুলোতে আগে থেকেই বিশেষ স্পাইওয়্যার বা ম্যালওয়্যার কোড লুকিয়ে থাকে। এই অ্যাপগুলো ইনস্টল করার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবহারকারীর ফোনের সমস্ত ব্যক্তিগত চ্যাট, মিডিয়া ফাইল এবং অ্যাকাউন্টের অ্যাক্সেস হ্যাকারদের হাতে চলে যায়।

৫. কিউআর কোড স্ক্যানিং জালিয়াতি (WhatsApp Web Hack)

হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব ব্যবহারের সুবিধার সুযোগ নিয়েও আজকাল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হচ্ছে। হ্যাকাররা কোনোভাবে ভুয়া বা ক্ষতিকর কোনো ওয়েব লিঙ্কের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে তাদের কম্পিউটারে একটি কিউআর কোড স্ক্যান করতে বাধ্য করে। একবার সেই কোড স্ক্যান হয়ে গেলে হ্যাকারদের কম্পিউটার ব্রাউজারে ব্যবহারকারীর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি লাইভ সিঙ্ক হয়ে যায়। এর ফলে ব্যবহারকারীর অজান্তেই তার সমস্ত মেসেজ ও ব্যক্তিগত তথ্য পড়তে শুরু করে হ্যাকাররা।

প্রতিরক্ষার উপায়

সাইবার অপরাধীদের এই সমস্ত বিপদজনক ফাঁদ থেকে নিজের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা জরুরি। প্রথমত, ভুলেও কখনো কারোর সঙ্গে নিজের অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন ওটিপি বা কোড শেয়ার করবেন না। দ্বিতীয়ত, অ্যাপের সেটিংস থেকে অবশ্যই টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন (Two-Step Verification) বা দ্বি-স্তর বিশিষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে রাখুন। তৃতীয়ত, অপরিচিত কোনো লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন এবং সবসময় গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপটিই ব্যবহার করুন। সামান্য সচেতনতাই পারে আপনার মূল্যবান অ্যাকাউন্টটি সুরক্ষিত রাখতে।

এজেড