নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৫১ পিএম
মোটরসাইকেল শোডাউনের রাজনীতি একদিন এলাকার নবম-দশম থেকে শুরু করে কলেজ ছাত্রীদের অনিরাপত্তার কারণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু।
শনিবার (২২ নভেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেছেন তিনি। এসময় পোস্টে তিনি এনসিপিরই আরেক নেত্রী সামান্তা শারমিনের সঙ্গে তোলা একটি ছবি দিয়েছেন।
ডা. মাহমুদা মিতু লিখেছেন, ‘যে নেতা আপনার দোকানে ঢুকে আয়রন করে, তাকে প্রশ্ন করেন ভাই মাসে কদিন এসে আয়রন করে দিয়ে যাবেন, যিনি বুকে জড়িয়ে ধরে, পকেটে টাকা গুজে দেয়, তাকে প্রশ্ন করেন কদিন টাকা দিবে?।’
‘নিউজে শুনলাম ঝালকাঠি-১ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আমার নামও ঘুরছে। মজার বিষয় হলো আমি তো দৌড়ঝাঁপই করছি না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যেখানে বড় গাড়ির বহর, মোটরসাইকেলের শোডাউন, লাউড স্পিকার এসব না হলে নাকি মানুষ আপনাকে ‘দেখতে’ পায় না।’
‘কিন্তু সত্যি কথা হলো, আমি যখন একজন সাধারণ নারী হিসেবে রাস্তায় হাঁটি, তখন হঠাৎ ৪–৫টা মোটরসাইকেল পাশ কাটিয়ে গেলে আমার মন কেঁপে ওঠে, ভয় পাই। মানেন আর না মানেন এই মটরসাইকেল শো ডাউনের রাজনীতি একদিন এলাকার নবম দশম থেকে শুরু করে কলেজ ছাত্রীদের অনিরাপত্তার কারণ হবে।’
ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, ‘যে সংস্কৃতিতে মানুষের নিরাপত্তা ভয়ের উৎস হয়ে যায়, সেই সংস্কৃতি বদলানোই তো একজন নেতার কাজ। গতকাল একটা ভিডিও দেখলাম, এম পি প্রার্থীর সামনে কিশোরী মেয়ে নাচছে ‘হাজার দর্শক মন মাতাইতা’ এতো দৃষ্টিকটু লাগছিল।’
তিনি বলেন, ‘কী বাজে কালচার। স্কুলে আমরাও নেচেছি ,নজরুল সঙ্গীত গেয়েছি, বিতর্ক আবৃত্তি করেছি। সেটা নতুন কুড়ির মতো। সেই সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে হবে। ইউনিয়ন লেভেলও এমন সংস্কৃতির চর্চা হতে হবে যেখানে চেচরিরামপুরের মত অবহেলিত ইউনিয়ন থেকেও একটা বাচ্চা স্বপ্ন দেখতে পারে যে তাকে নতুন কুড়ির মতো অনুষ্ঠানে সারা বাংলাদেশ দেখবে।’
তিনি বলেন, ‘পলিসি প্ল্যান না করে দৌড় ঝাপ ভিত্তিক, পেশিশক্তিভিত্তিক রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে নিজেদের সোচ্চার হতে হবে। আপনি নিজে যে অপসংস্কৃতিকে সাপোর্ট করছেন তার ভোগান্তি স্বীকার হবে আপনার সন্তান।’
এসএইচ/এএইচ