নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ আগস্ট ২০২৫, ১০:০৩ পিএম
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, ভজঘটভাবে দেশ চলছে। কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না, কে দেশ চালাচ্ছে। সরকারের মধ্যে আরেকটি সরকার আছে। সেই সরকারই নাকি দেশ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় চত্বরে দলের এক প্রতিবাদ সমাবেশে জিএম কাদের এ কথা বলেন।
জিএম কাদের বলেন, সরকারি দলও নাকি অনেকগুলো দাঁড়িয়ে গেছে, সেই সরকারী দলও নাকি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কোনো নিবন্ধন নেই, এমন সরকারি দলের কিছু অংশ সরকারে আছে আর কিছু অংশ বাইরে আছে। সরকারি দলের সব সুযোগ-সুবিধা তারা ভোগ করছে, তাদের বক্তব্য ও বিবৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে সরকার গ্রহণ করছে।
বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, এই বড় দুইটি দল আছে, যারাও সরকারি দলের মতোই সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে। আরো ছোট ছোট কিছু দল আছে, যারা কোনো দিন নির্বাচনই করেনি অথবা নির্বাচিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব পালন করেননি, তারাও কিন্তু সরকারি দলের সুযোগ সুবিধা লাভ করছেন।
জাপা চেয়ারম্যান বলেন, সরকারি দলের সবাই একজোট হয়ে নির্বাচন করবেন, কিন্তু এর বাইরে যে দলগুলো আছে তারা নির্বাচন করতে পারবে কি পারবে না তা নিয়ে রহস্য আছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এসব দল কি বাংলাদেশের সকল মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে? দেশে কি কোনো বিরোধী দল বা বিরোধী কন্ঠস্বর দরকার নেই? বেশিরভাগ মানুষই কি এই কয়েকটি দলের সমর্থক? সবাই কি এই দলগুলোকেই ভোট দেবে? দেশের দুই তৃতীয়াংশ মানুষ মানে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ মানুষ এই সরকারের কর্মকাণ্ডের বিরোধী।
জিএম কাদের বলেন, দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠির একমাত্র মুখপাত্র হচ্ছে জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টি এ দায়িত্ব পালন করে যাবে। আর এ কারণেই জাতীয় পার্টির উপর অত্যাচার ও নির্যাতন চলছে। বিগত সরকার জাতীয় পার্টির সঙ্গে যে ষড়যন্ত্র করেছে, এই সরকারও ঠিক সেই ষড়যন্ত্রই করছে। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। শুধু আমাকে নয়, জাতীয় পার্টির অনেক নেতাকর্মীর নামে মামলা দেওয়া হচ্ছে। বাদী, আইনজীবী ও বিচারকও জানে মামলাগুলি মিথ্যা। কিন্তু, মিথ্যা মামলা বন্ধ বা প্রত্যাহার হচ্ছে না।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টি মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, কো- চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, অ্যাড. মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, এমরান হোসেন মিয়া, এইচ এম শাহরিয়ার আসিফ, প্রফেসর মহসিনুল ইসলাম হাবুল, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, মেহেরুন্নেসা খান হেনা পন্নি, মোস্তাফিজুর রহমান আকাশ, মো. খলিলুর রহমান খলিল, ভাইস চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন আহমেদ মুক্তি, আহাদ ইউ চৌধুরী শাহীন, মো. হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব সামছুল হক, জুবের আলম খান রবিন, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী অর্ণব, তাতী পার্টির সদস্য সচিব মোক্তার হোসেন, ওলামা পার্টির সদস্য সচিব মুফতি ফিরোজ শাহ, কৃষক পার্টির সদস্য সচিব মোঃ আব্দুস কুদ্দুস মানিক, সাংস্কৃতিক পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক সুজন, ছাত্র সমাজ এর যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল রেজা প্রমুখ।
এমআর/ক.ম