images

রাজনীতি

চট্টগ্রাম বন্দর কোনোভাবেই বিদেশিদের দেওয়া যাবে না: গয়েশ্বর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৫ মে ২০২৫, ০৪:৪৫ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে দেওয়া যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। রোববার (২৫ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সভায় তিনি একথা বলেন।

সভায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, দেশে তো দুর্নীতি কমেনি বরং বেড়েছে। কারণ হাসিনার আমলের ওই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা এখনও রয়ে গেছে। এই সরকার তো দুর্নীতি রোধে হাত দেননি। কয়জনকে ধরা হয়েছে? ধরার উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি বিচারও করেনি।

এই মুহূর্তে দেশ ও বন্দর বাঁচানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এমন মন্তব্য করে গয়েশ্বর রায় বলেন, আজকে মানুষ বলাবলি করছেন যে, ড. ইউনূসের যত সুবিধা নেওয়া দরকার তাই নেবেন এবং সেজন্য তিনি দেহত্যাগ করলেও পদত্যাগ করবেন না। বন্দর চালানো যদি দেশে লোক না থাকে তাহলে বিদেশ থেকে আমরা এক্সপার্ট আনতে পারি। যেমনটি গার্মেন্টস শিল্প উন্নয়নে বিদেশের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছিলো। চট্টগ্রাম বন্দর কোনোভাবেই বিদেশিদের দেওয়া যাবে না।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে দেশ বাঁচাও বন্দর বাঁচাও আন্দোলন।

হাসিনা পতনের আন্দোলন প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, আমরা ৩১ দফা নিয়ে আন্দোলনে আছি। মাঝখানে যুগপৎ আন্দোলন শুরু হয়। এরপর শিক্ষার্থীরাও আসেন। অর্থাৎ সংস্কার নিয়ে আমরা তো একমত আছি। বৃহত্তর রাজনৈতিক দলগুলো তো একমত। তাদেরকে ডেকে পরামর্শ নিয়ে সংস্কারের পথ ত্বরান্বিত করেন।

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, আজকে দেশ বাঁচাতে গিয়ে সবাই গণতন্ত্রের প্রশ্নে একমত। আমরা চাই ড. ইউনূস সফল হোক। তিনি সফল মানে তো জুলাই অভ্যুত্থানের সফলতা। আজকে ছাত্ররা ডেইলি সচিবালয়ে যায় কেন? ওসির টেবিলের সামনে বসে থাকে কেন? আমাদেরকে অন্য কিছু মনে করবেন না। তবে আমরা লড়াই করা জাতি। গণতন্ত্র, জনগণের মৌলিক ভোটাধিকার নিশ্চিত হওয়ার আগে যেন ঈশ্বর আমার মৃ্ত্যু না দেয়।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ও দেশ বাঁচাও বন্দর বাঁচাও আন্দোলনের মূল সমন্বয়ক শাহাদাত হোসেন সেলিম।

বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন সেলিম বলেন, ১৩৮ বছর আগে চট্টগ্রাম বন্দর চালু হয়েছে। পিতার চাকরি সূত্রে আমার জন্ম চট্টগ্রাম বন্দরে। চট্টগ্রাম বন্দর একটি প্রাকৃতিক বন্দর। সেটি জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে। অর্থাৎ জাহাজ ভেড়াতে জোয়ার-ভাটার দরকার হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও কলম্বো থেকে ফিডার জাহাজে এক হাজার থেকে আড়াইহাজার কন্টেইনার সম্বলিত জাহাজ ভেড়ে। সেখানে একটি বাঁক থাকার কারণে ১৯০ মিটারের বেশি বড় জাহাজ ভেড়ানো যায় না। বিশ্বের কোনো শক্তি এসে সেখানে এর চেয়ে বড় জাহাজ ভেড়াতে পারবে না। বরং আমরা নতুনভাবে বে-টার্মিনাল নির্মাণের কথা বলছি। যাতে বন্দর সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে না যায়। বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দিলে তারা নিজের মতো করে ট্যারিফ নির্ধারণ করবে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, যেকোনো বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উত্তম। বাংলাদেশের যে সম্পদ তা খুব সীমিত। যার মধ্যে বঙ্গোপসাগর এবং চট্টগ্রাম বন্দর অন্যতম। ফলে দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। বন্দর দেওয়ার বিষয়ে গণশুনানি করুন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করুন। কারণ আপনারা তো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। সরকারের উচিত অতিদ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা।

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আমরা কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেছি। আজকে এ বিষয়ে সকলে সোচ্চার হয়েছেন। বর্তমান সরকারের চিন্তা ভাবনা করা দরকার ছিল। সবকিছু করার ম্যান্ডেট তো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেই। তাদের কাজ হলো গণহত্যার বিচার করা আহতদের সুচিকিৎসা করা, নিহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া, সংস্কার দ্রুত শেষ করে নির্বাচন দেওয়া। বন্দর লিজ দেওয়া, এনবিআর ভাঙা আপনাদের কাজ না।

বিইউ/এফএ