জেলা প্রতিনিধি
০২ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:২৯ পিএম
ফরিদপুরে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন। এ সময় ফরিদপুরে কোনো কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী টাকা ছড়াচ্ছে এমন ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তারা টাকা ছড়াতে থাকুক। ফরিদপুরের মানুষ টাকায় বিক্রি হয় না। এরা নৌকাকে ভালোবাসে। এ সময় ফরিদপুরকে ‘বঙ্গবন্ধুর মাটি, নৌকার ঘাঁটি’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেন তাঁর কন্যা।
মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। এ সময় তিনি দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও মাগুরার মানুষের কাছে আবারো নৌকার প্রার্থীদের জন্য ভোট প্রার্থনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুনেছি অনেক প্রার্থী টাকা ছড়াচ্ছেন, তাতে কী, গরিব মানুষ টাকা পাচ্ছে। তবে টাকা দিয়ে মানুষ কেনা যায় না, ফরিদপুরের মানুষ টাকায় বিক্রি হয় না। এই মাটি বঙ্গবন্ধুর মাটি ও নৌকার ঘাঁটি।’
বেলা দেড়টার দিকে কোরআন তেলোয়াত, গীতা পাঠ শেষে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী বেলা সাড়ে ৩টার দিকে জনসভায় আসেন। তারপর প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার বক্তব্যে তার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন। উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে দেশকে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য আবারো নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী।
এসময় তিনি নৌকা প্রতীককে নূহ নবীর প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, নৌকা মানুষকে বিপদ থেকে রক্ষা করে। আজ বাংলাদেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলছে।
ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হকের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগ প্রধান দেশের দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রসঙ্গে বলেন, ইউক্রেন- রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে আমাদের আমদানিকৃত সব পণ্যের অধিক মূল্য দিয়ে কিনতে হচ্ছে। যে কারণে মূল্যস্ফীতি হচ্ছে। কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে অনেক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার সময় খেটে খাওয়া মানুষের কথা চিন্তা করে আমরা টিসিবির মাধ্যমে পাঁচ কোটি মানুষকে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য দেওয়া শুরু করেছি, যা এখনো চলমান। এছাড়াও আমরা বিধবা, বয়স্ক, মাতৃত্বকালীন, প্রতিবন্ধীদের কথা চিন্তা করে সরকারিভাবে ভাতার ব্যবস্থা করেছি। ভূমিহীন ও গৃহহীনদের নিজের থাকার ব্যবস্থা করেছি, যা পৃথিবীতে মডেল। বর্তমানে দেশের ৩৩টি জেলা ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত, পর্যায়ক্রমে সব জেলাও এর আওতায় আসবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপি-জামায়াত সরকারের শাসনামলের সমালোচনা করে সরকারপ্রধান বলেন, সেই সরকার দেশকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছিল, দেশের গ্যাসসম্পদ বিক্রি করেই তারা ক্ষমতায় এসেছিল। ২০০৮ সালে বিএনপি পেয়েছিল মাত্র ৩০টি আসন। ২০১৪ সালে বিএনপির নির্বাচনে আসেনি, ২০১৮ সালে মনোনয়ন বাণিজ্য করে নিজ দলের ভরাডুবি হয়েছিল। আমরা ক্ষমতায় আসার পর আস্তে আস্তে দেশের অর্থনীতিকে দাঁড় করিয়েছি। আমার দলের নিবেদিত কর্মীরাই সবসময় দলের পাশে থেকেছে বলে আজ আমরা ক্ষমতায়। আমরা সবধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি দেশকে এগিয়ে নিতে।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আমরা হাইটেক পার্কের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আমরা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে ডিজিটাল বাংলাশেদ গড়ার কাজে হাত দিয়েছি, আজ তার বাস্তবায়ন হয়েছে। এখন মানুষে হাতে হাতে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট। আমাদের ছেলেমেয়েদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার জন্য প্রত্যেক স্কুলে কম্পিউটর ল্যাব স্থাপন করে দিয়েছি। এখন অনেকে ফ্রিল্যান্সিং করে দেশে বসে থেকে বিদেশ থেকে টাকা আয় করছে।
এছাড়াও সরকারপ্রধান সবাইকে অনুরোধ করেন, এক ইঞ্চি জমিও ফেলে রাখবেন না। আমিও গণভবনে কৃষি খামার গড়ে তুলেছি। আপনারা হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল পালন ও মৎস্য চাষ করবেন।
আগামী ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবেন বলে অঙ্গীকার করেন দলটির প্রধান।
নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন ফরিদপুর-১ আসনের নৌকার প্রার্থী আব্দুর রহমান, ফরিদপুর-২ আসনের নৌকার প্রার্থী শাহদাব আকবার লাবু, মাগুরা-১ আসনে নৌকার প্রার্থী ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হোসনে মিয়া, পৌর মেয়র অমিতাভ বোস প্রমুখ।
এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী ১ ও ২ আসনের নৌকার প্রার্থী কেরামত কাজী ও জিল্লুল হাকিম। এছাড়া মাগুরা-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শেখর।
সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা নৌকার মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে মিছিল আর স্লোগানে নির্বাচনী জনসভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন।
প্রতিনিধি/জেবি