জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৬:১০ পিএম
বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী মাঝে বিকল্পধারা বাংলাদেশে যুক্ত হলেও রাজনীতিতে খুব একটা সক্রিয় ছিলেন না। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার তৃণমূল বিএনপির নেতৃত্বে এসেছেন সাবেক এই কূটনীতিক। নতুন দলে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শমসের মবিন বলেছেন, ‘তৃণমূল শব্দটা আমার কাছে খুব পছন্দ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ করেছে তৃণমূলের মানুষ। আজকে বাংলাদেশের তৃণমূলের মানুষ বঞ্চিত, তাদের মূল্যায়ন হয় না। আমি চেষ্টা করব তাদের কথা বলতে।’
অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা ও বহিষ্কৃত নেতা তৈমূর আলম খন্দকার নতুন দলে যোগ দিয়ে বলেছেন, ‘একটা নিয়মের বাইরে তো আমি চলতে পারি না। আমি আগে যে রাজনৈতিক দল করতাম সেই দলের সঙ্গে তৃণমূল বিএনপির আদর্শগত মিল রয়েছে। এছাড়া ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। তিনি এই দলটারও প্রতিষ্ঠাতা। সে কারণেই এই দলে যোগ দিয়েছি।’
মঙ্গলবার ১৯ (সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে তৃণমূল বিএনপির জাতীয় সম্মেলনে শমসের মবিন চেয়ারপারসন ও তৈমূর আলম খন্দকার মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন। পরে এই দুই নেতা সাংবাদিকদের কাছে দলে যোগ দেওয়ার কারণ জানান।
আরও পড়ুন: তৃণমূল বিএনপির নেতৃত্বে শমসের-তৈমূর
কাউন্সিলের শেষে দলটির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আশানুর রহমান ২৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন।
নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলটি গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাতা নাজমুল হুদার জ্যেষ্ঠ কন্যা অন্তরা সেলিমা হুদাকে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে এক্সিকিউটিভ চেয়ারপারসন নির্বাচিত করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে স্মরণ করে শমসের মবিন বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমাকে পাকিস্তানি মিলিটারিরা আট মাস বন্দী করে রেখেছে, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হতে। আমি বলেছি, আমি মৃত্যুকে ডরাই না।’
তৃণমূল বিএনপির নবনির্বাচিত চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা লগি-বৈঠার রাজনীতি দেখতে চাই না, আর মানুষের হত্যা দেখতে চাই না। বাস-ট্রাক পোড়ানোর সহিংসতাও দেখতে চাই না। আমরা চাই অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। সেটা সম্ভব যদি প্রশাসন নিরপেক্ষ ও পেশাদারিত্ব ভূমিকা পালন করে। নির্বাচন কমিশন যদি তার ক্ষমতার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারে। তাহলে আগামী সংসদ নির্বাচনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে।’
সংসদীয় আসন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে শমসের মবিন বলেন, ‘দেশে যখন সাত কোটি মানুষ ছিল তখনও সংসদীয় আসন ছিল ৩০০, এখন ১৭ কোটি মানুষ বসবাস করে, তবু সংসদীয় আসন বাড়েনি। আমি মনে প্রতিটি উপজেলা থেকে একজন সংসদ সদস্য নির্বাচন করতে হবে। এই ধরনের সুপারিশ তৃণমূলের ইশতেহারে থাকবে।’

বিএনপি ছেড়ে তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, ‘বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর দেড় বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। আমি অপেক্ষা করেছি- আমাকে শোকজ নোটিশ দেবে, সেটার জবাব আমি দেব। এই দেড় বছর আমি বিএনপির পতাকা বহন করেছি।’
আরও পড়ুন: তৃণমূল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই পেলেন যারা
তৃণমূল বিএনপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই দলটার জবাবদিহিতা থাকবে। কেউ কারও ওপর কোনো ধরনের খবরদারি করবে না। আমাদের দলটা দেখবে এই দেশে রাজনীতি করা বা নির্বাচনের পরিবেশ আছে কি না? কতটুকু পরিবেশ আছে সেটা বিবেচনা করেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা হবে।’
‘তৃণমূল বিএনপি কোনো কোম্পানি হবে না’ ঘোষণা করে তৈমুর বলেন, ‘ভূমিদস্যু, ব্যাংক লুটেরা, অর্থ পাচারকারীদের জায়গা তৃণমূল বিএনপিতে হবে না। এটা কোনো লিমিটেড কোম্পানি হবে না। যারা ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, মানুষের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, তাদের জন্য এই দলের দরজা খোলা।’
তৈমূর বলেন, ‘আমি একটা রাজনৈতিক দল করেছি। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাজনীতি করেছি। আজকে আমি তার মুক্তি ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।’
তৃণমূল বিএনপি প্রসঙ্গে তৈমূর বলেন, ‘এই দলটার জবাবদিহিতা থাকবে। কেউ কারও ওপর কোনো ধরনের খবরদারি করবে না। আমাদের দলটা দেখবে এই দেশে রাজনীতি করা বা নির্বাচনের পরিবেশ আছে কি না? কতটুকু পরিবেশ আছে সেটা বিবেচনা করেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা হবে।’
তৃণমূল বিএনপির প্রথম কাউন্সিলে অংশ নেন তরিকত ফেডারেশন, জেএসপি, পিপল পাটি লিবাবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, জাতীয় ঐক্যজোট, গণ আজাদী লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক লীগ, বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি, বাংলাদেশ জনতা ফ্রন্ট, স্বাধীন পার্টি, উন্নয়ন পার্টি, ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক পার্টি, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টি, বিএসপি, প্রগতিশীল ন্যাপ ও ইসলাম গণতন্ত্রী পার্টিসহ অর্ধশতাধিক নিবন্ধিত অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নেতা।
বিইউ/জেবি