ঢাকা মেইল ডেস্ক
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০১ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বমঞ্চে একটি শক্তিশালী সূচনা করেছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও এর পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন আয়োজনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বক্তব্য দেন এবং গণতন্ত্র, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
পাশাপাশি তিনি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।
বাবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ যেমন একটি ঐতিহাসিক ব্যতিক্রমী ও মাইলফলক, তেমনি যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমানের সুরের প্রতিধ্বনি তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে প্রতিধ্বনিত করেছেন। গাজা ও ইরানে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
একইভাবে, ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর বৈঠক বাংলাদেশের বৃহত্তর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ, বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের বিষয়টি তুলে ধরে। তিনি ও তাঁর স্ত্রী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আয়োজিত একটি নৈশভোজেও আমন্ত্রিত ছিলেন। এ ছাড়া বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি এবং বিশ্বব্যাংক ও গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরটি ছিল ব্যস্ত, গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমুখী—যেখানে কূটনীতি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নমূলক সম্পৃক্ততা একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশ ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।
এটি শুধু বাবা-মায়ের ধারাবাহিকতা নয়, বিশ্বে বিরাজমান যুদ্ধ-বিগ্রহ নিরসন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় তারেক রহমানের উচ্চকণ্ঠ বিশ্বনেতাদের কাছে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হবে বলে মনে হচ্ছে। জাতিসংঘে এবারের বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্ববাসীর কাছে অত্যন্ত কার্যকরভাবে প্রতিভাত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান অবশ্যই একটি ধন্যবাদ পেতেই পারেন। জাতিসংঘে সগৌরবে দেশের গৌরবান্বিত অবদানের জন্য অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ফার্স্ট লেডি ডা. জোবাইদা রহমান। জাতিসংঘে আইন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করায় অভিনন্দন ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে।
এরপরও জনগণের একটি অংশ প্রশ্ন করতেই পারেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘে ভাষণে বাংলাদেশের জনগণের কতটুকু লাভ হয়েছে? ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি তাঁর ভাষণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা করেছেন। এর মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তা, বাংলাদেশের LDC উত্তরণে বাজার ও অর্থায়ন সুবিধা, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো সরাসরি তুলে ধরেছেন। একই সফরে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে জ্বালানি ও সরবরাহ-ব্যবস্থার বৈশ্বিক ধাক্কা মোকাবিলা এবং যুব উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে সহায়তার বিষয়ও আলোচিত হয়েছে।
ভাষণ প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক লাভ-ক্ষতির হিসাব-নিকাশ করা সম্ভব নয়। তবে ভাষণ ও সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক বৈঠকগুলো বাংলাদেশের দাবি ও অগ্রাধিকারগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার একটি সুযোগ তৈরি করেছে। প্রকৃত লাভ নির্ভর করবে পরবর্তীতে কতটুকু আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, বাণিজ্য সুবিধা, বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি এবং জলবায়ু সহায়তা বাস্তবে বাংলাদেশে আসে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে তার কী প্রভাব পড়ে, তার ওপর।
এরপরও এতটুকু জোর দিয়ে বলা যায়, ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক চলমান জ্বালানি সংকটের নিরসনের দ্বার উন্মুক্ত করতে পারে। জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রীর বিশ্রামহীন অসংখ্য বৈঠক আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ আরও বিস্তৃত করবে, এমন আশাও করা যায়। এক কথায় বলা যায়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর যেমন অনেক ব্যতিক্রমী ঘটনার সৃষ্টি করেছে, তেমনি বাংলাদেশের মানুষের জন্য বহুবিধ সুখবর বয়ে আনবে বলে আশা করাই যায়।
লেখক: যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের সলিসিটর ও ব্যারিস্টার।
এআর