Dhaka Mail Logo

মতামত

পরিচ্ছন্ন-পরিপাটিই অর্থনৈতিক অগ্রগতির চাবিকাঠি

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

দেশের উন্নয়ন করতে হলে আমাদের হতে হবে সকল কাজে পরিচ্ছন্ন-পরিপাটি। নৈতিকতার দৃষ্টিতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দুটি দিক আছে। বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা ও আত্মিক পরিচ্ছন্নতা। শরীর, পোশাক, বসবাসস্থল, কর্মস্থল, রাস্তাঘাট ও আমাদের আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখাই হলো বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা আর অন্তরের হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার, মিথ্যাচার, গীবত, চোগলখুরি, প্রতারণা ইত্যাদি অন্যায় থেকে অন্তরকে মুক্ত রাখাই হলো আত্মিক পরিচ্ছন্নতা। আজকের এ লেখা বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা নিয়ে শুধুমাত্র আমাদের জানা কথাগুলো স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য।

অন্যদিকে পরিপাটি হলো, সব কাজ হবে পরিকল্পিত, গোছানো শৃঙ্খলার সঙ্গে। রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন, বাধাহীন হলে আপনার চলাচলের গতি বাড়বে, যাতায়াতে সময় কমবে অর্থাৎ, অল্প সময়ের মধ্যে অধিক কাজ করতে পারবেন। সঙ্গে জ্বালানি খরচ কমবে। এভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও হবে।

চলুন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানটি ব্যক্তি পর্যায় থেকেই শুরু করি। ধরুন আপনি আপনার শরীর, ব্যবহার্য পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিবারের ব্যবহার্য জিনিসপত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং পরিপাটি অর্থাৎ সাজানো গোছানো রাখলেন। বস্তুত এর মাধ্যমে একদিকে যেমন আপনার ব্যক্তিত্ব ও উন্নত রুচিবোধ ফুটিয়ে তুলবে অন্যদিকে আপনার ব্যক্তিগত সময় ও শ্রমের সাশ্রয় হবে। অপরিচ্ছন্ন জিনিসপত্রের ব্যবহার, অপরিচ্ছন্ন খাদ্যাভাস যেমন আপনাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ করবে। তেমনি সময় ও শ্রম নষ্ট হবে। বাসার জিনিসপত্র যদি পরিষ্কার করে যথাস্থানে সাজিয়ে গুছিয়ে পরিপাটি করে না রাখেন তাহলে প্রয়োজনের সময় আপনি প্রয়োজনীয় জিনিসটি যথাস্থানে পাবেন না। খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে যাবেন। সময় নষ্ট হবে। ব্যবহারের কাঁচের গ্লাসটি, খাবার প্লেটটি, তেলের ড্রামটি যথাস্থানে না রেখে এলোমেলো রাখার কারণে চলাচলে ধাক্কা লেগে ক্ষতি হতে পারে। এরপর আপনি পরিবারের সদস্যদের ওপর বিরক্ত হবেন।

পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি ঘটবে। সময়ের অপচয় হলে তখন জরুরি কাজ সম্পাদনে সময় পাবেন না। আপনার পেশাগত বা অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। এরপর আসে সামাজিক পরিচ্ছন্নতা, আপনার বাসা, অফিস, ব্যবসা কেন্দ্র ও চলাচলের রাস্তাঘাট যদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, গোছানো, পরিপাটি না থাকে তাহলে আপনি চলাচলে স্বস্তি পাবেন না, ট্রাফিক জ্যামে সময় অপচয় হবে, একজন কর্মজীবী মানুষের প্রতিদিন কয়েকঘণ্টা কর্মঘণ্টা জ্যামে আটকা পড়ে নষ্ট হয়, হাজার হাজার মানুষের প্রতিদিন হাজার হাজার ঘণ্টা মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। এ সময় শুধু ব্যক্তি জীবনের নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতির ও সম্পদ। রাস্তাঘাটের ময়লা, আবর্জনা আপনার দুর্ঘটনারও কারণ হতে পারে। রাস্তায় পড়ে থাকা একটি কলার খোসায় পা পিছলে দুর্ঘটনার স্বীকার হতে পারেন, ইটের একটি টুকরায় পায়ে আঘাত পেতে পারেন। আরো কত কিছু হতে পারে।

রাস্তাঘাটে অপরিকল্পিত মালামাল রাখা, গাড়ি পার্কিং, নগরের নর্দমা, খাল, জলাশয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও পরিপাটির অংশ।  ট্রাফিক জ্যামে পড়ে আপনার সময় নষ্ট হবে, মেজাজ ও নষ্ট হবে। মূল কাজ করার সময় সংকুচিত হবে। ফলে আপনার অর্থনৈতিক কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হবে। একইভাবে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, নগরের নর্দমা, খাল জলাশয় অপরিচ্ছন্নতা রোগ বালাই বৃদ্ধি করবে। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন হলে এত হাসপাতালের দরকার পড়বে না, চিকিৎসা খাতের ব্যয় সাশ্রয় হবে। উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকান, পৃথিবীতে এমন কোন দেশ পাবেন না যে দেশ উন্নত অথচ অপরিচ্ছন্ন, অপরিপাটি, বিশৃঙ্খল। প্রতিটি উন্নত দেশ পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি ও শৃঙ্খল। আমাদের প্রিয়তম রাজধানী আজ বিশ্বের বসবাসের অনুপযোগী শহরের মধ্যে তৃতীয়। আমরা পরিচ্ছন্নতাকে শুধুমাত্র সৌন্দর্যের বিষয় হিসেবে দেখি। আসলে এর সাথে রয়েছে অর্থনৈতিক গভীর সম্পর্ক।

এ দেশকে পরিচ্ছন্ন পরিপাটি করতে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও আমাদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন দরকার। আমাদের আন্ডারস্টান্ডিং (understanding) এ গণ্ডগোল রয়েছে। আমরা মনে করি, আমার যেখানে ইচ্ছা বা সুবিধা সেখানেই আমি ময়লা ফেলব, যেখানে ইচ্ছা বা সুবিধা গাড়ি পার্ক করব, যেখানে ইচ্ছা দোকান বসাব, এটা আমার অধিকার। অথচ এর মাধ্যমে আপনি স্বাস্থ্যকর, সুস্থ্য, বাধাহীন পরিবেশে অন্যের চলাচলের অধিকারকে হরণ করছেন। এটা আপনার অধিকার নয়, এটা অন্যায়। মহান আল্লাহ তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালবাসেন- (সুরা বাকারা-২২২)।

এ সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সা.) এর কথা বলতেই হয়। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে, তার মধ্যে সর্বোত্তম শাখা হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা, আর সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া। আর লজ্জা হলো ঈমানের একটি শাখা। (সহিহ মুসলিম-৩৫)। অপর এক হাদিসে বলা হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, “পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক” (সহিহ মুসলিম-২২৩)।

পাঠকগণ লক্ষ্য করুন, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা হলো ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপনি যদি এ কাজটি না করেন তাহলে সেটা আপনার ঈমান ঘাটতির কারণে হলো। আর যদি আপনি এর উল্টো কাজগুলো করেন অর্থাৎ রাস্তাঘাটে ময়লা ফেলেন, অবৈধভাবে মালামাল রাখেন, দোকানপাট বসান, অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করেন তাহলে ঈমানের উল্টো কাজ করা হলো, এভাবে আমাদের ঈমান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এজন্য আমরা বলতে পারি রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া নাগরিকের শুধু দায়িত্ব নয় এটা অবশ্য করণীয় বা দায়বদ্ধতা (obligation)।

আমার দেখা কয়েকটি ঘটনা বলছি। একদিন পাবনা সফরের পথে মানিকগঞ্জে পৌঁছে আসরের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদের অজু খানায় গেলাম। দেখলাম অজু খানার পানি নিষ্কাশন লাইনে ময়লা আবর্জনা জমে আছে, কর্তৃপক্ষ ময়লা পরিষ্কার না করে তারই ওপরে সাবানদানিতে দুর্গন্ধ দূর করার জন্য ন্যাপথলিন দেওয়া আছে। বুঝেন! মানুষের understanding! এজন্যই আমি বলি আমাদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন দরকার।

আরেক সফরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেলস্টেশনে দেখলাম প্লাস্টিকের নীল ডাস্টবিন আছে কিন্তু অনেকে ময়লা ফেলছে তার বাইরে, এ চিত্র সবখানেই আছে। আমার এক জুনিয়র সহকর্মী থেকে শুনা ঘটনা, আফ্রিকান এক দেশে সরকারি কাজে সরকারের সামরিক-বেসামরিক মিলে ৩-৪ জন কর্মকর্তা দূতাবাস থেকে প্রেরিত গাড়িতে এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলের পথে যাচ্ছেন। এক পর্যায়ে একজন কর্মকর্তা বিস্কুট বা চিপসের মোড়ক গাড়ির জানালা খুলে বাইরে নিক্ষেপ করলেন, সঙ্গে সঙ্গে দ্রুতগতির গাড়ি ড্রাইভার ব্রেক করে থামালেন এবং পেছনে হেঁটে গিয়ে ড্রাইভার ছুড়ে ফেলে দেওয়া মোড়ক/ঠোঙাটি উঠিয়ে নিলেন এবং কোন কথা না বলে চুপচাপ গাড়ি চালাতে লাগলেন, কি বুঝলেন পাঠকরা? আফ্রিকান এক ড্রাইভারের দায়িত্ববোধ থেকে আমাদের কি কিছুই শেখার নেই?

আমাদের অনেকেরই মনোভাব এমন সম্ভব হলে সিটি কর্পোরেশনের লোকজন আমাদের বাসা-বাড়ির আঙ্গিনাও ঝাড়ু দিয়ে যাক। এরূপ চাইলে আপনি যে আয় করবেন তবে সিংহভাগ ট্যাক্স দিতে হবে সরকারকে। কারণ আপনার আমার ফেলা বর্জ্য সরাতে কর্পোরেশনকে অধিক সংখ্যক লোকবল নিয়োগের প্রয়োজন হবে। সুতরাং “দায়িত্ব পালন নতুবা অধিক পরিমাণ ট্যাক্স প্রদান”, কোনটি গ্রহণ করবেন সিদ্ধান্ত আপনার আমার।  উন্নত বিশ্বে নিজ বাড়ির সামনে ময়লা আবর্জনা এমনকি নির্দিষ্ট সময় পর বরফ জমে থাকলে জরিমানা গুনতে হয়। নাগরিকদের দায়বদ্ধ করতে না পারলে কখনোই শহর বন্দর পরিচ্ছন্ন পরিপাটি হবে না।

এ অভ্যাস তৈরি ও অনুশীলন শুরু হতে হবে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে, স্কুল পর্যায়ের পাঠ্যবইয়ে বিষয়ে প্রবন্ধ থাকতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম রাখতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে শিক্ষকদের এর পরিচর্যা/অনুশীলন করতে হবে। পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস আমাদের শৈশব থেকেই গড়ে তুলতে হবে, শিশুদের নিজেদের বিছানা, পড়ার টেবিল, বই খাতা, পোশাক ও ব্যবহৃত স্থান পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলা এবং জনগণের চলাচলের স্থান পরিচ্ছন্ন রাখার শিক্ষা দিতে হবে। তবে পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব শুধু ব্যক্তির ওপর ছেড়ে দিলে হবে না,  রাষ্ট্রকেও একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ যা করতে পারেন; প্রথমত ফুটপাত, মার্কেট, দোকান, কলকারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, বিভিন্ন স্টেশনসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব এলাকা পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে তাদের বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। দোকান প্রতিটা দোকান বা প্রতিষ্ঠানের সামনে নির্দিষ্ট ময়লার ড্রাম রাখা এবং উৎপাদিত বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে সাময়িক সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের অফিস, আবাসিক এলাকা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান যদি নিজেরাই দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, তাহলে সাধারণ মানুষও উৎসাহিত হবে।

দ্বিতীয়ত; দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে শুধু নির্দেশনা জারি করলেই হবে না। বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করতে হবে হচ্ছে কিনা তাও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

তৃতীয়ত; সচেতনতা ও সর্তকতার পাশাপাশি প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করতে হবে। তবে শাস্তির আগে ব্যাপক জনসচেতনতা ও পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরী।

চতুর্থত; মফস্বল এলাকায়ও বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট স্থান বা সংগ্রহ কেন্দ্র থাকতে হবে। মানুষ সেখানে ময়লা ফেলবে এবং নির্ধারিত সময়ে সরকারি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত বর্জ্যবাহী গাড়ি সেগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে যাবে। এতে রাস্তার পাশে ময়লা ফেলার প্রবণতা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা যায়।

পঞ্চমত; বর্জ্যকে তো শুধু আবর্জনা হিসেবে না দেখে সম্পদে পরিণত করার সরকারি উদ্যোগে আরো জোরদার করতে হবে!

আমরা রাস্তাঘাটে চলতে-ফিরতে হাতের ময়লাটা ফেলতে কাছাকাছি ডাস্টবিন পাইনা, চুরি হওয়ার অজুহাতে ঢাকায় ডাস্টবিন প্রকল্প বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। ডিসিসি ইতোমধ্যে কিছু উদ্যোগ নিয়েছে যেমন “ক্লিন কেয়ার” নামে অ্যাপস খুলেছে। সেখানে নাগরিকরা ময়লা আবর্জনা কোথায় আছে সেটার তথ্য এমনকি ছবি ভিডিও আপলোড করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারছেন, সরকারের আরেক উদ্যোগ বর্জ্য জমা দিলেই মিলবে চাল, ডাল,  তেল, লবণ। এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের জরিমানার বিধান আরো কঠোর করতে হবে, ই-রিকশা চালুর উদ্যোগও প্রশংসনীয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের গৃহীত ০৩ (তিন) মাসব্যাপী কার্যক্রমের সফলতা কামনা করছি। এসব উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করছে জনসম্পৃক্ততা ও যথাযথ আইন প্রয়োগের উপর।

পরিশেষে বলব, পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি শব্দটির মধ্যে নিহিত রয়েছে সকল কিছুর শৃঙ্খলা, মানুষের চলাচলের গতি বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি তথা অর্থনৈতিক উন্নয়ন। “পরিচ্ছন্ন পরিপাটি অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি”। এটি হতে হবে রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য নীতি। সরকার, বেসরকারি সংস্থা ও জনগণ সবাই এই তিন নীতিতে বিশ্বাসী হলে একটি সুস্থ্য পরিবার, পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বেগবান হবে। এভাবে পাবো আমরা স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ।

লেখক: চাকরিজীবী ও সমাজচিন্তক