০৩ জুন ২০২৬, ০২:১৫ পিএম
আসসালামু আলাইকুম। বাংলাদেশ থেকে সারা বিশ্বে জানাই শুভ সকাল। সবার জন্য সুখ, শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনা করি। বিশ্ব হোক আরও মানবিক, আরও ন্যায়ভিত্তিক এবং আরও শান্তিময়।
আজকের বাংলাদেশের সকাল যেন জাতিসংঘময়। বিশ্বের প্রায় ১৯০টি দেশের কাছে বাংলাদেশ আজ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এটি শুধু একজন ব্যক্তির অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থার এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি। অভিনন্দন ইউএনজিএ প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ড. খলিলুর রহমান, এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের দ্বিতীয় নাগরিক হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব লাভ করলেন। প্রায় চার দশক আগে, ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব এবং পরবর্তীকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। সেই গৌরবময় অধ্যায়ের ধারাবাহিকতায় আজ আবারও বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা উড়লো নতুন উচ্চতায়।
এই অর্জনের পেছনে বাংলাদেশের দীর্ঘ কূটনৈতিক যাত্রার ইতিহাস রয়েছে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘স্মার্ট অ্যান্ড শাটল ডিপিলোমেসি’র ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি আত্মমর্যাদাশীল, দায়িত্বশীল ও সক্রিয় রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করে। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে শুধুমাত্র প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত ও বৈদেশিক সাহায্যনির্ভর দেশ হিসেবে দেখার যে মানসিকতা ছিল, তা ধীরে ধীরে বদলে যায়। বিশ্ব সম্প্রদায় বাংলাদেশকে শান্তিরক্ষা, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে মূল্যায়ন করতে শুরু করে।
বাংলাদেশের সেই ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতারই প্রতিফলন দেখা যায় ১৯৭৯ সালে, যখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচনে জাপানকে হারিয়ে বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে বিশ্ব অঙ্গনে নিজের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করে।
ড. খলিলুর রহমানকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। একই সঙ্গে অভিনন্দন সংশ্লিষ্ট সকলকে, যাদের প্রচেষ্টা, নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতায় বাংলাদেশের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। এই নির্বাচন তার প্রজ্ঞা, কূটনৈতিক দক্ষতা এবং জাতিসংঘের আদর্শ ও মূল্যবোধের প্রতি তার অঙ্গীকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তার নেতৃত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, টেকসই উন্নয়ন, শান্তি ও বৈশ্বিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। আমি তার সফল ও ফলপ্রসূ মেয়াদ কামনা করি। বিশ্ব যে বহুমাত্রিক সংকট, সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য ও বৈষম্যের মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, সেগুলো মোকাবিলায় তার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলেই আমার বিশ্বাস।
আজ ব্যক্তিগতভাবেও এক ধরনের গর্ব অনুভব করছি। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নানা পর্যায়ে ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে আমার দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, গবেষণা, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, নীতিপত্র প্রণয়ন এবং বিভিন্ন থিম তৈরির স্মৃতি আজ মনে পড়ছে। দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমরা বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের নানা বিষয় নিয়ে কাজ করেছি। এমনকি এক পর্যায়ে মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উদ্দেশে একটি চিঠির খসড়া প্রস্তুত করেছিলাম, যেটা ড. খলিল স্যার দেখে দিয়েছিলেন, পরে ১৫১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি স্বাক্ষর করেছিলাম। এছাড়াও পরে আরও কয়েকটি হাই প্রোফাইল চিঠি দিয়েছিলাম। আজকের এই অর্জনের দিনে সেই স্মৃতিগুলো বিশেষভাবে মনে পড়ছে। মহান আল্লাহর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।
ছোট্ট আরেকটি বিষয়, গতকাল আমি আর্জি রেখেছিলাম- ‘বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে একটি শিশুর প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। এটি ধর্মীয় নয়, বরং সরাসরি জননিরাপত্তার বিষয়। দ্রুত নিরাপত্তা নেট স্থাপন, পর্যাপ্ত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা অথবা কুমিরগুলোকে উপযুক্ত সংরক্ষণকেন্দ্রে স্থানান্তরের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’
স্বস্তির বিষয়, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন আপাতত কুমিরটিকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে কুমিরটিকে পুনরায় সেখানে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। জননিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, বন বিভাগ এবং দায়িত্বশীল সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
বাংলাদেশের সাফল্য, মর্যাদা ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। বিশ্বসভায় আরও উজ্জ্বল হোক আমাদের অবস্থান। শান্তি, উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে বাংলাদেশ আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখুক-এই প্রত্যাশা রইল।
সবার দিনটি শুভ হোক।