২৫ মে ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ‘প্রথম ১০০ দিন’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী সময়। সাধারণত নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে এই সময়ের মধ্যেই জনগণকে বোঝাতে চায়— তারা কোন দিকে দেশকে নিতে চায়, তাদের অগ্রাধিকার কী এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কতটা আন্তরিক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন সরকার বা নতুন প্রেসিডেন্টের সাফল্য-ব্যর্থতার প্রথম মূল্যায়নও হয় এই ১০০ দিনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের ‘First Hundred Days’ থেকেই মূলত এই ধারণাটি জনপ্রিয় হয়। মহামন্দা মোকাবিলায় দ্রুত আইন ও সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করে তিনি একটি রাজনৈতিক মানদণ্ড তৈরি করেছিলেন। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা কিংবা দক্ষিণ এশিয়া— সব জায়গাতেই নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনকে ‘দিকনির্দেশনার সময়’ হিসেবে দেখা হয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই ১০০ দিনের রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দলীয়করণ, দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে জনগণ সাধারণত নতুন সরকারের কাছে দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন আশা করে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের শুরুতেই ধারণা করা হয়েছিল, বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মূল অগ্রাধিকার হতে পারে আইনশৃঙ্খলা পুনর্গঠন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি দমন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা প্রতিষ্ঠা।
বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একটি ‘১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনা’ সম্পর্কে সরকার ধারণা দিয়েছিল, যেখানে জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও বলা হয়েছিল, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হতে পারে ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা।’ কারণ ২০২৪–পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের বড় প্রত্যাশা হলো— প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন দলীয় প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করে। তবে এই প্রত্যাশার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে এবং নাগরিক আলোচনায় অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছেন, নেতৃত্বের পরিবর্তনের চেয়ে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন বেশি জরুরি। কিছু অনলাইন আলোচনায় আশা প্রকাশ করেছিল— নতুন ধারার রাজনীতি আসবে, আবার অনেকে অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে সংশয় প্রকাশ করছেন।
এ প্রসঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কথা স্মরণ করা যেতে পারে। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার প্রথম ১০০ দিনের জন্য একটি ২৫ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। এর মধ্যে ছিল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন, রাজনৈতিক মামলার পুনর্বিবেচনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, অনিয়ম দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন।
সে সময় এক জরিপে প্রায় অর্ধেক মানুষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সরকারের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ, রাজনৈতিক সহিংসতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে। ফলে ইতিহাসের শিক্ষা হলো— প্রথম ১০০ দিনের ইতিবাচক বার্তা যথেষ্ট নয়; সেটিকে ধারাবাহিকভাবে ধরে রাখাও জরুরি।
এই জায়গাতেই তারেক রহমান সরকারের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ সবচেয়ে বড়। কারণ বর্তমান বাংলাদেশের জনগণ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সচেতন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বেশি সক্রিয় এবং তরুণ প্রজন্ম দ্রুত ফলাফল দেখতে চায়। তাই শুধু রাজনৈতিক ভাষণ নয় বরং বাজারে স্বস্তি, কর্মসংস্থান, নাগরিক নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার মতো বাস্তব বিষয়েই জনগণ সরকারের প্রথম ১০০ দিনের বিচার করবে।
বিশ্বের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা সাধারণত বলেন— প্রথম ১০০ দিন কোনো সরকারের পুরো সাফল্যের মাপকাঠি নয়, তবে এটি সরকারের চরিত্র, অগ্রাধিকার এবং রাজনৈতিক সাহসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পরীক্ষা। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেটিই সত্য। নতুন সরকার যদি শুরুতেই আস্থা, স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচারের বার্তা দিতে পারে, তাহলে প্রথম ১০০ দিন ভবিষ্যতের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
নতুন সরকারের ‘১০০ দিন’ উপলক্ষে আজ (২৫ মে) প্রেস কনফারেন্স হওয়ার খবর দিয়েছে দৈনিক যুগান্তর। তবে হিসাব করে দেখলাম, আজ মূলত ৯৮তম দিন; শতদিন পূর্ণ হবে বুধবার। তারপরও যখন তারা প্রেস মিট করছে, তাই চেষ্টা করছি এই ১০০ দিনের কার্যক্রম ও রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আউটলাইন তুলে ধরতে।
নিচে আলোচিত ১০০টি কাজ ও উদ্যোগের একটি তালিকা দেওয়া হলো। এখানে সরকারি সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক বার্তা, প্রশাসনিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক উদ্যোগ এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়াকে একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান সরকারের ১০০ দিনে আলোচিত ১০০ কাজ
রাষ্ট্র ও প্রশাসনিক সংস্কার
১. ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ঘোষণা।
২. ‘আইনের শাসন’কে সরকারের প্রধান নীতি হিসেবে ঘোষণা।
৩. সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক পারফরম্যান্স মূল্যায়ন শুরু।
৪. প্রশাসনে দলীয় প্রভাব কমানোর নির্দেশনা।
৫. রাজনৈতিক মামলার তালিকা পুনর্বিবেচনা শুরু।
৬. দুর্নীতি দমন কমিশনকে পুনর্গঠন করার উদ্যোগ।
৭. সরকারি ক্রয়ে ই-টেন্ডার বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা।
৮. মাঠ প্রশাসনে বদলি ও পুনর্বিন্যাস।
৯. জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সরাসরি ভার্চুয়াল সমন্বয় সভা ও পরবর্তীতে সম্মেলন।
১০. সরকারি গাড়ির অপব্যবহার কমাতে নির্দেশনা।
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা
১. সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে বিশেষ অভিযান।
২. মহানগর এলাকায় রাতের টহল বৃদ্ধি।
৩. থানাভিত্তিক ‘জনশুনানি’ কার্যক্রম শুরু।
৪. কিশোর গ্যাং দমনে বিশেষ টাস্কফোর্স।
৫. সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান জোরদার।
৬. অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান।
৭. মাদকবিরোধী অভিযানের পুনর্গঠন।
৮. পুলিশি হয়রানি কমানোর প্রতিশ্রুতি।
৯. অনলাইন প্রতারণা দমনে সাইবার ইউনিট সম্প্রসারণ।
১০. কারাগার ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ।
দ্রব্যমূল্য ও অর্থনীতি
১. রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ মনিটরিং সেল কার্যকর এবং সুফল লাভ।
২. টিসিবি কার্যক্রম সম্প্রসারণ।
৩. চাল ও ভোজ্যতেলে শুল্ক কমানোর উদ্যোগ।
৪. বাজার মনিটরিংয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বৃদ্ধি।
৫. কৃষিপণ্যের সরাসরি বিপণন ব্যবস্থা চালু।
৬. ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ কর্মসূচি।
৭. ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ পুনর্গঠনের উদ্যোগ।
৮. বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল করার পদক্ষেপ।
৯. রেমিট্যান্সে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা।
১০. বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন নীতিমালা প্রস্তুত।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ
১. গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের নির্দেশ।
২. লোডশেডিং কমাতে জরুরি পরিকল্পনা।
৩. এলএনজি আমদানি নিয়ে নতুন আলোচনা।
৪. নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ আহ্বান।
৫. ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা।
৬. বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি পুনর্বিন্যাস।
৭. সোলার প্রকল্প অনুমোদন বৃদ্ধি।
৮. শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিকল্পনা।
৯. গ্রামীণ বিদ্যুৎ লাইনের সংস্কার।
১০. জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা।
স্বাস্থ্যখাত
১. ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রকল্প ঘোষণা।
২. পাঁচ জেলায় পরীক্ষামূলক ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা।
৩. উপজেলা হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহ বাড়ানো।
৪. হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি।
৫. মেডিকেল কলেজে চিকিৎসক সংকট নিরসনের উদ্যোগ।
৬. সরকারি হাসপাতালে অনলাইন টিকিটিং পরিকল্পনা।
৭. স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি তদন্ত কমিটি।
৮. মাতৃস্বাস্থ্য সেবায় বিশেষ বরাদ্দ।
৯. শিশু পুষ্টি কর্মসূচি সম্প্রসারণ।
১০. মানসিক স্বাস্থ্যসেবা হেল্পলাইন চালুর আলোচনা।
কৃষি ও গ্রাম উন্নয়ন
১. কৃষক কার্ড কর্মসূচি কার্যক্রম শুরু।
২. সেচ সুবিধা বাড়াতে বিশেষ বরাদ্দ।
৩. খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু।
৪. সার সরবরাহ মনিটরিং জোরদার।
৫. কৃষিঋণ সহজীকরণ।
৬. কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে উদ্যোগ।
৭. কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি।
৮. বীজ বিতরণ কর্মসূচি।
৯. গ্রামীণ সড়ক সংস্কার শুরু।
১০. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে প্রণোদনা।
শিক্ষা ও তরুণ সমাজ
১. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেশনজট কমানোর পরিকল্পনা।
২. বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ।
৩. কারিগরি শিক্ষায় নতুন কোর্স অনুমোদন।
৪. তরুণ উদ্যোক্তা তহবিল গঠন।
৫. বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
৬. স্কুলে ডিজিটাল ক্লাসরুম সম্প্রসারণ।
৭. মেধাবৃত্তি বাড়ানোর আলোচনা।
৮. চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা জোরদার।
৯. সরকারি চাকরিতে অনলাইন আবেদন সহজীকরণ।
১০. বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতাৃ
১১. মেধাবৃত্তি বাড়ানোর আলোচনা।
১২. চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা জোরদার।
১৩. সরকারি চাকরিতে অনলাইন আবেদন সহজীকরণ।
১৪. বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা প্রশিক্ষণ বাড়ানো।
সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণ
১. ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি।
২. বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা।
৩. বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা সম্প্রসারণ।
৪. নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য সহায়তা।
৫. শ্রমিক কল্যাণ তহবিল জোরদার।
৬. পোশাকশ্রমিকদের বেতন ও নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক।
৭. নগর বস্তিতে স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগ।
৮. নারী নির্যাতনবিরোধী সেল সক্রিয়করণ।
৯. শিশু সুরক্ষা হটলাইন শক্তিশালীকরণ।
১০. গৃহহীনদের জন্য আবাসন পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়ন।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা
১. বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক।
২. আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার বার্তা।
৩. ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা।
৪. চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের বিনিয়োগ আহ্বান।
৫. যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা।
৬. পররাষ্ট্রনীতিতে ‘ভারসাম্য’ শব্দের ব্যবহার।
৭. প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মতবিনিময়।
৮. জাতিসংঘে নতুন কূটনৈতিক অগ্রাধিকার তুলে ধরা।
৯. রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়া।
১০. দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বার্তা।
প্রতীকী ও রাজনৈতিকভাবে আলোচিত বিষয়
১. প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কমানোর উদ্যোগ।
২. অনাড়ম্বর সরকারি অনুষ্ঠান আয়োজন।
৩. সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সক্রিয়তা বৃদ্ধি।
৪. ‘নতুন বাংলাদেশ’ স্লোগান জনপ্রিয় করার চেষ্টা।
৫. জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে বক্তব্য।
৬. রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না করার বার্তা।
৭. বিরোধী মতের প্রতি তুলনামূলক সহনশীল অবস্থান।
৮. প্রশাসনে তরুণ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বৃদ্ধি।
৯. সরকারি তথ্য প্রকাশে তুলনামূলক উন্মুক্ততা।
১০. ‘সংস্কার বনাম প্রতিশোধ’ বিতর্কে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা।
এই ১০০ দিন নিয়ে জনমত কেমন?
সরকারের সমর্থকেরা বলছেন— দীর্ঘদিন পর প্রশাসনে কিছুটা ‘স্বস্তির পরিবেশ’ তৈরি হয়েছে এবং অন্তত সংস্কারের আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক প্রটোকল কমানো এবং জনকল্যাণমূলক বার্তাগুলো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।
অন্যদিকে সমালোচকেরা বলছেন- এখনো দৃশ্যমান কাঠামোগত পরিবর্তন কম, বাজার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি সফল হয়নি এবং বিএনপির তৃণমূল রাজনীতির পুরনো সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় অনেকে আশাবাদ প্রকাশ করলেও ‘পুরনো রাজনীতির পুনরাবৃত্তি’ নিয়ে সংশয়ও দেখা যায়।
বিশ্ব রাজনীতির অভিজ্ঞতা বলে, প্রথম ১০০ দিন মূলত একটি সরকারের ‘ইচ্ছাশক্তি’ প্রদর্শনের সময়। কিন্তু জনগণ শেষ পর্যন্ত বিচার করে— প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবে রূপ নেয়। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও সেটিই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
লেখক: সিনিয়র ব্যুরোক্রেট বিশ্লেষক ও লেখক