১০ মে ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
আম্মা আমার রত্নগর্ভা ছিলেন না। মা-কে নিয়ে ছবি তুলে গর্ব করার মতো কিছু পাইনি কখনো। আমরা দুই ভাই, বোন নেই। দুজনেই লেখাপড়ায় অঘা মার্কা ছিলাম। সারাজীবন দ্বিতীয় শ্রেণি ছিল আমার অর্জন। পড়ালেখা নিয়ে তিনি কখনো চাপ দেননি।
তবে ভালো মানুষ বানাবার জন্য মায়ের চেষ্টার কমতি ছিল না। ছোটবেলায় হয়তো কিছু মিথ্যা বলে ফেললাম। কিন্তু ছোট ভাইকে সেটাও দেখিনি কখনো। বুঝ হবার পর মিথ্যা কখনো স্পর্শ করেনি আমায়।
চাকরিতে সবে জয়েন করেছি। মা একদিন ডেকে বললেন, বাবা সেদিন তোমার বাবা যেটা বলেছিলেন, তা জীবন দিয়ে অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। বললাম, কোন কথা মা? বাবা তো অনেক কথা বলেছিলেন।
বাবা, জীবনে হারাম ইনকাম এবং মানুষের চোখের পানি আর দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ঘরে কখনো ঢুকবে না। ইনশাআল্লাহ, মা। আমি অবশ্যই তা কায়েম করব। কিন্তু তোমাদেরও একটা কথা রাখতে হবে আমার। মাথা নাড়লেন তিনি। চাকরি জীবনে কারও জন্য অন্যায় তদবির করবে না আমার কাছে। বাবা মা কথা রেখেছিলেন আমার। আমিও চুল পরিমাণ ব্যত্যয় করিনি তাদের নির্দেশ।
আম্মার কোনো চাহিদা ছিল না। বাবার কাছে কখনো কিছু চাইতে দেখিনি তাঁকে। সাড়ে সাত ভরি সোনা নিয়ে আম্মার বিবাহিত জীবন শুরু হয়েছে। দুই ভাইয়ের বিয়ের পর সবটুকুই চলে গেছে। এক রত্তি সোনা তিনি কখনো আর কেনেননি।
আমার পরিবার, বাচ্চাসহ প্রায় বিশ বছর এক ছাদের নিচে থেকেছি। কিন্তু শ্বাশুড়ি-বউয়ের কথা কাটাকাটি বা ঝগড়া হয়নি। দুই বউয়ের সঙ্গে একই রকম ছিলেন তিনি।
বাবার সঙ্গে অভিমান করতেন, কিন্তু ঝগড়া করতে কখনো দেখিনি। সেই মা আমার ৮১ বছর বয়সে খুবই অসুস্থ। অন্তর দিয়ে দোয়া করবেন সবাই তাঁর জন্য।
লেখক: সাবেক অতিরিক্ত সচিব