images

মতামত

বাস্তবতার আলোকে এক অনুভূতির নাম 'মা'

ঢাকা মেইল ডেস্ক

১০ মে ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে যায় ‘হ্যাপি মাদার্স ডে’ শুভেচ্ছায়। অনেকেই মায়ের সঙ্গে ছবি পোস্ট করেন, ভালোবাসার কথা লেখেন, উপহার দেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শুধু একটি দিন মাকে স্মরণ করলেই সন্তানের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। মা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মায়ের প্রতি ভালোবাসা শুধু কথায় নয়, আচরণেও প্রকাশ করা প্রয়োজন।

একজন মা তার সন্তানের জন্য জীবনের বড় একটি অংশ ত্যাগ করেন। পরিবারের সবার খাবার, পড়াশোনা, অসুস্থতা কিংবা মানসিক কষ্ট—সবকিছুর দায়িত্ব তিনি নীরবে নিভৃত এ বহন করেন।

অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন। অথচ বাস্তব জীবনে দেখা যায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক মা একাকীত্বে ভোগেন। সন্তানরা পড়াশোনা, চাকরি বা ব্যক্তিগত ব্যস্ততায় এতটাই ডুবে থাকে যে মায়ের সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলার সময়ও খুঁজে পায় না।

বর্তমান সমাজে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা বাড়ছে, যা আমাদের জন্য একটি কঠিন বাস্তবতা। যেসব মা একসময় সন্তানের হাত ধরে চলতে শিখিয়েছেন, পড়াশুনার হাতেখড়ি মা এর হাত ধরেই শুরু হয়েছে কিন্তু জীবনের শেষ সময়ে তাঁদেরই কেউ কেউ অবহেলার শিকার হন। মা দিবসে ফুল বা দামি উপহার দেওয়ার চেয়ে মায়ের পাশে সময় দেওয়া, তাঁর খোঁজ নেওয়া এবং মানসিকভাবে তাঁকে মূল্য দেওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রামের কিংবা নিম্নবিত্ত পরিবারের মায়েদের জীবন আরও কঠিন। অনেক মা সংসার চালানোর জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন, তবুও পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেন। তাঁদের ত্যাগ অনেক সময় চোখে পড়ে না, কারণ তারা নীরবে দায়িত্ব পালন করে যান। আবার কর্মজীবী মায়েরা ঘর ও কর্মক্ষেত্র—দুই জায়গার চাপ সামলে পরিবারকে এগিয়ে নেন। কিন্তু তাঁদের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন সবসময় হয় না।

মা দিবসের আসল শিক্ষা হওয়া উচিত—মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করা। শুধু একটি বিশেষ দিনে নয়, প্রতিদিন মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও যত্ন দেখানো প্রয়োজন। একটু ছোট খোঁজ নেওয়া, কিছু সময় পাশে বসা কিংবা মায়ের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করাও তাঁর জন্য অনেক বড় আনন্দ হতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, মা দিবস কেবল আনুষ্ঠানিক উদযাপনের বিষয় নয়; এটি আমাদের মানবিকতা যাচাইয়েরও একটি দিন। যে মা সারাজীবন নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসা দিয়ে যান, তাঁর প্রতি সম্মান ও যত্ন দেখানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সত্যিকারের মা দিবস তখনই সফল হবে, যখন প্রতিটি মা তাঁর সন্তানের কাছ থেকে ভালোবাসা ও মর্যাদা পাবেন।

লেখক: উপপরিচালক, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল, ঢাকা