১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
জাতীয় প্রেস ক্লাব সদস্য ও প্রবীণ সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়া নীরবে নিভৃতে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। প্রখ্যাত সাংবাদিক, পিআইবির সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া গত ২১ মার্চ শনিবার বেলা ১২টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। দীর্ঘ পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে তিনি দেশের সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ, আইন পেশা এবং গবেষণায় অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।
১৯৪৯ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করা এই গুণী ব্যক্তিত্ব দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বহুমুখী প্রতিভায় দেশসেবায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৭২ সালে ‘গণবাংলা' পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তার সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘ সময় ‘দৈনিক সংবাদ’-এ অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করেন।
১৯৭৯ সালে যুক্তরাজ্যের থমসন ফাউন্ডেশন থেকে সাংবাদিকতায় উচ্চতর ডিপ্লোমা অর্জনের পর তিনি দেশের সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড প্রবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
১৯৭৬ সালের ১৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ- পিআইবির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি এর সাথে যুক্ত ছিলেন। প্রখ্যাত সম্পাদক আবদুস সালামের সহকর্মী হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তি মজবুত করেন। দীর্ঘ সময় পিআইবির প্রশিক্ষণ পরিচালকের দায়িত্ব পালনের পর ১৯৯১ সালে তিনি সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালকের দায়িত্বও সামলেছেন।
এছাড়া ইউনেস্কোসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশের সংবাদপত্রের অবস্থা ও উন্নয়ন নিয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করে তিনি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি গোলাম কিবরিয়া একজন সফল আইনজীবী ও শিক্ষাবিদ ছিলেন। ২০০৩ সালে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। এছাড়া স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি শিক্ষক হিসেবে তিনি নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের আইন ও সাংবাদিকতার পাঠ দিয়েছেন।
তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাস, বাজার অর্থনীতি ও বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম ইস্যু।
ব্যক্তিজীবনে তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের খসড়া তৈরিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা রেখে গেছেন, যারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। বৈবাহিক সূত্রে, তিনি ছিলেন বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের নিকটাত্মীয়।
জাতীয় প্রেস ক্লাব ও এশিয়াটিক সোসাইটির এই আজীবন সদস্যের মৃত্যুতে সাংবাদিকতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
লেখক: সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় প্রেস ক্লাব