২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশব্যাপী ভোটের হাওয়া বইছে। নাগরিক হিসেবে যেকোনো নির্বাচন বা ভোটে আমাদের আগ্রহ প্রবল। কারণ ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি বা নেতা হওয়া যায়। নির্বাচিত প্রতিনিধিরূপে নেতৃত্ব প্রদান, কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও জনকল্যাণ করার সুযোগ পায়। তাই নির্বাচনের সংবাদ পাওয়া মাত্রই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে শুরু হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। প্রার্থী নিজের পক্ষে সমর্থন চাওয়া শুরু করে। ভোটার নিজের সমর্থন প্রদানের জন্য যোগ্য প্রার্থী খোঁজে। এখন প্রশ্ন হলো—‘ভোট’ কী এবং কেন ভোটের আয়োজন? ‘ভোট’ হচ্ছে কোনো সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রথাগত এক বিশেষ পদ্ধতি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো নির্বাচনী এলাকার মানুষ ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে। কিংবা সংখ্যাধিক্যের মতামতের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। দেশের নাগরিকগণ সাধারণত কতিপয় নির্বাচনের সঙ্গে বেশ পরিচিত। যেমন: জাতীয় সংসদ নির্বাচন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সামাজিক সংগঠনের নির্বাচন, বাণিজ্যিক সংগঠনের নির্বাচন ও পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন ইত্যাদি। প্রত্যেক নির্বাচনের জাতীয় গুরুত্ব, রাজনৈতিক গুরুত্ব ও সাংগঠনিক গুরুত্ব আছে। নির্বাচন প্রথা রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ, সমাজকল্যাণ ও সামাজিক সংহতি প্রতিষ্ঠার এক আধুনিক ব্যবস্থাও বটে।
বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আমাদের স্বাধীনতা। মুক্তিযুদ্ধের দর্শন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শোষণমুক্ত সমাজ গঠন করা। যেখানে থাকবে নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে। একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার মূলভিত্তি সংবিধান। সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে—প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে। আবার সংবিধানের ৭(২) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে—জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন। তাই সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত মালিক জনগণ। জনগণ তার সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করে ভোট প্রদানের মাধ্যমে। যাকে বলা হয় রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ ও ক্ষমতা প্রয়োগের একমাত্র বৈধ পন্থা।
দেশের প্রচলিত প্রত্যেক নির্বাচনের সাংবিধানিক, আইনগত ও সাংগঠনিক বাধ্যবাধকতা আছে। যেমন: জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার আলোকে পরিচালিত হয়। ভোটারগণ পছন্দনীয় প্রার্থীকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করে এবং জাতীয় সরকার গঠন করে। অপরদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ তথা ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসমূহ পৃথক পৃথক আইন দ্বারা গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানসমূহ নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত হয়, যার মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়ন সাধন করা হয়। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থা।
রাষ্ট্র পরিচালনার সকল স্তরে জনগণের অংশগ্রহণ বা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে। জনপ্রতিনিধিত্ব হলো গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার সার্থক প্রতিফলন। জনপ্রতিনিধিত্ব সৃষ্টি হয় নির্বাচন বা ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে একজন প্রার্থী ভোটের মাধ্যমে জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে নির্বাচিত হবেন এবং শাসনকার্যে অংশ নেন। জনগণকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একজন প্রার্থীকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনে কিছু মৌলিক গুণাবলি অনুসরণ করতে হবে। যেমন: আমানতদারিত্ব, ন্যায়পরায়ণতা, চারিত্রিক গুণাবলি, সততা, হৃদয়বান, আন্তরিকতা, মানবসেবী মনোভাব ইত্যাদি। যোগ্য জনপ্রতিনিধির মাধ্যমেই দেশে সামাজিক ন্যায়বিচার, সাম্য, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সুনিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
একটি রাষ্ট্র চারটি মৌলিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। যথা: নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, জনসমষ্টি, সরকার ও সার্বভৌমত্ব। রাষ্ট্রের উপাদানসমূহের সুসমন্বয় সাধনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত হয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় জনমতের গুরুত্ব অপরিসীম। জনমত হচ্ছে রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতামত। জনমত হলো বৃহত্তর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে জনগণের অভিমতের সমষ্টি। গণতান্ত্রিক সরকার জনমতকে উপেক্ষা করে শাসনকার্য পরিচালনা করতে পারে না। প্রাসঙ্গিক আইন প্রণয়ন, সরকারের স্বৈরাচারিতা প্রতিরোধ, ব্যক্তি স্বাধীনতা সংরক্ষণ, জনহিতকর পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সর্বদা জনমতকে গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। জনমত উপেক্ষা করে পরিচালিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় গণঅসন্তোষ, উত্তেজনা ও রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। তাই রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার স্বার্থে জনমত যাচাই তথা জনপ্রত্যাশা নিরূপণ করতে হবে। ক্ষমতাসীন সরকারকে জনতার চাহিদা ও প্রত্যাশা বিবেচনায় রাষ্ট্র সংস্কার ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
সাম্প্রতিক বাংলাদেশের বহুল আলোচিত বিষয় ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ ও ‘সংবিধান সংস্কার বিষয়ক গণভোট’। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আসন্ন নির্বাচনের তফসিল জারি করা হয়েছে। যার লক্ষ্য দুটি—জনগণের অভিপ্রায় অনুসারে বিদ্যমান সংবিধান সংস্কার এবং জাতীয় সরকার গঠন করা। ঘোষিত তফসিল অনুসারে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি একই দিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন চলছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটারগণ আসনভিত্তিক সংসদ সদস্য নির্বাচন করবেন, যাদের নেতৃত্বে আগামী সরকার গঠিত হবে।
অপরদিকে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনআকাঙ্ক্ষার উদ্ভব ঘটে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ড. মুহাম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২৪ সালে পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করে। গঠিত সংস্কার কমিশনসমূহের সুপারিশ পর্যালোচনা ও জাতীয়ভাবে গ্রহণের জন্য একটি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশন রাজনৈতিক দল, জোট ও শক্তিসমূহের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য গঠনের প্রয়াস চালায়। এটি ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ নামে অভিহিত। এই সনদ কীভাবে একটি সাংবিধানিক দলিল হিসেবে গৃহীত হবে—এর জন্য প্রয়োজন হবে জনগণের আনুষ্ঠানিক সম্মতি বা গণভোট। এই গণভোটের বৈধতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজমান। বিশেষত সার্বভৌম সংসদের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।
‘গণভোট’ কী, কেন একটি দেশে গণভোটের আয়োজন করা হয়? সাধারণত গণভোট নির্ধারিত সময় অন্তর নিয়মিত বা আবশ্যিকভাবে আয়োজন করা হয় না। রাষ্ট্র জরুরি প্রয়োজনে ও প্রেক্ষাপটে জনমত যাচাই করার জন্য গণভোট আয়োজন করে। গণভোট বৃহৎ আকারের একটি জনমত জরিপও বটে। এরূপ জনমত জরিপের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি কোনো প্রস্তাব, আইন বা রাজনৈতিক বিষয়ে ভোট প্রদান করে। যার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কার, সংবিধান সংশোধন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনীতি প্রবর্তন করা হয়। আসন্ন গণভোট আয়োজনের জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করেন। এটি ‘গণভোট অধ্যাদেশ–২০২৫’ নামে অভিহিত। তাই আসন্ন গণভোট আয়োজিত হচ্ছে বিদ্যমান সংবিধানের নেতৃত্বে ও কর্তৃত্বে।
স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যাবধি দেশে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার মধ্যে দুটি প্রশাসনিক এবং একটি সাংবিধানিক গণভোট। গণভোট এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে জনগণ সরাসরি অংশগ্রহণ করে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে মতামত ব্যক্ত করে। বাংলাদেশের প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৭ সালের ৩০ মে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনকার্যের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য। এ গণভোটে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৮৮.১ শতাংশ এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে ৯৮.৯ শতাংশ। দ্বিতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের ২১ মার্চ। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নীতি ও কর্মসূচির বৈধতা যাচাইয়ের জন্য। এতে ভোটার অংশগ্রহণের হার ছিল ৭২.২ শতাংশ এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে ৯৪.৫ শতাংশ। তৃতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার থেকে প্রধানমন্ত্রী শাসিত সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংশোধনী বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রদানের বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৩৫.২ শতাংশ এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রকে সমর্থন করে ৮৪.৩৮ শতাংশ ভোটার।
সমাজ ক্রমাগত পরিবর্তনশীল। পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় জনগণের অভিপ্রায় ও প্রত্যাশার পরিবর্তন ঘটে। গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় মানুষ অভিপ্রায় ব্যক্ত করে সংঘবদ্ধরূপে। পরিবর্তন কিংবা সংস্কারের জন্য মানুষ বিক্ষোভ করে, সংগ্রাম করে, গণআন্দোলন করে এবং গণঅভ্যুত্থান ঘটে। যার মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটায়। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিও উত্থাপন করে। উত্থাপিত দাবিসমূহের সমন্বিত রূপই জুলাই জাতীয় সনদ। এই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনমত যাচাই এবং গণভোটের আয়োজন। ভোটারের সম্মুখে গণভোটের প্রশ্ন হচ্ছে—আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নে আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন? প্রশ্নসমূহ হলো: ক. নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদের আলোকে গঠিত হবে; খ. আগামী জাতীয় সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট; গ. সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় দলের সভাপতি নির্বাচন; ঘ. জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত সংস্কার রাজনৈতিক দলসমূহের প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে ইত্যাদি।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। জনগণ তার সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করে ভোট প্রদানের মাধ্যমে। এখন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের যৌথ প্রচারণা চলছে। ভোট নাগরিক অধিকার। দল, মত ও প্রার্থীর ইমেজ বিবেচনায় ভোটারগণ নিশ্চয়ই যোগ্য প্রতিনিধি মনোনীত করবেন। যার প্রেক্ষিতে জাতীয় সরকার গঠিত হবে এবং রাষ্ট্র সংস্কারমূলক উদ্যোগ গৃহীত হবে। সংসদ সদস্যরূপে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবেন। তারাই রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নীতি প্রণয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবেন। নির্বাচিত প্রতিনিধিগণই জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রতীক। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বেই সুনিশ্চিত হোক জনগণের মৌলিক সেবা ও কল্যাণ।