Dhaka Mail Logo

অফবিট

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে উর্মি গ্রুপের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০১ পিএম

তৈরি পোশাক খাতসহ দেশের শিল্প-প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন পণ্য পরিবহনে হাজারো ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ ব্যবহার করে। বিআরটিএর ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত ৭ হাজার ৮৩৭টি যানবাহনের মধ্যে ১ হাজার ৩৮৯টি ছিল ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান এবং ৩৭০টি পিকআপ—যা মোট যানবাহনের প্রায় ২২ শতাংশ। পণ্যবাহী যানবাহনের এই দুর্ঘটনাঝুঁকির বাস্তবতায় চালকদের আরও সচেতন করতে উর্মি গ্রুপ নিয়েছে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

প্রতিষ্ঠানটির পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়িগুলোর পেছনে জায়গা পেয়েছে চালকদের সন্তানদের আঁকা ছবি ও বাবার উদ্দেশে লেখা ছোট ছোট বার্তা। কোনো ছবিতে ফুটে উঠেছে পরিবারের গল্প, কোনো ছবিতে বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা। প্রতিটি ছবির অন্তর্নিহিত বার্তা একটাই—বাবা যেন সাবধানে গাড়ি চালান এবং দিন শেষে নিরাপদে বাড়ি ফেরেন।

উর্মি গ্রুপের এই উদ্যোগে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে জাপানের পরিবহন প্রতিষ্ঠান মিয়াতা উনইউর ‘চিলড্রেনস মিউজিয়াম প্রজেক্ট’। একটি প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটি চালকদের সন্তানদের আঁকা ছবি ট্রাকে প্রদর্শনের উদ্যোগ নেয়। পরবর্তী ছয় বছরে ৮৭টি গাড়িতে শিশুদের ছবি যুক্ত করার পর দুর্ঘটনা প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল; পরবর্তীতে ২০১৯ সালে উদ্যোগটি স্বতন্ত্র সংগঠনে রূপ নেয় এবং জাপানের বহু প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে ট্রাক ও পণ্যবাহী গাড়ির পেছনে ছবি, বাক্য ও নানা ধরনের শিল্পকর্ম ব্যবহারের দীর্ঘদিনের প্রচলন রয়েছে। পরিচিত সেই জায়গাটিকেই উর্মি গ্রুপ এবার চালক ও তাঁর পরিবারের মধ্যে আবেগের সংযোগ তৈরির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে অন্য পথচারী ও চালকদের কাছেও ছবিগুলো একটি মানবিক বার্তা পৌঁছে দিবে বলে বিশ্বাস করে উর্মি গ্রুপ।

Truck_Image

উর্মি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ আশরাফ বলেন, “জাপানের একটি সেমিনারে অংশগ্রহন করার সময় আমি প্রতক্ষভাবে ব্যাপারটি অনুধাবন করি এবং উদ্যোগটি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে স্পর্শ করে। একটি শিশুর আঁকা ছবি একজন চালককে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয়—তাঁর নিরাপদে ঘরে ফেরার অপেক্ষায় একটি পরিবার রয়েছে। এই ভাবনা থেকেই আমরা প্রাথমিকভাবে আমাদের কিছু গাড়িতে উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করি এবং এর ইতিবাচক প্রভাব দেখতে পাই। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এখন উর্মি গ্রুপের পরিবহন ব্যবস্থায় এটি আরও বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাংলাদেশের রপ্তানি তৈরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও তাঁদের পরিবার জড়িয়ে আছে। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে তৈরি পোশাক খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও এমন উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাই। আমাদের খাত থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ যদি ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে সম্মিলিতভাবে সড়ক নিরাপত্তায় আরও সচেতন ও মানবিক একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”

উর্মি গ্রুপের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সড়ক নিরাপত্তা উদ্যোগের পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই এ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। চালকদের সচেতনতা ও ব্যক্তিগত দায়বোধ আরও জোরদার করার পাশাপাশি কর্মীদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এজেড