মো. আবদুল হামিদ
১১ জুন ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকাগুলোর একটি বারিধারা। কিন্তু এই নগরের কোলাহলের মাঝেও আবাসিক এলাকাগুলোতে উচ্চশব্দ ও যানবাহনের অনবরত হর্ন এখন জনজীবনের জন্য এক বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই শব্দদূষণ প্রতিরোধে ও নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে সম্প্রতি বারিধারায় অনুষ্ঠিত হলো এক বিশেষ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিবেশ অধিদপ্তরের “শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প”-এর উদ্যোগে এবং বারিধারা সোসাইটি ও পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন ভয়েসের সহযোগিতায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। বুধবার (১০ জুন) সকাল ১০টায় বারিধারা এলাকা ও আমেরিকান অ্যাম্বাসির বিপরীত পার্শ্বে এবং ৩নং গেইট এলাকায় আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনে একাত্মতা প্রকাশ করেন বারিধারা সোসাইটি ও গ্রীন ভয়েসের নেতৃবৃন্দরা।
ক্যাম্পেইনটিতে উপস্থিত ছিলেন বারিধারা সোসাইটির সভাপতি সাকিফ আরিফ তাবানী, সাধারণ সম্পাদক এটিএম মতিন, গ্রীন ভয়েসের কো-ফাউন্ডার ও বাপা-এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির সুমনসহ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক শাকিল কবির ও ফাহমিদা নাজনীন।
ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের শব্দদূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানানো। গ্রীন ভয়েসের স্বেচ্ছাসেবীরা এ সময় পথচারীদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন যানবাহনের পেছনে শব্দ দূষণবিরোধী স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং চালকদের অযথা হর্ন না বাজানোর অনুরোধ জানানো হয়।
ক্যাম্পেইনে বারিধারা সোসাইটির সভাপতি সাকিফ আরিফ তাবানী নগর জীবনের এই বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলেন, “আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত হর্ন ও উচ্চশব্দ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য নগর গড়তে সচেতনতার বিকল্প নেই।”
তিনি আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “আমরা সোসাইটির সকল চালক এবং বাসিন্দাদের মাঝে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০২৫ এবং লিফলেট ও স্টিকার পৌঁছে দেব। এরপরও যারা শব্দ দূষণ বিধিমালা লঙ্ঘন করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শব্দদূষণকে কেবল একটি পরিবেশগত সমস্যা নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বারিধারা সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক এটিএম মতিন।
তিনি বলেন, “অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো বন্ধ ও আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এ ধরণের কার্যক্রম সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করবে।”
বাংলাদেশ কেন শব্দদূষণের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে, তার ব্যাখ্যা দেন গ্রীন ভয়েসের কো-ফাউন্ডার হুমায়ুন কবির সুমন। তিনি জানান, অতিরিক্ত শব্দ মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তাই কার্যকর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই এই প্রতিকূলতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
আরও পড়ুন: আর্জেন্টিনার শুভকামনায় ৪ হাজার বৃক্ষরোপণ হবে, যুক্ত হচ্ছেন ৪০০ তরুণ
শব্দদূষণমুক্ত ও শান্ত বারিধারা গড়তে এই ক্যাম্পেইনটি এলাকাবাসীর মধ্যে সাড়া ফেলেছে। নগরের প্রতিটি কোণে এমন উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়লে অদূর ভবিষ্যতে শহরবাসী হয়তো পাবে একটি শান্ত ও বাসযোগ্য পরিবেশ—এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজকদের।
এজেড