ফিচার প্রতিবেদক
০৭ জুন ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
প্রিয় ফুটবল দল আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা জানিয়ে চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৪ হাজার দেশীয় প্রজাতির ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন দেশের সুপরিচিত ‘বৃক্ষসখা’ শাখাওয়াত উল্লাহ। পরিবেশবান্ধব এই সবুজ কর্মসূচিতে সারা দেশের ৪০০ জন তরুণকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রত্যেক তরুণ অন্তত ১০টি চারা রোপণ ও তা টিকিয়ে রাখার জন্য পরিচর্যার দায়িত্ব নেবেন।
সবুজায়নের এই কার্যক্রমে অংশ নিতে দেশের সব জেলার তরুণদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। অংশগ্রহণকারী তরুণদের নিজস্ব আঙিনা কিংবা পরিচিত কারও জমিতে গাছ রোপণ, নিয়মিত পরিচর্যা ও চারা পরিবহনের দায়িত্ব নিজে থেকে নিতে হবে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, আগ্রহীরা চাইলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল সমর্থকসহ অন্য ফুটবলপ্রেমীদেরও গাছ উপহার দিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণের এই মহৎ কাজে উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন।
উদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার প্রতীকী রং হলো নীল-সাদা, যা মূলত আকাশের বিশালতা ও উদারতার প্রতিচ্ছবি। তাই আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হৃদয়ও আকাশের মতোই উদার হওয়া উচিত। এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পেছনে প্রিয় দলের প্রতি নিখাদ শুভকামনা ছাড়া অন্য কোনো বৈষয়িক প্রত্যাশা নেই। দল মাঠে জিতুক কিংবা হারুক, নান্দনিক ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাই এই তরুণদের প্রধান অনুপ্রেরণা।
খেলার ছলে পরিবেশ রক্ষায় এমন উদ্যোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের ঐতিহাসিক আনন্দ উদযাপন উপলক্ষে দেশজুড়ে রেকর্ড ৩৬ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল। তবে শুধু খেলাধুলা নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উপলক্ষকে কেন্দ্র করেও এই টিম নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
মানবিক বৃক্ষরোপণের অংশ হিসেবে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ছয় বছরে জন্ম নেওয়া প্রায় ৮০০ নবজাতকের পরিবারকে ২ হাজারেরও বেশি ফলজ ও ঔষধি গাছ উপহার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ১০ জন শিশুকে “কার্বন নিরপেক্ষ শিশু” হিসেবে গড়ে তোলার এক অনন্য লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে; যার আওতায় এই শিশুদের প্রত্যেকের নামে ৬০০টি করে চারা রোপণের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। এছাড়া প্রয়াত ব্যক্তিদের আত্মার শান্তি কামনায় এবং মা দিবস ও বাবা দিবসসহ বিভিন্ন বিশেষ বিশেষ উপলক্ষেও নিয়মিত চারা রোপণ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালীতে ১০ হাজার চারা পরিবহনের সময় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন এই বৃক্ষরোপণ আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক শাখাওয়াত উল্লাহ। সেই দুর্ঘটনার ক্ষত বয়ে এখনো তিনি পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতাও তাঁর ভেতরের সবুজ বিপ্লবের স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। লাঠিতে ভর দিয়েই তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় এই বৃক্ষরোপণ আন্দোলন সফলভাবে পরিচালনা করে যাচ্ছেন। গত আট বছরে তাঁর অদম্য নেতৃত্বে দেশজুড়ে প্রায় ২ লাখ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
প্রকৃতি ও ফুটবলকে ভালোবাসার এই দারুণ মেলবন্ধনে শামিল হতে দেশের সব সচেতন ও আগ্রহী তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এজেড