images

অফবিট

পেপার ব্যাগ বিক্রির ২ কোটি ৮৯ লাখ টাকার গাছ রোপণ করবে আড়ং

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ মে ২০২৬, ০১:২৮ পিএম

নিজেদের পেপার ব্যাগ উদ্যোগের প্রভাব ও পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড আড়ং। গতকাল ১০ মে ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ‘ব্রিং ইয়োর ওন ব্যাগ (বিওয়াইওবি)’ ক্যাম্পেইন সম্পর্কে জনসাধারণের উদ্বেগের জবাব দেয় এবং উদ্যোগটির ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে।

অপ্রয়োজনীয় পেপার ব্যাগের ব্যবহার কমাতে এবং টেকসই অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শপিং ব্যাগের জন্য মূল্য নির্ধারণ করেছিল আড়ং। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সাত মাসে এই ক্যাম্পেইনের ফলে ৪৬ লাখ ৭৯ হাজার ৭২১টি পেপার ব্যাগের ব্যবহার কমেছে, যা প্রায় ৬০০০ গাছ রক্ষার সমতুল্য।

এই সময়ে পেপার ব্যাগ বিক্রি থেকে মোট ২ কোটি ৮৯ লাখ ৯০ হাজার ৮১২ টাকা সংগৃহীত হয়েছে। আড়ং নিশ্চিত করেছে যে, এই অর্থের শতভাগ অর্থই বাংলাদেশজুড়ে পরিবেশ ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে পুনঃবিনিয়োগ করা হবে।

আড়ংয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নতুন উদ্যোগ

সংগৃহীত অর্থ দিয়ে আড়ং তিনটি বিশেষ প্রকল্প ঘোষণা করেছে-

ব্র্যাকের আল্ট্রা পুওর গ্রাজুয়েশন প্রোগ্রামের আওতায় সারা দেশের ৪০ হাজার অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৮০ হাজার গাছের চারা বিতরণ।

‘হ্যাবিট্যাট কো-ক্রিয়েশন’ উদ্যোগের অধীনে রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের পুনরুদ্ধারে সেচ সহায়তা এবং ৫০ হাজার গাছ রোপণ।

মিশন গ্রিন বাংলাদেশের সহযোগিতায় ডেমরা ও রূপগঞ্জে দুটি মিয়াওয়াকি বন তৈরির মাধ্যমে ২০ হাজার গাছ রোপণ।

ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ বলেন, “আমাদের অধিকাংশ গ্রাহকই সচেতন নাগরিক, যারা আড়ংয়ের টেকসই দর্শনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সামান্য অসুবিধা সত্ত্বেও সঠিক কাজের প্রতি আস্থা রাখার জন্য আমরা তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।” 

উল্লেখ্য, যারা নিজস্ব ব্যাগ নিয়ে কেনাকাটা করেছেন তাদের জন্য ১৫ টাকা ক্যাশব্যাক সুবিধাও চালু রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সংবাদ সম্মেলনে আড়ং জোর দিয়ে জানায় যে, গ্রাহকদের মতামতের গুরুত্ব থাকলেও কর্মীদের প্রতি হয়রানি, হুমকি প্রদান কিংবা অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আড়ং তাদের সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে স্লো ফ্যাশন এবং টেকসই উপকরণের ব্যবহার উৎসাহিত করার মাধ্যমে একটি সবুজ ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এজেড