তায়েব মিল্লাত হোসেন
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৮ এএম
নারায়ণগঞ্জের টানবাজারের নিমতলী এলাকা। রমজান মাসে বিকেল হতেই ভালো সেন্ট্রালের সামনের দুস্থ মানুষদের লম্বা সারি দেখা যায়। একে একে সবাই পায় ইফতারির প্যাকেট। যা পেয়ে হাসিমুখে ঘরে ফেরে তারা। রোজায় প্রতিদিনের নিয়মিত চিত্র এটা।
যারা এভাবে মানুষের মুখে হাসির উপলক্ষ এনে দিচ্ছে তাদের পরিচয়টা জেনে নেওয়া যাক শুরুতেই। ভালো—যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি অলাভজনক সংস্থা। স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যারা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়। পূরণ করতে চায় অভাবীদের চাওয়া-পাওয়া। তাই ভালোর স্লোগান হচ্ছে: ব্রিজিং দ্য গ্যাপ। তাদের ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া গেল এসব তথ্য।
দাতব্য কাজের লক্ষ্যে ‘ভালো’ নামে এই সংগঠন গড়ে তুলেছেন উদ্যোক্তা শাহরিয়ার রহমান। এর জন্য নিউইয়র্কে তিনি পাশে পেয়েছেন প্রবাসীদের। সেখানে থেকেও নিজের দেশকে ভুলে যাননি তারা। ভালো তাই ছড়িয়ে পড়ছে দেশেও- বলছিলেন ভালোর বাংলাদেশ প্রধান তাজুল ইসলাম রাজীব।

তিনি আরো বলেন, কখনো বন্যার্তদের সহায়তায় ঝাঁপিয়ে পড়ছেন তারা। কখনো বাস্তুহীন মানুষকে উপহার দিচ্ছেন ঘর। ভালোর প্রতিষ্ঠাতা শাহরিয়ার রহমানের পৈত্রিক বাড়ি নারায়ণগঞ্জেও আছে আলাদা রকমের মানবিক কার্যক্রম। যেখানে রমজানের প্রতিটি দিন এক হাজার ২০০ দুস্থ মানুষ বিনামূল্যে পাচ্ছে ইফতারি।
ত্রাণধর্মী এই ইফতারি বিতরণ কর্মসূচি দেখতে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বন্দরনগরীর টানবাজারে ভালো সেন্ট্রালে যান ঠিকানা টিভির প্রধান সম্পাদক ও জনপ্রিয় সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীন। এসময় তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্কে যখন দেখি রাস্তায় কেউ একজন বাঙালিদের এনজিও থেকে সাহায্য পেয়ে খুশি হয়ে যাচ্ছে, তখন আমার অনেক গর্ব হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে ভালোর সঙ্গে আছি।’
নিউইয়র্কে বাঙালিদের একটি দাতব্য সংগঠন কাজ করছে, এটি একটি অসামান্য ঘটনা বলে মনে করেন প্রবাসীরা। ভালোর প্রতি মূগ্ধতার কথা জানালেন প্রবাসী ব্যবসায়ী রুহিন হোসেন।
‘ভালো নিউইয়র্কে অনেক কাজ করে। সেভাবেই তাদের সঙ্গে পরিচয়। নারায়ণগঞ্জে রমজান মাসে ভালো সেন্ট্রাল থেকে প্রতিদিন ইফতার বিতরণ করা হচ্ছে, তা দেখে যে কেউ খুশি হবে’- বলেন ঠিকানা ডিজিটালের সহ-উদ্যোক্তা ও রিভারটেলের কর্ণধার রুহিন হোসেন।

টানবাজারের ভালো সেন্ট্রাল থেকে ইফতারি বিতরণ করার কর্মসূচি চলবে ২৫ রোজা পর্যন্ত। দেশে আরো অনেক জনসেবামূলক কাজ চলমান রয়েছে, বলছিলেন ভালোর বাংলাদেশ প্রধান তাজুল ইসলাম রাজীব। তিনি জানালেন, তারা দুস্থ নারীদের গর্ভকালীন সেবার ব্যবস্থা করেন। শিশুদের চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ করেন। এছাড়া দরিদ্র ও দিনমজুরদের জন্য বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত সেলুন ও শৌচাগার নিশ্চিতেও তারা কাজ করে থাকেন।
‘অভাবীদের খাবারের ব্যবস্থা করা, কারো ঘর নির্মাণের খরচ দেওয়া- এ ধরনের কর্মকাণ্ড রয়েছে আমাদের। সামনে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার পরিধি বৃদ্ধিতে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এসব কাজে আমরা সবার সহযোগিতা চাই। সবাই মিলে আমরা এগিয়ে এলে দেশের দুস্থ মানুষরাও সুখী মানুষে পরিণত হবে।’ বলেন তাজুল ইসলাম রাজীব।
এজেড