images

জাতীয়

রাষ্ট্রপতি হবো এটা ভাবতেও পারিনি: সাহাবুদ্দিন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৭:৪৯ পিএম

দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় ছিল তাদের কেউ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। রোববার এই পদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে হঠাৎ করেই জানা যায় দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিনের নাম। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্যকে ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেয় সরকারি দল। এ নিয়ে যখন নানা আলোচনা তখন নতুন রাষ্ট্রপতি জানালেন, রাষ্ট্রপতি হবেন সেটা ভাবেননি। আর এই পদে মনোনয়ন পাওয়ার কথা রোববারের (১২ ফেব্রুয়ারি) আগে জানতেন না।

সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারি টেলিভিশন ‘এখন’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে নতুন রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘রোববার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। তিনি (শেখ হাসিনা) দলের পক্ষ থেকে বিচার বিশ্লেষণ করে আমাকে মনোনীত করেন বলে জানান। তার আগে আমাকে কিছু বলেননি। সিনিয়র নেতাদের কিছু বলেছিলেন কি না আমার জানা নেই। আমি আঁচ করতে পারিনি। আঁচ করার সুযোগও দেননি।’

এক প্রশ্নের জবাবে সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমি মহামান্য রাষ্ট্রপতি হবো টু বি ভ্যারি ফ্রাংক এটা ভাবতে পারিনি।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহাবুদ্দিন বিচারক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পাবনা জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন। এই পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পর তাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বোর্ড অব ডাইরেক্টরসের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান তিনি।

আলোচনার বাইরে থেকে মো. সাহাবুদ্দিনকে বেছে নেওয়ার নেপথ্যের কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আপসহীন, বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং অতীত কর্মজীবনে নিষ্ঠা-সততা-দক্ষতার কারণে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের সম্মুখ সারির এই যোদ্ধাকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

তারা বলছেন, আইন বিষয়ে দক্ষ সাহাবুদ্দিন দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন।

HHH
নতুন রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

দেশের সকল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষকে কীভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিষয় নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে সংবিধানে বিধিবদ্ধ নিয়মের মধ্যে খুবই কম সুযোগ সেখানে আছে- রাষ্ট্রীয় কোনো এক্সিকিউটিভ ওয়ার্কে হস্তক্ষেপ করা। প্রেসিডেন্ট একটা ঐক্যের প্রতীক এবং সেই ঐক্যের প্রতীক হিসেবে প্রেসিডেন্ট তার দায়িত্ব পালন করেন সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে। প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন যেন না হয়। কোনো রকম হস্তক্ষেপ যেন না হয়। প্রশাসন যেন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনে যেন তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে, সেটা একজন রাষ্ট্রপতি সেটা তখন দেখেন। বলতে গেলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে এখনো যারা বলছে অংশগ্রহণ করব না, তাদের তো কোনো অপশন নাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা ছাড়া। তারা যে কেয়ারটেকার সরকারের কথা বলছে, আমাদের সংবিধানের সেটা কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সেটা অলরেডি বাদ পড়ে গেছে। এখন সেই জায়গায় যাওয়ার আর তো কোনো সুযোগ নাই। আমি রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে মনে করি যে উই উইল হ্যাভ টু অ্যাপ্লাই কনস্টিটিউশন।’

নতুন রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এখন আমাদের কাছে সংবিধানের যে রূপ আছে সেই রূপ, সেই আঙ্গিকেই, সেখানে নির্বাচনের চ্যাপ্টারে যা বলা আছে ওইভাবে নির্বাচন হবে। জনগণ সরকারের মালিক, তাহলে কী করতে হবে, জনগণের রায় নিয়ে ক্ষমতায় আসতে হবে। একটিমাত্র জিনিস নিশ্চিত করতে হবে সেটা হলো নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন শঙ্কামুক্ত নির্বাচন, অধিকসংখ্যক ভোটারদের উপস্থিতি, এইগুলা নিশ্চিত করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করা উইথইন দিস কনস্টিটিউশন।’

বিইউ/কারই/জেবি