জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৬ মার্চ ২০২২, ০৪:০৫ পিএম
রাজধানীর বাড্ডায় একটি ফ্ল্যাটে আফরোজা সুলতানা নামে এক নারীকে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। হত্যায় জড়িত সন্দেহে গাড়িচালক হৃদয় বেপারীকে গ্রেফতার করলে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেন তিনি।
পুলিশকে হৃদয় বেপারী জানিয়েছেন, অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হওয়ার পর সংসারে টানাপোড়ন তৈরি হলে আফরোজাকে খুন করে টাকা পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবি গুলশান বিভাগের ডিসি মশিউর রহমান।
গত রোববার বিকেলে আফরোজাকে তার ফ্ল্যাটে গলা কেটে হত্যা করে টাকা পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায় হৃদয় বেপারী। আফরোজা সেভেন সার্কেল বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর হৃদয় বেপারীকে মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ডিএমপি পুলিশ। তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায়। হৃদয় পঞ্চম শ্রেণিতে পর্যন্ত পড়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মশিউর রহমান জানান, গ্রেফতার হৃদয় ২০০৫ সাল থেকে গাড়িচালক হিসেবে কাজ করেন। সর্বশেষ ২০১৫ থেকে সেভেন সার্কেল বাংলাদেশ লিমিটেড, গুলশান-২, ঢাকায় আফরোজা সুলতানা গাড়িচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ায় তার তিন মাসের বাসা ভাড়া বাকি পড়ে যায়। অভাবে পড়ায় চিন্তিত হয়ে পড়ে যান তিনি। এর মধ্যে কিছু টাকা হলে ব্যবসা করার চিন্তা মাথায় আসে হৃদয়ের মাথায়। ব্যবসার টাকা কোথায় পাবেন বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতে থাকেন। আফরোজা সুলতানার কাছে অনেক টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার আছে জেনে একপর্যায়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন হৃদয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী আফরোজাকে খুন করে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ পালিয়ে যায় এই গাড়িচালক।
মশিউর রহমান আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর হৃদয় হত্যাকাণ্ডে তার জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে।
তার দেওয়া তথ্যমতে পাশের নির্মাণাধীন ভবনের খালি জায়গা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া বাসার পাশের বালুর নিচ থেকে চোরাইকৃত স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
এমআইকে/এমআর