Dhaka Mail Logo

জাতীয়

ইসির প্রস্তাবে মন্ত্রণালয়ের গড়িমসি, সরকারের বক্তব্য চান সিইসি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৭:৪১ পিএম

তিনবার চিঠি দিয়েও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) বিধান সংশোধনে দেওয়া প্রস্তাবের অগ্রগতি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানায়নি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ। সবশেষ এ নিয়ে রোববার (২৭ নভেম্বর) আবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ইসির প্রস্তাব উপেক্ষা করার বিষয়েও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল সরকারের বক্তব্য জানতে চেয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে রোববার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘আমরাও তো অনন্তকাল ধরে একটা ম্যাটার (বিষয়) পারসিউ করতে পারব না। এ জন্য আমরা বিষয়টা শেষ করে দিতে চাই। যদি আর কোনো রেসপন্স না হয় আমরা অন্য কাজে মনোনিবেশ করব। এ বিষয়টা নিয়ে হয়তো আমাদেরকে আর পারসিউ করতে হবে না।’

>> আরও পড়ুন: আরপিও সংশোধন প্রস্তাবের অগ্রগতি জানতে মরিয়া ইসি, মিলছে না তথ্য

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে ভোটদানের ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ না মেলায় প্রিসাইংডিং কর্মকর্তার আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে ব্যালট ইউনিট ওপেন করার ব্যবস্থাটি আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় কমিশন। বেশকিছু আইনের সংস্কারের পক্ষেও তারা। তবে এ বিষয়ে প্রস্তাব পাঠানোর সাড়ে তিন মাসেও কমিশনকে কোনোকিছু জানানো হয়নি।

এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেও সিইসির প্রত্যাশা সরকার এ বিষয়ে রেসপন্স করবে। তিনি বলেন, ‘যেহেতু সময় বেঁধে দিয়েছি, আমাদের প্রত্যাশা ওই সময়ের মধ্যেই তারা রেসপন্স নিশ্চয়ই করবেন। সরকারের বিভিন্ন ব্যস্ততা থাকে, ব্যস্ততার কারণে তারা সময় করে উঠতে পারে নাই।’

ECএই চিঠির পর আর অনুরোধ করা হবে না জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘ওই তারিখটা (১৫ ডিসেম্বর) আসুক। কমিশন বসে তখন একটা সিদ্ধান্ত নেব। এটা কি খুব গুরুত্বপূর্ণ কি-না, কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ, তখন আমরা সেটা বিবেচনা করে দেখব।’

গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলেই নির্বাচনি আইনে সংস্কার আনতে চেয়েছেন- গণমাধ্যমকর্মীদের এমন মন্তব্যের জবাবে সিইসি বলেন, ‘সবকিছু তো খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা না। সবকিছুই যে সবসময় অ্যাড্রেস হবে তাও তো না। সরকারের নিশ্চয়ই একটা বক্তব্য আছে, সেটা থাকবে।’

>> আরও পড়ুন: ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সংসদ নির্বাচন: ইসি

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা যেটা প্রত্যাশা করেছি, সরকারের ওই যুক্তি থাকতে পারে যে, এটার প্রয়োজন নাই। এটা অলরেডি অ্যাড্রেস আছে কোথাও। যদি অ্যাড্রেস হয়ে থাকে সেটাও যদি আমরা জানতে পারি, আমাদের আর পারসিউ করার প্রয়োজন পড়ে না। তাদেরও তো একটা যুক্তি থাকতে পারে এই প্রস্তাব নিয়ে। কারণ, অথরিটি তারা। আইন প্রণয়নের অথরিটি সরকার এবং পার্লামেন্ট। তারা যদি মনে করেন না, পর্যাপ্ত আইন রয়ে গেছে, এ বিষয়ে করণীয় কিছু নেই, সেইটুকু আমাদের জানিয়ে দিলে আমরা বিবেচনা করতাম।’

এ সময় আইন সংশোধন না হলে ভোট প্রত্যাশা অনুযায়ী হবে কি-না জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না। আমি পর্যাপ্ত বলেছি।’

বিইউ/আইএইচ