images

জাতীয়

প্রতারণা করে কোটি টাকার পার্ক, বাড়ি ও জমি কিনেছেন হরিদাস

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৮ নভেম্বর ২০২২, ০৩:৫৩ পিএম

তাওহীদ ওরফে শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস। পড়াশুনা করেছেন ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত। ছোটকালে চলে যান ভারতে। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার একটি ছবি এডিট করে ফেসবুক ওয়ালপেপারে সংযুক্ত করেন। সেই ছবিকে পুঁজি করে শুরু হয় তার প্রতারণা। বিভিন্নজনকে সরকারি-চাকরি দেওয়ার নামে বিভিন্ন দফতরে পাঠাতেন ভুয়া ডিও লেটার। কাউকে বদলির সুপারিশ আবার কখনও প্রধানমন্ত্রীর দফতরে কাজ করেন বলেও পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করতেন। 

মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের মিডিয়া বিভাগের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। 

জানা যায়, তাওহীদের প্রতারণা ঘুণাক্ষরে ধরতে পারেনি কেউ। প্রতারণা হাতিয়ে নেন ৫ কোটি টাকা। একপর্যায়ে ২০১৯ সালে ধর্মান্তারিত হওয়ার পর শ্বশুরবাড়ির পরিচয় ব্যবহার করে ময়মনসিংহ এলাকায় তার প্রতারণার ভিত মজবুত করতে থাকেন। প্রতারণার টাকা ও বিভিন্নজনকে শেয়ারে রেখে লাভ দেওয়ার নামেও প্রতারণা করেন তিনি। ৩ কোটি টাকায় গড়ে তোলেন প্যারিস সুইমিংপুল এন্টারটেইনমেন্ট রিসোর্ট। এই রিসোর্টে বিভিন্ন সরকারি উচ্চ পদের কর্মকর্তা ও মন্ত্রী এমপিদের দাওয়াত করতেন। বিনিময়ে তাদের দিতেন নানা সুযোগ সুবিধা। 

এছাড়াও ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকায় নামে-বেনামে অনেক জমি কেনেন। শুধু তাই নয়, একাধিক ব্যাংকে তার নামে বেনামে বিভিন্ন একাউন্টে লেনদেন হয়েছে কোটি কোটি টাকা। তাওহীদ এই প্রতারণার জন্য ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে তুলেছিলেন বড় একটি চক্র। এভাবে মাত্র ৭ বছরে তাওহীদ শুধু প্রতারণা করেই কোটিপতি বনে যান। 

সম্প্রতি একটি সরকারি দফতরে চিঠি পাঠিয়ে বদলির সুপারিশ করতে গিয়ে ধরা খেয়ে যান তিনি। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় মাঠে নামে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। তার বিরুদ্ধে পাওয়া যায় মন্ত্রী এপিএস ও প্রধানমন্ত্রীর স্বজনদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। 

সোমবার (৭ নভেম্বর) রাতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাব যৌথ অভিযানে তাকে ও তার এক সহযোগীকে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। 

গ্রেফতাররা হলেন, হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস ওরফে তাওহীদ (৩৪) ও তার সহযোগী ইমরান মেহেদী হাসান (৩৮)। তাদের কাছ থেকে ৪টি মোবাইল, জালিয়াতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডকুমেন্টস এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিট করা ভুয়া ছবি জব্দ করা হয়। 

তিনি বলেন, তাওহীদ পুরোপুরি একটা প্রতারক। প্রতারণা করে শতশত মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যার প্রমাণও মিলেছে। প্রতারণার ৩ কোটি টাকায় ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় প্যারিস নামে একটি পার্ক বানানো ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে জমি কিনেছেন। সর্বশেষ কয়েকটি একাউন্টে মিলেছে কোটি টাকার লেনদেন। প্রকৃতপক্ষে তার কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মীর সঙ্গে পরিচয় নেই। নেই দলীয় পরিচয়ও। প্রতারণা করে অর্থ উপার্জনই তার মূল লক্ষ্য এবং পেশা।

তিনি জানান, শ্বশুরের মাধ্যমে এলাকার লোকজনের সঙ্গে নিজেকে একজন বিত্তশালী লোক হিসেবে পরিচিত দিতেন। পাশাপাশি এটাও প্রচার করতে থাকেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার। মাঝে মাঝে এলাকায় গিয়ে স্থানীয় রাজনীতিবিদ, গণ্যমান্য বিত্তশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচিত হতেন। প্রতারণায় প্রলুব্ধ হয়ে অনেকেই চাকরি, বদলি ও টেন্ডারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তদবীরের জন্য তার সহায়তা চাইতেন। 

এমআইকে/এইউ