images

জাতীয়

কৌশলে ইলেকট্রনিক পণ্য হাতিয়ে নিতেন তারা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৮ অক্টোবর ২০২২, ০৭:০৭ পিএম

সম্প্রতি ওয়ালটন কোম্পানির কিছু ইলেকট্রনিক পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার সময় কাভার্ডভ্যান থেকে একটি চক্র সেগুলো কৌশলে হাতিয়ে নেয়। পরে ওই ঘটনায় মামলা হলে তদন্তে নামে পুলিশ। তবে কিছুতেই যেন কোনো তথ্য মিলছিল না। তবে অবশেষে এই প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে তেজগাঁও থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক।

এর আগে সোমবার (১৭ অক্টোবর) রাতে মারুফ হোসেন সোহাগ (৪২), মহসিন (৫০) ও অসীম (৪৩) নামে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। ওই সময় তাদের কাছ থেকে অভিনব কায়দায় হাতিয়ে নেওয়া ১০টি ওয়াশিং মেশিন ছাড়াও তিনটি ফ্রিজ জব্দ করেছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক জানান, ওয়ালটনের পণ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি গত ১৩ অক্টোবর আদাবর থানায় একটি মামলা করেন। পরে ওই ঘটনায় ১৯টি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রতারক চক্রের হোতা মারুফ হোসেন সোহাগকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তার দেওয়া তথ্যে চক্রের আরও দুই সদস্য মহসিন ও অসীমকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সঙ্গে কৌশলে হাতিয়ে নেওয়ার পর বিক্রি করা ১০টি ওয়াশিং মেশিনসহ তিনটি ফ্রিজ রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আগারগাঁও, রামপুরা, মিরপুর, সবুজবাগ, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা থেকে জব্দ করা হয়।

আজিমুল হক বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় এমন অপরাধ করে আসছে। প্রথমেই চক্রের সদস্যরা ওয়ালটন ইলেকট্রনিকস পণ্যকে টার্গেট করে পণ্য পরিবহনের সঙ্গে জড়িত চালকদের অনুসরণ করে। এরপর যে এলাকায় পণ্য সরবরাহের কথা সেখানে চক্রের সদস্যরা আগে থেকেই অবস্থান নেন। পরে পণ্যবাহী গাড়িটি নির্ধারিত জায়গায় পৌঁছানোর আগেই চক্রের সদস্যরা পরিকল্পনা অনুযায়ী সুবিধাজনক স্থানে চালককে থামিয়ে নিজেদের ডিস্ট্রিবিউটর বা প্রতিষ্ঠানের লোক পরিচয় দেন। পরে চালককে বলেন- যেখানে পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার কথা সেখানে জায়গা কম। এরপর কৌশলে কিছু মালামাল নামিয়ে নিয়ে বাকি মালামাল গোডাউনে নিয়ে যাওয়ার সময় সটকে পড়তেন চক্রের সদস্যরা।

গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, এমন প্রতারণার মাধ্যমে গ্রেফতাররা গত এক বছরে ১৬টি অপরাধ সংগঠনের কথা স্বীকার করেছে। এরমধ্যে গত ১৬ অক্টোবরও মিরপুরের কাজীপাড়া এলাকা থেকে একই কায়দায় ডিস্ট্রিবিউটর পরিচয় দিয়ে চক্রটি ওয়ালটনের তিনটি ফ্রিজ হাতিয়ে নেয়। ওই ঘটনায় ফ্রিজের মালিক বাদী হয়ে মিরপুর থানায় অভিযোগ দায়েরও করেছেন যা মামলা হিসেবে প্রক্রিয়াধীন।

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি আজিমুল বলেন, এই অপরাধের সঙ্গে ওয়ালটনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যাদের কাছ থেকে পণ্য ডেলিভারি সংক্রান্ত তথ্য অপরাধীরা সংগ্রহ করে থাকে। এই চক্রের আরও বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

যেভাবে প্রতারণা করা হতো:

মো. আব্দুর রাজ্জাক খান ‘কসমো ট্রান্সপোর্ট’ এজেন্সি নামে একটি পরিবহন ব্যবসা চালান। তিনি ওয়ালটনের তালিকাভুক্ত পরিবহন ঠিকাদার। গত ৯ অক্টোবর গাজীপুর জেলার চন্দ্রার ওয়ালটনের ফ্যাক্টরি থেকে এজেন্সির কাভার্ডভ্যানে ৩০টি ওয়াশিং মেশিন নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিলেন। তবে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আদাবর থানার শাহাবুদ্দিন প্লাজার সামনে পৌঁছালে প্রতারক চক্রের দুইজন কাভার্ডভ্যানটির গতিরোধ করে।

ওই সময় তারা কাভার্ডভ্যান চালককে বলেন, গাড়িটিতে ওয়ালটনের মালামাল আছে কি-না। জবাবে চালক হ্যাঁ বললে প্রতারক চক্রের সদস্যরা জানান- আপনার সঙ্গে মোবাইলে যার কথা হয়েছে তিনিই আমাদের মালামালগুলো নেওয়ার জন্য পাঠিয়েছেন। আমাদের গোডাউনে জায়গা না থাকায় এখানে ১০টি মাল নামিয়ে রাখতে বলেছেন। পরে গাড়িচালক সরল মনে শাহাবুদ্দিন প্লাজার সামনে ১০টি ওয়াশিং মেশিন চক্রের কাছে দিয়ে দেন। এরপর বাকি মালামালগুলো গোডাউনের পেছনে আনলোড করার কথা বলে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন প্রতারক চক্রের সদস্যরা। পরে ওই ঘটনায় মামলা করেন ভুক্তভোগী মো. আব্দুর রাজ্জাক খান।

এমআইকে/আইএইচ