জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৩ অক্টোবর ২০২২, ০৭:০০ পিএম
এক উপনির্বাচনের অনিয়ম থামাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত পুরো ভোট বন্ধ করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বলা হচ্ছে, একযোগে ৩০০ আসনে জাতীয় নির্বাচন হলে কীভাবে সামাল দেবে ইসি!
তবে, এ নিয়ে হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ‘ওটা সময় বলে দেবে। কোনোকিছু নিয়ে আমরা হতাশ হবো না।’
বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে গাইবান্ধা-৫ আসনের গতকালের (বুধবার) ভোট মাঝপথে বন্ধ করা নিয়ে বিতর্কের বিষয়টি পরিষ্কার করতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সিইসি।
গাইবান্ধার উপনির্বাচনে কেমন অনিয়ম হয়েছিল, ইসি কীভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে, কোন পরিস্থিতিতে, কীভাবে ভোট বন্ধ করা হয়েছে- এসবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন সিইসি।
গাইবান্ধা-৫ আসনে ৫০টি কেন্দ্রের ফুটেজ দেখার সময় পেয়েছে নির্বাচন কমিশন, বাকিগুলো দেখার সময় পায়নি। যখন আরও বড় আকারে নির্বাচন হবে তখন কীভাবে দেখার সময় হবে- গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘আমরা কোনোকিছু নিয়ে হতাশ হবো না। আমাদের সদিচ্ছা, প্রয়াস থাকবে। একটা দিয়ে সবগুলো মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।’
যারা দায়িত্বে অবহেলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কেন হয়েছে, কী কারণে হয়েছে কিছুই আমরা বলতে পারবো না।’
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে হয়তো জনমনে কিছু বিভ্রান্তি থাকতে পারে। আমরা টকশোতে শুনেছি কেউ আনন্দিত হয়েছে, কেউ ব্যথিত হয়েছে, কেউ প্রতিবাদ করেছেন, কেউ সমবেদনা জানিয়েছেন। আমাদের মনে হয়েছে, এতে করে কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। সেই বিভ্রান্তি অবলোপনের জন্য কিছু ব্যাখ্যা আমাদের দেওয়া দরকার।’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঢাকায় বসে সিসিটিভি দেখে ভোট বন্ধ করে দেওয়া কতটা যৌক্তিক- এ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘আগেই বলেছি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমাদের সঙ্গে বসে প্রত্যক্ষ করতে পারতেন। অনেকের বক্তব্য শুনেছি, এটা কী করে সম্ভব হলো অফিসে বসে এতগুলো কেন্দ্র দেখা। সিসিটিভি দেখে রাস্তার নিয়ন্ত্রণও বিভিন্ন দেশে করা হয়। সিস্টেমটাকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে একটা জায়গায় বসে ২০০, ৪০০ জায়গার ফ্যাক্টস সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায়। আমরা মনে করি, এটা জুতসই একটা প্রযুক্তি।’
ঢাকায় বসে আপনারা এভাবে কেন্দ্র বন্ধ করতে পারেন কি না- এমন প্রশ্ন করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। এর জবাবে সিইসি বলেন, ‘আইনের ৯১ ধারায় বলেছে, আমরা যদি মনে করি, কী দিয়ে মনে করলাম, ঢাকায় বসে মনে করবো, না কুমিল্লায় বসে করবো, না চট্টগ্রামে বসে করবো বা আমরা জাহাজে বসে মনে করতে পারি, তা নয়; আমাদের কাছে যদি অনুমিত হয়, নির্বাচনটা সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না, তাহলে নির্বাচন কমিশন যে কোনো কেন্দ্রের বা সব কেন্দ্রের নির্বাচন বন্ধ করে দিতে পারে।’
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সমার্থক নয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারও একজন কমিশনার। একাধিক সদস্য নিয়ে এই কমিশন গঠিত হয়, একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার হন এবং তিনি এ সংস্থার চেয়ারম্যান হন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কোনো সিদ্ধান্তে এককভাবে গ্রহণ করেন না বা করতে পারেন না।’ এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এ জন্যই আপনাদের মাধ্যমে, আমরা বলতে চাই যে- আমরা কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নিই নাই। সকলকে বুঝতে হবে, এটা কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা নিগূঢ়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে তারপরে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এ দিন সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান, রাশেদা সুলতানা ও মো. আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। তবে কমিশনার আনিছুর রহমান এতে অংশ নেননি।
বিইউ/আইএইচ