তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে ভুল হলে রাষ্ট্রের পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও তা থেকে জ্ঞান তৈরি করে নীতিনির্ধারণের কাজে ব্যবহারের পুরো প্রক্রিয়ায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি।
রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মিলনায়তনে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তথ্য সংগ্রহ, তার ব্যাখ্যা, বিন্যাস এবং সেখান থেকে জ্ঞান তৈরি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এই জ্ঞানকে নীতিনির্ধারণের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করতে হয়। পরে সেই নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। পুরো প্রক্রিয়াটি বৈজ্ঞানিক ও সুশৃঙ্খল না হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের প্রক্রিয়া বোঝাতে তিনি ওষুধ কোম্পানি, চিকিৎসক ও রোগনির্ণয়ের প্রতিবেদনের একটি উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে চিকিৎসকদের যোগসাজশে নির্দিষ্ট ওষুধ দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। পরে রোগনির্ণয়ের প্রতিবেদনও সেই ব্যবস্থাপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা হয়। ফলে রোগীর প্রকৃত অবস্থা প্রতিবেদনে উঠে আসে না। আগের সরকারের সময়ে তথ্য সংগ্রহ ও ব্যাখ্যার প্রক্রিয়াও একইভাবে প্রভাবিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বপন বলেন, তথ্যের প্রকৃত অবস্থা আড়াল করে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যাখ্যা তৈরি করা হলে সেই তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্তও সঠিক হবে না। রাষ্ট্র পরিচালনায় তথ্যকে নির্ভরযোগ্য উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিশ্লেষণ ও ব্যবহারের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী বা ভূখণ্ডের মতো প্রচলিত উপাদানের পাশাপাশি তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যবস্থার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের বাস্তব অবস্থা বোঝা, সমস্যা চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব। এ কারণে তথ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও পরিকল্পিত ও কার্যকর করা প্রয়োজন।
নতুন সরকারের ভিশন ২০৪১ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগে তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারের এই প্রক্রিয়াকে আরও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ বিষয়ে পরিসংখ্যান বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. শামীমুল হক। বিবিএসের আধুনিকায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উপস্থাপনা করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক কবির উদ্দিন আহমদ।
আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পরিসংখ্যান ও উপাত্তবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. সৈয়দ শাহাদাত হোসেন। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক। অনুষ্ঠানে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এএইচ/এআর