নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম
ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজ (আইসিএপিপি) সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও ঘোষণার বাস্তবায়নে সদস্য রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ উদ্দ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। ঐক্যবদ্ধ থাকার মাধ্যমে এশিয়ায় শান্তি, গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় আইসিএপিপি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে সিউলের হোটেল শিলার ডাইনেস্টি হলে অনুষ্ঠিত আইসিএপিপির সম্মেলনের শেষ দিনের পঞ্চম ও সর্বশেষ প্ল্যানারি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। এসময় অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, তাকে ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করা এবং সম্মেলনের শেষ প্ল্যানারি সেশনে সভাপতিত্বের দায়িত্ব দেওয়া শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের প্রতি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সঙ্গে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার প্রতিফলন।
তিনি সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের গঠনমূলক বক্তব্য, মূল্যবান মতামত ও প্রস্তাবের প্রশংসা করেন। তিনি আরও বলেন, সম্মেলনের ঘোষণাপত্র প্রণয়ন ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা, সহযোগিতা এবং ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার মানসিকতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এর মধ্য দিয়ে এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, গণতন্ত্র, শান্তি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের অভিন্ন অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে।
‘সিউল ঘোষণা’য় এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, রূপান্তরিত বিশ্বে আস্থা পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, দায়িত্বশীল জাতীয় নেতৃত্ব, আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক বিভাজন অতিক্রম করে অব্যাহত সংলাপ ও সহযোগিতা অপরিহার্য। ঘোষণায় আরও বলা হয়, এশিয়ার দেশসমূহের সরকার, সংসদ ও নাগরিকদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা এ ধরনের আস্থা গড়ে তুলতে আমাদের বিশেষ দায়িত্ব স্বীকার করছি।
এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও দৃষ্টিভঙ্গির দলগুলোর মধ্যে সংলাপের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আইসিএপিপির ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে এশিয়া ও সমগ্র বিশ্বের জন্য আরও শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল, ন্যায়সংগত, টেকসই ও মানবকেন্দ্রিক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা জোরদারের সংকল্প ব্যক্ত করা হয়।
সম্মেলনের সমাপনী দিনে বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আইসিএপিপির চেয়ারম্যান চুং জং-সেক, মহাসচিব ওহ সং, ভাইস চেয়ারম্যান মুশাহিদ সাঈদ এবং সম্মেলনের যৌথ আয়োজক দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাসীন মিনজু (ডেমোক্রেটিক) পার্টির প্রধান কিম মিন-সক ও বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টির প্রধান জাং ডং-হিয়ককে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করেন। এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর বৃহৎ এই সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন করায় বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় তাদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়া হয়।
সম্মেলনের এই শেষ প্ল্যানারি সেশনে বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন দেশের ১৯ জন রাজনৈতিক প্রতিনিধি বক্তব্য দেন।
এর আগে, আজ অনুষ্ঠিত সম্মেলনের আরও দুটি প্ল্যানারি সেশনে ৩১ জন রাজনৈতিক প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইমতিয়াজ আহমেদ সজল এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মমতাজ উদ্দিন।
দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাসীন মিনজু (ডেমোক্রেটিক) পার্টি ও বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত আইসিএপিপির ১৩তম সাধারণ অধিবেশনে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক সংলাপ, পারস্পরিক আস্থা এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এসএইচ/এসআই