Dhaka Mail Logo

জাতীয়

তাহসিফ হত্যা: রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন বান্ধবী দিশা

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম

বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন তার বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশা। ঘটনার আগে তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত, রেস্টুরেন্টে অবস্থান এবং তাদের যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন তিনি। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্যের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

দুই দফা রিমান্ড শেষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর ফিরোজ উদ্দিন দুই দফা রিমান্ড শেষে দিশাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামির পক্ষে জামিন আবেদন ছিল না।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনে দিশাকে বিভিন্ন কৌশলে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ঘটনার আগের দিন ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফ সাউরির সঙ্গে উত্তরা ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ যান। এর আগে সন্ধ্যায় একাধিকবার ‘সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস’ খান। এ ছাড়া মোটরসাইকেল গ্যারেজেও তারা একসঙ্গে যান। বিভিন্ন জায়গায় তাহসিফের মোটরসাইকেলে ঘোরাঘুরি করার কথাও জানান দিশা।

আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, মামলার ঘটনা সম্পর্কে দিশা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে তিনি অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় একাধিক প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং নীরবতা পালন করেছেন।

মামলার তদন্তে সন্দিগ্ধ আরেক ব্যক্তি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে দিশার বক্তব্যও মিলিয়ে দেখা হয়েছে। বর্তমানে দীপ পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন। এ ছাড়া তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে দিশার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, প্রাথমিক তদন্তে মামলার ঘটনায় দিশার জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা জরুরি। জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পলাতক হয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন। মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনে তাকে আবারও পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

এর আগে গত শনিবার কাফরুল এলাকা থেকে দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন রোববার আদালত তার প্রথম দফায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে গত বুধবার দ্বিতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, দীপকে গত শনিবার প্রথম দফায় চার দিন, গত মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় তিন দিন এবং গত বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড দেন আদালত।

গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। এর আগের দিন ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ‘দীপের ডাকে’ বাসার নিচে নেমে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন তিনি।

এআর