নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
রাজধানীর যানজট কমাতে এবং গণপরিবহন ব্যবস্থার পরিসর বাড়াতে ২০৩০ সালের মধ্যে দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে। এখন চলছে প্রস্তাবিত রুটগুলোর বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ। প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত পাঁচটি রুটের মধ্যে কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে দুটি রুট।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসকে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত মনোরেল ব্যবস্থা রাজধানীর গণপরিবহন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও দক্ষ পরিবহনব্যবস্থা হিসেবে যাত্রীদের চলাচল সহজ করবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় যাত্রীদের চাহিদা বেশি, সেখানে এ ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত মনোরেল রুটগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন মেট্রোরেলসহ অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থার সংযোগ স্থাপনের সুযোগ রাখা হবে। বিশেষ করে মেট্রোরেল থেকে নেমে যাত্রীদের গন্তব্যের শেষ অংশে যাতায়াত সহজ করতে এসব সংযোগ সহায়ক হবে।
ডিটিসিএ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন (বিআরটিসি) ইতোমধ্যে মনোরেল রুটের প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে। এখন বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ নকশা জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ লক্ষ্যে ডিটিসিএ ‘কনসালট্যান্সি সার্ভিস ফর প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি অব মনোরেল অ্যালাইনমেন্ট ইন্টিগ্রেশন উইথ মাস ট্রানজিট নেটওয়ার্কস ইন ঢাকা মেট্রোপলিটন রিজিয়ন’ শীর্ষক পরামর্শক চুক্তি করেছে। প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও দুটি প্রস্তাবিত রুটের বিস্তারিত নকশা প্রণয়নে সরকার রাজস্ব বাজেট থেকে ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, হালনাগাদ সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (আরএসটিপি) প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাঁচটি মনোরেল রুটের প্রস্তাব রয়েছে। এসব রুটের মধ্যে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত একটি রুট আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন এবং পুরো সমীক্ষা ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত পাঁচটি রুট হলো—পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি হয়ে বিমানবন্দর-বসুন্ধরা ২৫ দশমিক ২ কিলোমিটার, মধ্য বাড্ডা-ভুলতা ১৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার, রামপুরা-ডেমরা ১০ দশমিক ৩ কিলোমিটার, মোহাম্মদপুর-পোস্তগোলা ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার এবং উত্তরা সেন্টার হয়ে বিমানবন্দর-সাভার ১৭ দশমিক ৬ কিলোমিটার।
এ ছাড়া পরিকল্পনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে কামরাঙ্গীরচর পর্যন্ত ৯টি স্টেশনসহ মনোরেল-৮, আলুব্দী থেকে পশ্চিম আগারগাঁও অথবা শ্যামলী পর্যন্ত ১০টি স্টেশনসহ মনোরেল-১০ এবং পল্টন থেকে সদরঘাট অথবা ঝিলমিল পর্যন্ত ৬ বা ১১টি স্টেশনসহ মনোরেল-১৩-এর প্রস্তাবও রয়েছে।
আরও পড়ুন
৬৪ জেলায় রেল সংযোগে বদলাবে যোগাযোগের মানচিত্র
জমি জটিলতায় ঝুলছে উন্নয়ন, কৌশল বদলাচ্ছে রেলওয়ে
ডিটিসিএ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলের মডেলভিত্তিক সমীক্ষার মাধ্যমে যাত্রী চাহিদা নিরূপণ করেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের জন্য বুয়েটের পরামর্শকদের দেওয়া হয়েছে। প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় মহানগর এলাকার জনসংখ্যা, সম্ভাব্য স্টেশনগুলোর যাত্রী আকর্ষণের পরিধি, গণপরিবহন সেবার অপ্রাপ্যতা, যানজটপূর্ণ এলাকা, ডিপো নির্মাণের জন্য জমির প্রাপ্যতা এবং ভবিষ্যতে রুট সম্প্রসারণের সুযোগ পর্যালোচনা করা হয়েছে।
বুয়েটের এক পরামর্শক বাসসকে বলেন, প্রস্তাবিত মনোরেল ব্যবস্থা রাজধানীতে সমন্বিত, দক্ষ ও টেকসই গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। বিস্তারিত সমীক্ষায় রুটের অবস্থান, সম্ভাব্য স্টেশন ও ডিপোর স্থান, যাত্রী চাহিদা, কারিগরি ও কাঠামোগত উপযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা এবং পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে। এ কাজে দেশীয় ও প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
মনোরেল মূলত উড়াল কাঠামোর ওপর দিয়ে চলাচলকারী বিশেষ ধরনের রেলব্যবস্থা। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে সড়কের জায়গা সীমিত এবং প্রচলিত গণপরিবহনের অবকাঠামো নির্মাণে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকায় এ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা যাচাই করছে ডিটিসিএ।
সমীক্ষায় নির্মাণ ব্যয়, যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা, পরিচালন ব্যয় এবং প্রকল্পের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক যৌক্তিকতাও মূল্যায়ন করা হবে। এসব মূল্যায়নের পরই চূড়ান্ত দুটি রুট নির্বাচন করা হবে।
রাজধানীর যানজট নিরসন ও নগর পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যেও ঢাকায় মনোরেল চালুর পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সূত্র: বাসস
জেবি