নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
‘দক্ষ ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, উন্নত দেশ সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ৫৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও গণপ্রকৌশল দিবস-২০২৬ পালনের উদ্যোগ নিয়েছে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ঢাকার কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনটির নেতারা জানান, একটি দেশের উন্নয়নের পরিকল্পনা যতই উন্নত হোক না কেন, তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি। পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া, প্রযুক্তিকে উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত করা, অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, শিল্পকারখানার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষির আধুনিকায়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণে দক্ষ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জাতীয় উন্নয়নে দক্ষ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অবদান, কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের গুরুত্বারোপ করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ১৭ নভেম্বর শুভেচ্ছা কার্ড বিতরণ, ৮ নভেম্বর সকাল ১১টায় আইডিইবি ভবনে প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র্যালির উদ্বোধন করবেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী প্রফেসর এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এছাড়া, এদিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান প্রচারিত হবে। ৯ নভেম্বর বিকেল ৩টায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রি এন্ড এন্ডোডন্টিকস বিভাগের চেয়ারম্যান ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। এদিন বিকেল ৫টায় পারিবারিক মিলনমেলা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, ৮-১৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের সব জেলা শাখা কার্যালয় থেকে বিনামূল্যে প্রযুক্তি পরামর্শ প্রদান করা হবে।।
সংবাদ সম্মেলনে আইডিইবি নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৭০ সালের ৮ নভেম্বর প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইডিইবি কারিগরি শিক্ষার প্রসার, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে। সংগঠনটি মনে করে, টেকসই জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আধুনিক ও কর্মমুখী কারিগরি শিক্ষা, শিল্প-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং দক্ষ জনশক্তির যথাযথ মূল্যায়ন অপরিহার্য।
আইডিইবি মনে করে, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডিপ্লোমা প্রকৌশল শিক্ষাকে আধুনিক, ব্যবহারিক ও কর্মবাজারের চাহিদাভিত্তিক করতে হবে। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পে গুণগত মান, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পেশাগত সততা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আইডিইবি'র নেতৃবৃন্দ বলেন, দক্ষতা, সততা, দেশপ্রেম ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এবারের প্রতিপাদ্যের মূল লক্ষ্য। তাঁরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও গণপ্রকৌশল দিবসের কর্মসূচি সফল করতে গণমাধ্যমসহ সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন আইডিইবির আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. কবীর হোসেন। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সদস্য সচিব প্রকৌশলী কাজী সাখাওয়াত হোসেন। অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক (হেডকোয়ার্টার) বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী মো. মুসলিম উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক (ঢাকা) প্রকৌশলী মো. হানিফ, যুগ্ম আহ্বায়ক (ফরিদপুর) প্রকৌশলী মো. ইমাম উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক (চট্টগ্রাম) মীর হোসেন পাটোয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক (ময়মনসিংহ) প্রকৌশলী আবেদুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক (রংপুর) প্রকৌশলী মো. সেলিমুর রহমান, সদস্য (সাংগঠনিক) প্রকৌশলী মো. জসিম সিকদার রানা, সদস্য (অর্থ) প্রকৌশলী মো. শাহাদাত জামিল চৌধুরী, সদস্য (দপ্তর) মো. ওবাইদুর রহমান, সদস্য (জনসংযোগ ও প্রচার) প্রকৌশলী তৈয়ব আলী মুকুল, সদস্য (সহ-দপ্তর) প্রকৌশলী রাসেদুল হাসান প্রমুখ।
এমএইচ/এএস